২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় ইস্টবেঙ্গল

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর প্রথম দল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তানের করাচী ইলেকট্রিক ফুটবল ক্লাব। বৃহস্পতিবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রথম ও ‘বি’ গ্রুপের খেলায় তাদের ৩-১ গোলে হারিয়েছে ভারতের কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। বিজয়ী দল ম্যাচের প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। এ জয়ে সেমিফাইনাল খেলার কাছাকাছি পৌঁছে গেল দেশে-বিদেশে মোট ১৩৬ ট্রফি জেতা ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপে তাদের শেষ ম্যাচ আগামী শনিবার ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের বিরুদ্ধে। আর করাচী ইলেকট্রিকের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচ একই দিন স্বাগতিক দল চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে করাচী ইলেকট্রিক ৩-২ গোলে হার মানে ঢাকা আবাহনীর কাছে। আর ইস্টবেঙ্গল নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে পরাভূত করেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীকে। বৃহস্পতিবারের ম্যাচ শেষে করাচী ইলেকট্রিকের কোচ মাজিদ শফিক বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ভাল খেলেই জিতেছে। আমরা প্রথম ম্যাচেও হেরেছিলাম ঢাকা আবাহনীর কাছে। দু‘টো দলের খেলার স্টাইল আলাদা। উপমহাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলোর মধ্যে খুব একটা শক্তির পার্থক্য নেই।’ টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও এখনও আমাদের আরও একটি ম্যাচ খেলা বাকি আছে। শেষ ম্যাচটি জিতে সফর শেষ করতে চাই।’

বৃহস্পতিবারের ইস্টবেঙ্গল বনাম করাচী ইলেকট্রিকের ম্যাচটা যেন ছিল ভারত বনাম পাকিস্তানের লড়াই! ম্যাচ শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইস্টবেঙ্গলের কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকতে পারে। কিন্তু ফুটবল হচ্ছে ফুটবল। খেলার মধ্যে রাজনীতি আনি না আমরা। আজ ছেলেরা ভাল খেলেই জিতেছে। আমাদের কোরিয়ান খেলোয়াড়টি আগের ম্যাচে চোট পেয়েছিল। সেরে না ওঠায় এ ম্যাচে ওকে খেলানোর ঝঁুঁকি নেইনি। আশাকরি শীঘ্রই ও সেরে উঠবে।’

করাচী ইলেকট্রিকের কোচ মাজিদ শফিক ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত। তার কোচিংয়ে করাচী ইলেকট্রিক এফসি কাপের প্লে-অফ রাউন্ডে পৌঁছায়। এর আগে কোন পাকিস্তানী ক্লাব এফসি কাপের প্লে-অফ রাউন্ডে পৌঁছাতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর কাছে হারার পর বলেছিলেন, ‘এই ম্যাচে আমরা অনেক ভুল করেছি। সেই ভুলগুলো শুধরে দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ভাল খেলে জিততে চাই।’ কিন্তু হয়েছে তার ঠিক উল্টোটাই!

ম্যাচের শুরুতে উভয় দলই শুরু করে সতর্ক ও ধীরগতিতে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দু’দলই খেলার গতি বৃদ্ধি করে। ইস্টবেঙ্গলই বেশি। তারা খেলে ৪-৪-২ পদ্ধতিতে। তাদের খেলার ধরন ছিল মাটিতে বল রেখে দ্রুতগতিতে ছোট ছোট পাসে খেলা। যদিও করাচী ইলেকট্রিকের চেয়ে ফিটনেসে কিছুটা পিছিয়ে ছিল তারা, তবে এগিয়ে ছিল স্কিলে। আর এটাই পার্থক্য গড়ে দেয় দুই দলের মধ্যে।

খেলার ১৪ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ইস্টবেঙ্গলের ফরোয়ার্ড অবিনাশ রুইদাসের উড়ন্ত মাইনাস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ওরক এসিয়েন (১-০)। ২৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইস্টবেঙ্গল। করাচী ইলেকট্রিকের সীমানার ডান প্রান্ত দিয়ে এসিয়েন বল পেয়ে লম্বা থ্রু পাস দেন বক্সের ভেতর ঢুকে পড়া সুযোগ সন্ধানী মিডফিল্ডার মোহাম্মদ রফিকের উদ্দেশে। বল পেয়ে কালবিলম্ব না করে রফিক ডান পায়ের গড়ানো শটে পরাস্ত করেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক গুলাম নবীকে (২-০)। ২৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের মধ্যে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক পায় ইস্টবেঙ্গল। ফরোয়ার্ড রন্টি মার্টিন্সের ডান পায়ের উঁচু শট পোস্টে লেগে ফেরত না এলে ব্যবধান বাড়তে পারতো!

৪৯ মিনিটে করাচীর একটি গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ইস্টবেঙ্গল।

এসিয়েনের পাস থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন রন্টি (৩-০)। ৮৪ মিনিটে করাচীর হয়ে একমাত্র সান্ত¡নার গোলটি করেন ফরোয়ার্ড মুহাম্মদ রসুল (১-৩)।

নির্বাচিত সংবাদ