২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যৌতুকের জন্য প্রতিবন্ধীসহ দুই গৃহবধূকে বেঁধে নির্যাতন

নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২২ অক্টোবর ॥ রূপগঞ্জে যৌতুকের টাকা না দেয়ায় স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন পৃথক স্থানে এক প্রতিবন্ধী গৃহবধূসহ দুই গৃহবধূকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার কেয়ারিয়া ও রূপসী কাহিনা এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই দুই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ লামিয়া আক্তার লোজা (১৮) রাজধানীর ডেমরা থানার আমুলিয়া এলাকার মহিউদ্দিনের মেয়ে ও সুমি আক্তার উপজেলার বাগবেড় এলাকার শুক্কুল আলী ভুইয়ার মেয়ে।

লামিয়া আক্তার লোজার মা আফরোজা শাহীন জানান, তার মেয়ে প্রতিবন্ধী। কথা বলতে পারে না (বোবা)। ৬ মাস আগে লামিয়া আক্তারকে রূপসী কাহিনা এলাকার সিরাজ পাঠানের ছেলে মলিন পাঠানের কাছে বিয়ে দেন। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে নগদ ২ লাখ টাকা, টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ যাবতীয় আসবাবপত্র দেয়া হয়। জামাতা মলিন পাঠান ইয়াবাসেবী। নেশার টাকার জন্য মেয়েকে প্রায়ই মারধরসহ নির্যাতন করত। বুধবার সকালে জামাতাসহ মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফের ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে প্রতিবন্ধী লামিয়া আক্তারকে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়। মেয়ের ওপর নির্যাতনের খবর পেয়ে মা আফরোজা শাহীন এসে প্রতিবাদ করলে তাকেও গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

নির্যাতনের শিকার অপর গৃহবধূ সুমি আক্তারের মা মাজেদা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার মেয়ে সুমি আক্তারকে কেয়ারিয়া এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মাসুদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ আসবাবপত্র দেয়া হয়। এক বছর পর মিসরে যাওয়ার জন্য আরও ২ লাখ টাকা দেয়া হয়। বিদেশে যাওয়ার পর জামাতা আর বাড়ি ফেরেনি। মিসরেই তিনি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্বামীর অপেক্ষায় এখনও প্রহর গুনছেন সুমি আক্তার। বেশ কয়েকদিন ধরে শ্বশুর জহির উদ্দিন, শাশুরী মাসুদা, দেবর সজীব, রাশিদুল, মনুসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন সুমি আক্তারের কাছে থাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ জমানো টাকা-পয়সা জোর করে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে সুমি আক্তারকে বেঁধে রেখে রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পুলিশের সহযোগিতায় সুমি আক্তার উদ্ধার পায়। পৃথক ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই দুই গৃহবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেছেন, পৃথক ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক ও মামলার প্রস্তুতি চলছে।