২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটে শারদীয় দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ দীর্ঘ ৬৮ বছর পর নতুন বাংলাদেশী নাগরিক পরিচয়ে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করেছে পঞ্চগড়ের তিনটি বিলুপ্ত ছিটমহলের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। জেলা সদরের বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহল, বোদার পুটিমারী ছিটমহল ও দেবীগঞ্জের কোটভাজনী ছিটমহলের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেরাই প্রতিমা তৈরি করে দুর্গোৎসব পালন করে। তাদরে এই উৎসবে শামিল হয় পাশের মুসলমানরাও। শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা সদরের বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলে গিয়ে দেখা গেছে, ছিটমহলের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার নতুন পরিচয়ে জগৎ জননী মা দুর্গাকে বরণ করে নিয়েছে। বছর ঘুরে দুর্গা মায়ের আগমনে রঙ লেগেছে প্রতিটি নতুন বাংলাদেশীর মনে। ছিটমহলের হুদুপাড়ার একটি ফাঁকা স্থানে নতুনভাবে ম-প তৈরি করে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবে মেতেছে এখানকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নতুন পরিচয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা এবারই তাদের নিজস্ব পরিচয়ে দুর্গাপূজা করার সুযোগ ও স্বাদ পেল। আর এই মহোৎসবে ভক্তদের পূজা অর্চনা ও দেবী দুর্গা দর্শনে ম-প ছিল মুখরিত। তাই এই আনন্দ-উল্লাসে প্রত্যেক ঘরে ছিল সাধ্যমতো বিভিন্ন আয়োজন। উৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গাকে একনজর দর্শন ও প্রণাম করার জন্য সকাল থেকে ছিল ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়। ঢাক-ঢোল, শঙ্খের উলুধ্বনির সঙ্গে মাইকে উচ্চৈঃস্বরে বাজানো হয় পূজার গান। এদিকে পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে ছিল। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজা করতে পেরে আনন্দিত এখানকার নাগরিকরা। পূজা কমিটির সভাপতি সুশিল বর্মণ বলেন, এবারই প্রথম আমরা নিজ এলাকায় দুর্গাপূজার আয়োজন করতে পারায় আনন্দিত। এতদিন পার্শ্ববর্তী হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের ধরণীর বাড়ির সামনের দুর্গাম-পে দিয়ে পূজা-অর্চনা করতাম। এখন থেকে আর আমাদের বাইরে যেতে হবে না।

নাগিরক অধিকার সমন্বয় কমিটির পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সভাপতি মফিজার রহমান বলেন, প্রথমবারের মতো নিজেরাই এলাকায় দুর্গাপূজার আয়োজন করতে পারায় খুশি বিলুপ্ত ছিটের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সরকারীভাবে প্রতি ছিটমহলে দেয়া হয়েছে ৫০০ কেজি চাল। এছাড়া সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট পূজা আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন।