২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিচারপতি মানিকের ওপর লন্ডনে ফের হামলা

  • কন্যার মতে হামলাকারীরা বিএনপির লোক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লন্ডনে ফের হামলার শিকার হয়েছেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নেমে বাড়িতে যাওয়ার আগে বেথনাল গ্রীনের ইয়র্ক হলে দুর্গাপূজার একটি ম-পে যান শামসুদ্দিন চৌধুরী। সেখান থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে কয়েক যুবক তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিচারপতির মেয়ে নাদিয়া চৌধুরী তার সঙ্গে ছিলেন। তার ধারণা, ‘বিএনপির লোকেরাই’ তার বাবার ওপর এ হামলা চালিয়েছে। এর আগে ২০১২ সালের ২৭ জুন লন্ডনে অজ্ঞাত পরিচয় দুই বাঙালী যুবক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর ওপর হামলা চালিয়েছিল।

বুধবার হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হামলা ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুকে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন শামসুদ্দিন চৌধুরীর মেয়ে নাদিয়া। তিনি লিখেছেন, হঠাৎ একজন তার বাবার কাছে এসে জানতে চান তিনিই শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কিনা। জবাব না পেয়ে এর পর সে মারধর শুরু করে। নাদিয়া তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, হঠাৎ টের পেলাম এক লোক বাবার গা ঘেঁষে হাঁটা শুরু করল, অন্য একজনকে বলল- ‘এই লোকই কি সে?’ তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমি পেছন থেকে বাবাকে আড়াল করার চেষ্টা করলাম। সে তখন বাবার সামনে চলে গেল, জিজ্ঞেস করল- আপনি কি জাস্টিস শামসুদ্দিন চৌধুরী? জবাব না দিয়ে বাবা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আরও কয়েকজন আমাদের দিকে এগিয়ে এলো এবং এরপর বাবাকে মারতে শুরু করল। নাদিয়া লিখেছেন, এক পর্যায়ে বাবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। আমি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের লাথি আর ঘুষিতে এক পর্যায়ে রাস্তায় পড়ে যান বাবা। নাদিয়া আরও লিখেছেন, প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে আমরা দুজন সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি।

হামলাকারীদের পরিচয়ের বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিনের মেয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, এই গাট্টাগোট্টা বখাটেরা আমার বাবাকে চেনে না। কোন সন্দেহ নেই, বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্দেশনা পেয়েই তারা এসেছে। স্ট্যাটাসের শুরুতেই তিনি লিখেছেন, লন্ডনে নেমেই আমরা হামলার শিকার হলাম, যে শহরে আরামে বসবাস করছেন তারেক জিয়া, তার মা বিএনপি প্রধানও এখন এই শহরেই অবস্থান করছেন।

হামলার ঘটনার পর পরই দৌড়ে ইয়র্ক হলে ফিরে আসেন বিচারপতি শামসুদ্দিন। এ সময় তাকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জনকণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন বাংলাদেশের এই সাবেক বিচারক। এ সময় তিনি নিজের বিস্তারিত পরিচয় পুলিশের সামনে তুলে ধরেন। ওই সাংবাদিক জানান, স্কটল্যান্ডইয়ার্ডে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন হামলার বিষয়টি তারা জানেন এবং একটি ফোন চুরির বিষয়েও তারা শুনেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

২০০১ সালের ৩ জুলাই বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পাওয়া এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী গত সেপ্টেম্বরে আপীল বিভাগের বিচারক হিসেবে অবসরে যান। এর কয়েকদিন আগেই প্রধান বিচারপতির অভিশংসন চেয়ে রাষ্ট্রপতির বরাবরে একটি চিঠি পাঠান বিচারপতি শামসুদ্দিন, যা গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে।