২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বেড়েছে জীবনমান

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট ॥ লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের গ্রাম-চরের মানুষের জীবনে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। ঘরে ঘরে এখন আলো জ্বলে সৌর প্যানেলে আর চুলা জ্বলে বায়োগ্যাসে। আট জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র পাল্টে গেছে। সৌর প্যানেলে টিভি চলে, মোবাইল ফোন চার্জ হয়। রয়েছে স্যাটেলাইট সংযোগ। তারা এখন চরে বসবাস করে বিচ্ছিন্ন হয়ে নয়। কৃষির তথ্য সুবিধা এখন তাদের হাতের নাগালে। তারা জানতে পারছে, গ্রাম ও চরের মানুষের জন্য সরকার কি কি সুবিধা সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছে। তথ্য প্রযুক্তি মানুষকে শিক্ষিত করে তুলছে। এখন মানুষ নিরক্ষর নয়। তারা শিক্ষাবঞ্চিত হয়েও তথ্যপ্রযুক্তির প্রচলন (মোবাইল ফোনের) ন্যূনতম অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন করে তুলছে।

চর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে গণমানুষের জীবনে আসছে আধুনিকতার ছোঁয়া। শীত ও বর্ষা মৌসুমে খাদ্য মজুদ ও সংরক্ষণের পদ্ধতি শেখানো হয়। প্রতিটি বাড়িতে ছোট বাগান ও খামার তৈরি করতে সহায়তা করে। স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ দেয়া হয়। গ্রাম ও চরের মানুষের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া দূরত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। দিনে দিনে চর ও গ্রামের মানুষ সম্পদশালীর কাতারে যোগ হচ্ছে। তবে কৃষিতে প্রচলিত কৃষি ফসল চাষ তেমন লাভজনক নয়। ধান চাষে কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারছে না। তারপরও খাদ্যাভাব দূর হয়েছে। চরে তথ্যপ্রযুক্তি ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুলকপি, টমেটো, বাদাম, ভুট্টা, মরিচ, কলা, ধান, সরিষা, আলু, পিঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় সকল কৃষি শস্য উৎপাদন হচ্ছে। চরের বাজারগুলো সন্ধ্যার পর এখন সৌর বিদ্যুতের আলোয় জমে ওঠে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা গেছে বেড়ে। চরের কৃষক শ্যালোমেশিন, ট্রাক্টরসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষিতে ব্যবহার করছে। তারা বর্ষা মৌসুমের জন্য খাবার মজুদ করার পদ্ধতি শিখে গেছে। চরে রয়েছে দুগ্ধ ও পশু পালনের খামার। চরে নতুন নতুন কৃষি শষ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। দূর হয়েছে কার্তিক মাসের মঙ্গা।