২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষ দুই কিস্তি ছাড় দিচ্ছে আইএমএফ

  • ২৬ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেষ দুই কিস্তি ছাড় দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ঋণ সুবিধার (ইসিএফ) আওতায় প্রায় ২৬ কোটি ডলার ছাড় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে চুক্তি অনুযায়ী ইসিএফের মোট ৯০ কোটি ৪২ লাখ ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। আইএমএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএমএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার ওয়াশিংটনে সংস্থার নির্বাহী পর্ষদের সভায় তিন বছর মেয়াদী ইসিএফের আওতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচী পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তির বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে ২৫ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়। আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিৎসুহিরো ফুরুসাওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কার্যকর অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ফলে বর্ধিত ঋণ সুবিধার সহায়তায় গত সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে গেছে।’ ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশের জন্য তিনবছর মেয়াদী ইসিএফ অনুমোদন দেয়। এর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ অক্টোবর। সেই সময়ের আগেই সব কিস্তি ছাড় করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আইএমএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার কর্মসূচী অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ সাফল্য ধরে রাখতে কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি ২০১৬ সালে নতুন মূল্য সংযোজন কর আইন চালু করা, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি আরও কমানো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় সংস্কার কর্মসূচী অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে ২০১৬ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের সব শাখায় অটোমেশন চালুর কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, এর আগে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিদেশী অডিট ফার্ম দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সমুদয় হিসাব অডিট করানোর বিষয়ে সরকারের সম্মতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) চিঠি দিয়েছিল সরকার। ওই সময় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা জানিয়েছিলেন।

ইসিএফ ঋণের শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা আইএমএফকে জানানো হয়েছে কিনাÑ এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অনাপত্তির কথা ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়ে আইএমএফকে জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ঈদের আগে বর্ধিত ঋণ সহায়তার (ইসিএফ) শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেয়া হবে না, যখন বলেছিলাম তার পরের দিনই আইএমএফকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিপিসি’র সমুদয় হিসাব বিদেশী অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করানোর বিষয়ে সরকারের সম্মতির কথা আইএমএফকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসিএফের শেষ দুই কিস্তির অর্থ ক্ষেত্রে বিপিসি’র সমুদয় হিসাব কোন বিদেশী কোম্পানি দিয়ে অডিট করানোর শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ। এ বিষয়ে প্রথম দিকে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এ শর্ত মেনে আইএমএফের ‘ইসিএফ’ ঋণের শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেয়া হবে না।’ কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। ইসিএফ সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, ‘বিদেশী অডিট কোম্পানি দিয়ে বিপিসির সমুদয় হিসাব অডিট করার ক্ষেত্রে আইনগত কোন বাধা নেই। এ কারণে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।’