১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দু’দিনের সফর শেষ আজ উন্নয়ন অগ্রগতি দেখতে ১১ সচিবসহ ৫৩ শীর্ষ কর্মকর্তা বাগেরহাটে

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় ১৩ মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ১১ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণারয়ের ৫৩ শীর্ষ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার থেকে দু’দিনের সফর শুরু করেছেন। সকাল থেকে মংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌরুটের চ্যানেল ড্রেজিং, রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প, খানজাহান (র) বিমানবন্দর, মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, খুলনা-মংলা রেললাইন, বেপজা, ইপিজেড, সাইলো, বেজা, ২৫০ শয্যা বাগেরহাট হাসপাতাল, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ, বিশ্বঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনে পর্যটনশিল্পের বিকাশসহ এ জেলার বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন এবং পর্যালোচনা করছেন। প্রথমবারের মতো কোন সরকারের বিশাল বহরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলাব্যাপী ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দ্রুত জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে এ জেলার বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন এবং পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার জন্য মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে এসব মেগা উন্নয়নকাজে আরও গতি আসবে। শুক্রবার উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হবে বলে তিনি জানান।

সফরকারী দলে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী, বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব মনোয়ার ইসলাম, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সচিব পবন চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, বেপজা চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ হাবিবুর রহমান খান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্টস সেলের মহাপরিচালক মোঃ বেলাল উদ্দিন, বেজা প্রকল্প পরিচালক মোঃ হারুনুর রশিদসহ প্রায় এক ডজন সচিব এবং বিভিন্ন দফতরের উর্ধতন কর্মকর্তারা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে এই প্রতিনিধি দলে সফরসঙ্গী হয়েছেন প্রকল্প সংশিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের অর্ধশতাধিক উর্ধতন কর্মকর্তা।

সকাল থেকে তাঁরা জেলার বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখানে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হবে। ফলে কেবলমাত্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলই নয়, গোটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমৃদ্ধি আসবে।’

তিনি আরও বলেন, নাব্য হারানো মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেল রক্ষায় বিভিন্ন সময় সরকার পদক্ষেপ নেয়। বর্তমান সরকার শুরু থেকেই মংলা বন্দরকে সচল করতে কাজ করছে। চ্যানেলটি সচল হলে মংলা বন্দরও সচল হবে। একই সঙ্গে যাত্রী সুবিধার পাশাপাশি মংলা বন্দর থেকে সারাদেশে স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। অবৈধ বাঁধের কারণে অনেকগুলো নদী ও খাল বন্ধ রয়েছে। এগুলো দ্রুত প্রবহমান করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। এতে ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্য রক্ষার পাশাপাশি এলাকার জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

সরেজমিন পরিদর্শন করলে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো সহজে চিহ্নহ্নিত করা সম্ভব হয়। এজন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা এই সফরে এসেছেন। উল্লেখ্য, অবহেলিত অথচ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় উপকূলীয় বাগেরহাট জেলায় প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে।