২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পূজামণ্ডপগুলোয় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

পূজামণ্ডপগুলোয় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়
  • আজ প্রতিমা বিসর্জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অশ্রুসজল নয়নে ভক্তবৃন্দ আজ শুক্রবার বিসর্জন দেবেন দুর্গতিনাশিনী মহাশক্তি দেবীর প্রতিমা। বৃহস্পতিবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী ও দশমী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। পূজামণ্ডপে ছিল কেবলই বিষাদের ছায়া। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় দেবীর মহানবমী ও দশমীর বিহিত পূজা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দুর্গাপূজা উপলক্ষে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের চেতনা সমুন্নত রেখে জাতীয় উন্নয়নের জন্য সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং সকল ধর্মের লোক শান্তিপূর্ণভাবে ও সাড়ম্বরে স্ব স্ব ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক কর্মসূচী পালন করছেন। রাষ্ট্রপতি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এবং তারা আবহমানকাল ধরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করছেন। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ও অন্যান্য উৎসব জনগণের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের বৈশিষ্ট্য হলো ঐক্য ও ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাঙালী জাতি অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের গৌরবোজ্জ্বল অংশ।

সকল ধর্মের প্রধান বার্তা জনগণের কল্যাণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দুর্গাপূজা সকল ধর্মবর্ণ ও গোত্রের জন্য সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বয়ে আনবে।

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ ও বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত হরি কুমার শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবমী ও দশমীর বিহিত পূজা। বিসর্জন দেয়া হয়েছে দর্পণও। এদিন সকাল ৭ টা ৩৩ মিনিটে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। ৯ টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় দশমীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জন। সধবা হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা খেলেছেন সিঁদুর খেলা। পরে মন্দিরের মেলাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী। আজ বিকেল ৩টায় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিজয়ার শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, স্বামীবাগসহ বিভিন্ন ম-পেও দেয়া হয় দর্পণ ঘট বিসর্জন। বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ কামনায় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সের ভক্ত নিবিষ্ট মনে প্রার্থনা করেন।

তবে রামকৃষ্ণ মিশনে গতকাল মহানবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানবমী পূজা শুরু হয় ৬ টা ৩০ মিনিটে। আজ শুক্রবার সকাল ৭ টায় দশমী পূজা আরম্ভ হবে। ৮ টা ৫২ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হবে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন। পরে প্রতিমা বিসর্জন এবং ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করবেন।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে এসেছেন নৌকায় চড়ে। আর দেবী স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে।

মহানবমীতে রাজধানী ঢাকার পূজাম-পগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে নগরীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার এলাকায় ভিড় ছিল অনেক। নতুন জামা-কাপড় পরে দলবেঁধে ঘুরে বেড়িয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। মানুষের ভিড়ে মণ্ডপগুলো যেন পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। প্রতিটি মণ্ডপেই কয়েক দফা করে পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়।

আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ থেকে বিকেল ৩ টায় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। এ শোভাযাত্রাসহ প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হবে ওয়াইজঘাট। সেখানে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারী টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। তাছাড়া জাতীয় দৈনিকগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

স্পীকারের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ॥ জাতীয় সংসদের স্পীকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়তে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার বনানী পূজামণ্ডপে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব ২০১৫ এর শুভ মহানবমী, বোধন ও দেবীর আবাহন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সকলের সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান আর সাম্যের ভিত্তিতে যে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোন সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি দ্বারা যেন বিনষ্ট না হয় সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সকল উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক সম্প্রীতি, মৈত্রী, সৃজনশীল ও মানবিক কল্যাণে সকলকে নিবেদিত হতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু কুমার দাস বক্তব্য রাখেন।