২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থীভারে ন্যুব্জ বলকান

  • ইইউর মিনি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান ॥ অর্থনৈতিক অভিবাসীদের বিমানে ফেরত পাঠাবে জার্মানি

শীতের আগেই উত্তর ইউরোপে পৌঁছতে মরিয়া হয়ে ওঠা শরণার্থীদের সংখ্যাবৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত বলকান অঞ্চল। এরূপ পরিস্থিতির সর্বশেষ শিকার সেøাভেনিয়া রাষ্ট্র। অভিবাসী সঙ্কট মোকাবেলার জন্য বলকান দেশগুলোর সঙ্গে এক মিনি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এদিকে, জার্মানি হাজার হাজার অর্থনৈতিক অভিবাসীকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর গতি ত্বরান্বিত করতে সামরিক পরিবহন বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বলে জানা যায়। খবর এএফপি ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও সেøাভেনিয়ার নেতারা রবিবার ব্রাসেলসে অ-ইউ রাষ্ট্র মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঁ-ক্লদ জাঙ্কারের দফতর থেকে একথা জানানো হয়।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমের বলকান অঞ্চলে অভিবাসীদের আসার পথ বরাবর অবস্থিত দেশগুলোতে জরুরী পরিস্থিতি দেখা দেয়ায় আরও বেশি সহযোগিতা, আরও ব্যাপক পরামর্শ ও অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। ইউরোপ মহাদেশ ১৯৪৫ সালের পর এর সবচেয়ে বড় এ অভিবাসন সঙ্কট মোকাবেলার সর্বসম্মত পথ খুঁজে পেতে কঠিন অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘ জানায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী ইউরোপে পৌঁছতে এক বিপজ্জনক যাত্রায় যোগ দেয়। তারা প্রধানত সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানের সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে চায়। তাদের মধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি তুরস্ক থেকে বারারের নৌকায় করে গ্রীসে পৌঁছতে চেষ্টা করতে গিয়ে সাগরে ডুবে মারা যায় বা নিখোঁজ হয়। গ্রীস থেকেই শরণার্থীরা উত্তর দিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চায়। শরণার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কোন লক্ষণ না দেখা যাওয়ায় ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্দ কাজেনিউভকালেই বন্দর শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। এ শহর থেকেই অভিবাসী ও শরণার্থীরা ব্রিটেনে প্রবেশের চেষ্টা করে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, নারী ও শিশুদের গরম তাঁবু দেয়া হবে। কারণ শরণার্থীদের অস্থায়ী শিবিরে তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে। অনেক অভিবাসীর লক্ষ্য হলো ইইউর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি। চলতি বছরে দশ লাখ লোক সেদেশে আশ্রয় চাইবে বলে মনে হয়।

শনিবার হাঙ্গেরি ক্রোয়েশিয়া সংলগ্ন এর সীমান্তে বন্ধ করে দিলে তখন থেকে ২৪ হাজারেরও বেশি অভিবাসী ২০ লাখ লোকের দেশ সেøাভেনিয়ায় পৌঁছে। প্রায় ১১ হাজার শরণার্থী বুধবার সেøাভেনিয়ার রেজিস্ট্রেশন সেন্টারগুলোতে আটকা পড়ে। তারা অস্ট্রিয়া অভিমুখে যাত্রার জন্য অপেক্ষা করে। স্ত্রী ও দু’সন্তানকে নিয়ে সিরিয়া থেকে আগত ফোরাস ফয়সল (৩১) বলেন, তারা সীমান্তে বরফ জমানো শীতে তিন দিন ও তিন রাত অপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, অবস্থা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে কষ্টকর। ঠা-ায় তাদের মুখম-ল হলুদ ও ঠোঁট নীল হয়ে যায়। তিনি বলেন, একমাত্র ইউরোপই আমাদের ভরসা, কারণ সব আরব দেশ আমাদের জন্য তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। দৈনিক অন্তত ৯০০০ লোক ইউরোপের উপকূলে অবতরণ করায় ইইউ ব্লকে মানব স্রোতের অবসান ঘটার কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

ইইউর রক্ষণশীল দলগুলো বুধবার মাদ্রিদে মিলিত হয়ে ব্লকের বহির্সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। অভিবাসী প্রবাহ ওই অঞ্চলে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে বলে তারা সতর্ক করে দিয়েছে। এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেলের শরণার্থী নীতির প্রতি জনগণ ক্রমেই বিরোধী ভাবাপন্ন হয়ে পড়ছে। তাই তিনি যাদের আশ্রয় চাওয়ার মতো কোন সত্যিকারের কারণ নেই এমন অর্থনৈতিক অভিবাসীদের ঠেকাতে আরও পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চাপের মুখে রয়েছেন। নতুন সরকারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জার্মানিতে ১,৯৩,৫০০ ব্যক্তি এখনও অবস্থান করছে। যদিও তাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত মাত্র ১১,৫২২ জন প্রত্যাখ্যাত শরণার্থীকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ২১,০০০ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় জার্মানি ত্যাগ করেছে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায়, যাদের আবেদন অগ্রাহ্য করা হবে তাদের একযোগে সি ১৬০ সামরিক পরিবহন বিমানে জার্মানির বাইরে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে। বিল্ড পত্রিকা এ খবর জানায়।