২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পার্বতীপুরে শিক্ষকের ফাঁকিবাজি ॥ দৈন্যদশায় স্কুল

নিজস্ব সংবাদদাতা, পার্বতীপুর, ২২ অক্টোবর ॥ পার্বতীপুরের এমপিওভুক্ত বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী সরকারীভাবে বেতন-ভাতার শতভাগ সুবিধা ভোগ করার পরও ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে রোকেয়া-ছাবেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। দায়িত্বে অবহেলা ও ফাঁকি দিয়ে এ স্কুল নিয়ে তিনি ব্যতিব্যস্ত থাকেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলের ছাত্রছাত্রী ভর্তি বিজ্ঞপ্তিসহ বিভিন্ন কাজে এই স্কুলের (বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়) নাম ও প্রধান শিক্ষক পদবী ব্যবহার করে আসছেন। এ ছাড়াও তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলের ভ্যানগাড়ি, মাইক্রোবাস প্রতিনিয়ত বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশ এলাকা থেকে ছেলেমেয়েদের তুলে নিয়ে যায়। এতে চরম ক্ষতি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। কমছে ছাত্রছাত্রী। দেখা দিয়েছে দৈন্যদশা। এ ব্যাপারে জনস্বার্থে এলাকাবাসীর পক্ষে বিদ্যুতসাহী সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে চলতি সালের ১৩ আগস্ট দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দাখিল করে তদন্তসাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বিষয়গুলো কাছে থেকে জানার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা বাসুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এ এলাকা থেকে যানবাহনে করে মডেল স্কুলে ছাত্রছাত্রী তুলে নিয়ে যাওয়ার স্থির ভিডিও এ সংবাদদাতার কাছে প্রদান করেন।

একজন শিক্ষক হয়ে এ ধরনের আচরণ পেশার প্রতি প্রতারণার শামিল। তাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য তারা প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন। জানা যায়, তিনি স্কুলে উপস্থিত হয়ে জরুরী কাজের কথা বলে বেরিয়ে যান। মুভমেন্ট রেজিস্টার ব্যবহার না করায় তার অবস্থান জানা যায় না। এ কারণে অন্যান্য শিক্ষকগণ ক্লাস ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পান। তার স্ত্রী কম্পিউটার শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। স্বামীর প্রভাবে কম্পিউটার ক্লাসে না গিয়ে কম্পিউটার রুমে সারাক্ষণ বসে সময় কাটান। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এ্যাডভোকেট সৈদুল হক শান্ত বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদবী ব্যবহার করা, দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে বাইরে ঘোরাফেরাসহ সকল বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষককে সতর্ক ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে দিনাজপুরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব আমিনুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের আলোকে সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম শীঘ্রই শুরু হবে।