১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকিবকে পেয়ে উদ্বেলিত রংপুর

সাকিবকে পেয়ে উদ্বেলিত রংপুর
  • বিপিএল টি২০ তৃতীয় আসর- ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ সম্পন্ন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল-টি২০) তৃতীয় আসরের ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। ২০ নবেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এ লীগের জন্য বৃহস্পতিবার ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে ক্রিকেটার দলে নিয়েছে লীগে অংশ নেয়া ৬ দল। আইকন ক্রিকেটারদের মধ্যে রংপুর রাইডার্স সাকিব আল হাসানকে, চিটাগং ভাইকিংস তামিম ইকবালকে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স মাশরাফি বিন মর্তুজাকে, সিলেট সুপারস্টার্স মুশফিকুর রহীমকে, বরিশাল বুলস মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে, ঢাকা ডিনামাইটস নাসির হোসেনকে নিয়েছে।

হোটেল রেডিসনে সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’। কিন্তু তা শুরু হয় দেড়ঘণ্টা পর। আইকন ক্রিকেটার ছাড়া ১৩০ দেশী ক্রিকেটারকে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’র তালিকাতে রাখা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৬ জন, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩৬ জন, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪৮ জন ও ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ২৪ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়। শুরুতে বিদেশী ১৪৭ ক্রিকেটারকে তালিকায় রাখা হয়। পরে আরও ১ ক্রিকেটারকে যুক্ত করা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৯ জন, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ২২ জন, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন ও ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ৮৩ জন ক্রিকেটারকে রাখা হয়।

একটি দল সর্বোচ্চ ২৫ জন ক্রিকেটার দলে ভেড়াতে পারবে। এরমধ্যে দেশী ১৩ জন ও বিদেশী ১২ জন নিতে পারবে। কিন্তু ৪ জন বিদেশী ক্রিকেটারকে খেলাতেই হবে। দেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে আইকন ছাড়া ৫৭ ক্রিকেটার দল পায়। ৭৩ ক্রিকেটারেরই কপাল পুড়েছে। আইকনসহ তালিকা থেকে ১০ দেশী ক্রিকেটারকে নেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এরমধ্যে ঢাকা ১০ জন, কুমিল্লা ১১ জন, চিটাগং ১১ জন, বরিশাল ১১ জন, সিলেট ১০ জন ও রংপুর ১০ জনকে দলে নিয়েছে।

তালিকায় থাকা ১৪৮ বিদেশী ক্রিকেটারের মধ্যে মাত্র ১৯ জন দল পেয়েছে। বাকি ১২৯ জনই দল পায়নি। ৩ জনকে নেয়া বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে কুমিল্লাই শুধু সর্বোচ্চ ৪ জনকে নিয়েছে। এছাড়া ঢাকা ৩ জন, চিটাগং ৩ জন, বরিশাল ৩ জন, সিলেট ৩ জন ও রংপুর ৩ জনকে দলে নিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন হোটেলে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর কার্যক্রম। পাপন শুরুতে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে বলেন, ‘বিপিএল থেকে অর্থ উপার্জন নয়, ক্রিকেটকে যারা ভালবাসে তাদেরই নেয়া হয়েছে। আশা করছি, দেশের স্বার্থ, ক্রিকেটের স্বার্থ, সবকিছু বিবেচনা করেই দল চালাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। আর বিদেশী ক্রিকেটারদের একই হোটেলে রাখতে পারলে ভাল হবে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা ভালভাবে দেয়া যাবে। আশা করছি, ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ সব দলই ভারসাম্যপূর্ণ হবে।’ প্রতিবারই ৬ দলের লটারি করা হয়। যেন কোন দলই একেবারে শক্তিশালী দল গড়তে না পারে। লটারিতে ভাগ্যপ্রসূত দল হয় রংপুর রাইডার্স। ৪ বার লটারিতে প্রথমেই ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর সুযোগ পায় রংপুর। দেশী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে লটারিতে দুইধাপে ক্রিকেটার দলে ভেড়াতে পারে দলগুলো। লটারিতে ১ নম্বরে থাকা দল একবার শুরুতে দেশী ক্রিকেটার নিতে পারলেও দ্বিতীয়বার গিয়ে শেষে ক্রিকেটার নিতে হয়েছে। এভাবে সব দলই ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। তবে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’র বাইরে দেশী ক্রিকেটার বৃহস্পতিবারের আগে দলে ভেড়ানো না গেলেও বিদেশী নামী ক্রিকেটারদের এ ধাপের বাইরে থেকেই নিয়েছে দলগুলো। তাদের তালিকাতেও রাখা হয়নি। কুমিল্লা যেমন শোয়েব মালিক, সুনিল নারিনে, আহমেদ শেহজাদ, মারলন স্যামুয়েলসকে আগেই দলে নিয়েছে। ঠিক তেমনি কুমার সাঙ্গাকারা, রায়ান টেন ডেসকাট, মোহাম্মদ ইরফান, ইয়াসির শাহ, নাসির জামশেদকে নিয়েছে ঢাকা। একইভাবে মোহাম্মদ আমির, চামারা কাপুগেদারা, এলটন চিগুম্বুরা, উমর আকমলকে চিটাগং; ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন টেলর, কেভন কুপার, এভিন লুইসকে বরিশাল; শহীদ আফ্রিদি, রবি বোপারা, ব্র্যাড হজ, অজান্থা মেন্ডিসকে সিলেট; ড্যারেন স্যামি, থিসেরা পেরেরা, লেন্ডল সিমন্সকে রংপুর দলে ভিড়িয়েছে।

বাজিমাত করল রংপুর

এক সাকিব আল হাসানকে পেয়েই বাজিমাত করেছে রংপুর রাইডার্স। তাদের চাহিদা ছিল সাকিব। ভাগ্য এত ভাল যে তাকেই পেয়েছে। ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ কম করে হলেও চারবার শুরুতেই ক্রিকেটার নেয়ার সুযোগ পেয়েছে রংপুর। এমনকি যখন আইকন ক্রিকেটার নেয়ার সময় আসল, তখনও শুরুতেই ক্রিকেট দলে নিতে পারল দলটি। নিল সাকিবকে। দলও সাকিবকে পেয়ে শক্তিশালী হয়ে গেল।

রংপুর রাইডার্স

আইকন : সাকিব আল হাসান

দেশী ক্রিকেটার: সৌম্য সরকার, আরাফাত সানি, মো. মিঠুন, মুক্তার আলী, সাকলাইন সজীব, জহুরুল ইসলাম, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, মুরাদ খান ও রাসেল আল মামুন।

বিদেশী ক্রিকেটার: ড্যারেন স্যামি, থিসেরা পেরেরা, লেন্ডল সিমন্স, সচিত্রা সেনানায়েকে, মোহাম্মদ নবী ও ওয়াহাব রিয়াজ।

আশা পূরণ কুমিল্লার

মাশরাফি বিন মর্তুজাকে শুরু থেকেই কুমিল্লা চাচ্ছিল। দলটির আশা পূরণ হয়ে গেল। আইকন ক্রিকেটারদের মধ্যে মাশরাফিকেই পেল কুমিল্লা। তবে দেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে যাদের নিয়েছে কুমিল্লা, মন ভরাতে পারেনি। বিদেশী মালিক, নারিনে, শেহজাদ, স্যামুয়েলসের দিয়েই এখন যা করার করতে হবে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

আইকন : মাশরাফি বিন মর্তুজা

দেশী ক্রিকেটার: লিটন কুমার দাস, ইমরুল কায়েস, শুভাগত হোম, সানজামুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আরিফুল হক, মাহমুদুল হাসান, নাঈম ইসলাম জুনিয়র, আবু হায়দার রনি ও ধীমান ঘোষ।

বিদেশী ক্রিকেটার: শোয়েব মালিক, সুনীল নারিন, আহমেদ শেহজাদ, মারলন স্যামুয়েলস, ড্যারেন স্টিভেন্স, নুয়ান কুলাসেকেরা, আন্দ্রে রাসেল ও লাহিরু থিরিমান্নে।

হতাশ ঢাকা

শুরু থেকেই শোনা গিয়েছে সাকিবকেই চায় ঢাকা। এজন্য ক্রিকেটারদের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পছন্দের ক্রিকেটারের নাম জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু একাধিক দল সাকিবকে পেতে চাইলেই ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ আইকনদের রাখা হয়। তাতে ঢাকা পেল না সাকিবকে। পেল নাসির হোসেনকে। ভাগ্য এতই খারাপ ঢাকার যে লটারিতে সবার শেষে আইকন ক্রিকেটার নেয়ার সুযোগ পেল। বাধ্য হয়েই আর কোন পথ ছিল না ঢাকার। নাসিরই বাকি ছিল। তাকেই নিতে হল।

ঢাকা ডিনামাইটস

আইকন : নাসির হোসেন

দেশী ক্রিকেটার : মুস্তাফিজুর রহমান, মোশাররফ হোসেন রুবেল, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শামসুর রহমান, সৈকত আলী, ফরহাদ রেজা, নাবিল সামাদ, আবুল হাসান রাজু ও ইরফান শুক্কুর।

বিদেশী ক্রিকেটার : কুমার সাঙ্গাকারা, রায়ান টেন ডেসকাট, মোহাম্মদ ইরফান, ইয়াসির শাহ, নাসির জামশেদ, সোহেল খান, ডেভিড মালান ও শাহজাইব হাসান।

মন ভরেছে চিটাগাংয়ের

চিটাগাং ভাইকিংস শুরু থেকেই বলে এসেছে দলের আইকন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। সেই সঙ্গে অধিনায়কও তামিম। কিন্তু তামিমকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ও দলগুলোর লটারিতে তামিম হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। ৪ নম্বরে আইকন ক্রিকেটার নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল চিটাগাং। ভাগ্য ভাল ১ নম্বরে থাকা রংপুর সাকিবকে, ২ নম্বরে থাকা কুমিল্লা পছন্দের আইকন মাশরাফিকে এবং ৩ নম্বরে থাকা বরিশাল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়েছে। তামিমকে এ তিন দলের কেউ না নেয়াতে ৪ নম্বরে থাকা চিটাগাং তামিমকে পেয়েছে।

চিটাগাং ভাইকিংস

আইকন : তামিম ইকবাল

দেশী ক্রিকেটার: এনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, জিয়াউর রহমান, ইলিয়াস সানি, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র, ইয়াসির আলী চৌধুরী, শফিউল ইসলাম, আসিফ আহমেদ রাতুল ও নাফিস ইকবাল খান।

বিদেশী ক্রিকেটার: মোহাম্মদ আমির, চামারা কাপুগেদারা, এলটন চিগুম্বুরা, উমর আকমল, জীবন মেন্ডিস, সাঈদ আজমল ও রবিন পিটারসেন।

চমক দেখাল বরিশাল

আইকন ক্রিকেটারদের দলে নেয়ার ক্ষেত্রে লটারিতে ৩ নম্বরে থাকে বরিশাল। প্রথমে সাকিব, দ্বিতীয়তে মাশরাফি দল পেয়ে যাওয়ায় সবার ধারণা ছিল হয় তামিম নয়ত মুশফিককে নেবে বরিশাল। অথচ দেখা গেল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে নিল। সবাই তখন হতভাগ! এ কী করল বরিশাল। দলে সামঞ্জস্য আনতেই এমনটি করেছে বরিশাল। তাছাড়া তামিম ও মুশফিক শুধু ব্যাটিংটাই করতে পারবেন। মাহমুদুল্লাহ ব্যাটিং-বোলিং দুইটাই করতে পারবেন।

বরিশাল বুলস

আইকন : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

দেশী ক্রিকেটার : সাব্বির রহমান রুম্মান, আল-আমিন হোসেন, সোহাগ গাজী, তাইজুল ইসলাম, শাহরিয়ার নাফিস, মেহেদী মারুফ, নাদিফ চৌধুরী, রনি তালুকদার, শরীফউল্লাহ ও সাজেদুল ইসলাম।

বিদেশী ক্রিকেটার : ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন টেলর, কেভন কুপার, এভিন লুইস, সেকুগে প্রসন্নে, মোহাম্মদ সামি ও ইমাদ ওয়াসিম।

আত্মবিশ্বাসী সিলেট

আইকন ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোর জন্য দলগুলোর লটারিতে এক থেকে ৪ নম্বর পর্যন্ত দল মুশফিককে নেয়নি। ৫ নম্বরে থাকা বরিশাল মুশফিককে নিয়েছে। দেশী যে ক্রিকেটারদেরই দলে ভেড়াক, বিদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে আফ্রিদিকেও নিয়েছে সিলেট। তাতেই আত্মবিশ্বাসী সিলেট। দলটির মালিক আজিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যে দল গড়েছি তাতে খুশি। এ দল নিয়েই ভাল করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। আশা করছি অনেক দূর যাব।

সিলেট সুপারস্টার্স

আইকন : মুশফিকুর রহিম

দেশী ক্রিকেটার : রুবেল হোসেন, মুমিনুল হক সৌরভ, আব্দুর রাজ্জাক, নুরুল হাসান সোহান, মো. শহীদ, নাজমুল হোসেন অপু, জুনায়েদ সিদ্দিকী, নাজমুল হোসেন মিলন ও আবু সায়েম চৌধুরী।

বিদেশী ক্রিকেটার : শহীদ আফ্রিদি, রবি বোপারা, ব্র্যাড হজ, অজান্থা মেন্ডিস, ক্রিস জর্ডান, জস কব ও সোহেল তানভীর।