২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরও সংবাদ

  • মিসবাহর শতকে দুবাই টেস্টে দারুণ শুরু পাকিস্তানের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক বছর আগে আরব আমিরাতের মাটিতে টানা তিন শতক হাঁকিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। এরপর আর শতকের দেখা পাননি। অবশেষে আবারও সেই মরুর দেশেই সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মিসবাহ-উল-হক। এবার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তার ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরিতে দুবাইয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনটা স্বস্তি নিয়েই শেষ করেছে পাকিস্তান। মিসবাহর অপরাজিত ১০২ রানে দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৮২ রান তুলেছে প্রথম ইনিংসে পাকরা। প্রথম টেস্টেও আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ খেলেছিল পাকিস্তান। দুবাইয়ে তাই টস জেতার পর ব্যাটিংয়েরই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও তরুণ শান মাসুদ দেখে শুনে খেলছিলেন। তবে বিপজ্জনক এক ঘণ্টা পেরোনোর পরই প্রথম আঘাতটা আসে। হাফিজকে (১৯) ফিরিয়ে দেন স্পিনার মঈন আলী। ততোক্ষণে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে উঠেছিল। শুরুটা তাই ভালই ছিল পাকিস্তানের। তবে হাফিজের বিদায়ের পরই যেন হুট করে বিপর্যয় নেমে আসে। প্রথম টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান শোয়েব মালিক (২) দ্রুতই ফিরে যান। দারুণ অর্ধশতক করা শানও বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না। মাত্র ৮৭ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রান করার পর তিনি সাজঘরে ফেরেন পেসার জেমস এ্যান্ডারসনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। সেটি ছিল মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রথম বল। দলীয় ৮৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে বেশ বিপদেই পড়ে পাকরা। তবে সেই বিপর্যয়কে ঘনীভূত হতে দেননি দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইউনুস খান ও মিসবাহ। ৯৩ রানের জুটি গড়েন তারা চতুর্থ উইকেটে। তবে ইউনুস ৫৬ রান করার পর সাজঘরে ফেরেন। অভিজ্ঞ সঙ্গী ইউনুসকে হারানোর পরও মনোসংযোগে চিড় ধরেনি মিসবাহর। একাই টেনে নিতে থাকেন দলকে ভাল একটি অবস্থানের দিকে। তার সঙ্গে ওই লড়াইয়ে যোগ দেন তরুণ আসাদ শফিক। ইংল্যান্ডের বোলাররা ম্যাচের প্রথম সেশনে দারুণ বোলিং করলেও পরে আর আঁচড় কাটতে পারেননি। খুব ধীরে-সুস্থে খেললেও মিসবাহ-শফিক নতুন করে আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি। দিনের শেষ বল পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থেকেছেন এ দুই ব্যাটসম্যান। পঞ্চম উইকেটে এখন পর্যন্ত ১০৪ রানের জুটি গড়ে উঠেছে দু’জনের মধ্যে। মিসবাহ দীর্ঘ এক বছর পর আবারও শতক হাঁকান। এটি অধিনায়ক হিসেবে তার ৭ নম্বর সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে অধিনায়কদের মধ্যে এতদিন সর্বাধিক ৭টি টেস্ট সেঞ্চুরি ছিল সাবেক ব্যাটসম্যান ইনজামাম-উল-হকের। এবার তাকে ছুঁয়ে ফেললেন মিসবাহ। অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে ৫টি করে সেঞ্চুরি আছে ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াদাদের। তবে অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক হাফ সেঞ্চুরির মালিক এককভাবে অনেকদিন আগেই হয়ে গেছেন মিসবাহ। তিনি দলনেতা হিসেবে অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন ২৬টি। ১৪টি করে আছে ইনজামাম ও ইমরানের। অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ৭০ টেস্ট খেলেছেন তিনি। মিসবাহ ১৯২ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে আছেন আসাদ। অর্ধশতক থেকে আর মাত্র ৪ রান দূরে তিনি। ৯৩ বলে ৬ চারে ৪৬ রান করেছেন এখন পর্যন্ত। ৪ উইকেটে ২৮২ রান তুলে প্রথম দিনটা তাই ভালভাবেই শেষ হয়েছে পাকিস্তানের জন্য। ইংলিশ বোলাররা সুবিধা করতে পারেননি। স্কোর ॥ প্রথম দিন শেষে ॥ পাকিস্তান প্রথম ইনিংস- ২৮২/৪; ৯০ ওভার (হাফিজ ১৯, শান ৫৪, শোয়েব ২, ইউনুস ৫৬, মিসবাহ ১০২*, শফিক ৪৬*; উড ১/২৬, এ্যান্ডারসন ১/৩৩, স্টোকস ১/৪৩, মঈন ১/৮২)।

ইনজুরিতে স্মিথ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ হাঁটুর চোট স্টিভেন স্মিথকে ভোগাচ্ছে সেই এ্যাশেজ থেকে। বাংলাদেশ সফর বাতিল হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক হালকা ব্যথা নিয়েই খেলছেন ঘরোয়া ম্যাটাডোর কাপে। নিউ সাউথওয়েলসকে ফাইনালেও তুলে নিয়েছেন।

তবে ঘরের মাটিতে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে শতভাগ সুস্থ হয়ে উঠতে স্মিথকে কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিতই দেয়া হয়েছে। আগামী ৫ নবেম্বর থেকে শুরু তিন ম্যাচ টেস্টের ওই সিরিজ। উল্লেখ্য, মাইকেল ক্লার্ক অবসর নেয়ায় টেস্ট-ওয়ানডে দুই ভার্সনেই এখন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্মিথ।

ব্রুইনের প্রশংসায় পেলেগ্রিনি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শেষ মুহূর্তে কেভিন ডি ব্রুইনের দারুণ গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার রাতে ম্যাচ শেষে তাই বেলজিয়াম মিডফিল্ডারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন ম্যানসিটি কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি। পেলেগ্রিনি বলেন, আমরা কেভিনকে কি জন্য কিনেছি তা বোধহয় সবাই বুঝতে পেরেছে। সে অত্যন্ত কার্যকরী ফুটবলার। প্রতিনিয়তই সে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানসিটিতে যোগ দেন ব্রুইন। এমন উচ্চমূল্যে কিনে যে ভুল হয়নি সেটা আরেকবার দেখালেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেভিয়ার বক্সের ডান পাশে বল পান ইয়াইয়া তোরের কাছ থেকে। দুই ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে বাঁ পায়ে শট নেন তা ডানপাশের বার ঘেঁষে জড়িয়ে যায় জালে। যেভাবেই হোক জয় পাওয়ায় খুশি সিটি কোচ পেলেগ্রিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরবর্তী পর্বে যেতে হলে আমাদের আরও ভাল করতে হবে।

কোয়ার্টার ফাইনালে পাভলিউচেঙ্কোভা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সঠিক পথেই এগুচ্ছেন ক্রেমলিন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এ্যানাস্তাসিয়া পাভলিউচেঙ্কোভা। দারুণ জয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি। বুধবার দ্বিতীয় পর্বে চেক প্রজাতন্ত্রের লুসি সাফারোভাকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেন তিনি। রাশিয়ান তারকা পাভলিউচেঙ্কোভা এদিন ৬-১, ৬-৭ এবং ৬-৩ গেমের কঠিন লড়াইয়ে পরাজিত করেন চেক প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় বাছাই সাফারোভাকে।

বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ২৯তম অবস্থানে এ্যানাস্তাসিয়া পাভলিউচেঙ্কোভার। কিন্তু পারফরমেন্সে বছরের শুরু থেকেই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। এই মৌসুমের প্রথম সাফল্য পেয়েছেন গত সপ্তাহে। লিঞ্জ ওপেনে বছরের প্রথম শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। লিঞ্জ ওপেনের পর খুব বেশি সময় বিশ্রাম নিতে পারেননি পাভলিউচেঙ্কোভা। ক্রেমলিন কাপে খেলা শুরু করে দিতে হয় তাকে। যে কারণে এই টুর্নামেন্টে ক্লান্ত এই রুশ সুন্দরী। এ বিষয়ে চেক তারকা লুসি সাফারোভাকে হারানোর পরই তিনি বলেন, ‘আমি আসলেই খুব ক্লান্ত। এই ম্যাচের আগে আমি এতোটাই পরিশ্রান্ত ছিলাম যে, আমার কোন ধারণা ছিল না জয়ের জন্য এই ম্যাচে কী করতে হবে আমাকে।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায় রোমাঞ্চিত ২৪ বছর বয়সী এই টেনিস খেলোয়াড়। এ্যানাস্তাসিয়া জয়ের দেখা পেলেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ছিটকে পড়েছেন ফ্লাভিয়া পেনেত্তা। মূলত ইনজুরির কারণেই সরে দাঁড়ান তিনি। এর ফলে ওয়াকওভারে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেন ইউক্রেনের অখ্যাত খেলোয়াড় লিসিয়া সুরেঙ্কো। বুধবার মস্কোর ক্রেমলিন কাপের দ্বিতীয় পর্বে ইতালিয়ান তারকা পেনেত্তা ৬-২ এবং ৬-৪ গেমে রাশিয়ার দারিয়া গ্যাব্রিলোভাকে পরাজিত করে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে বছরের শেষ বড় কোন টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালসে খেলারও টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।

দল পেলেন না লিখন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরে জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারই দল পেয়েছে। দল পেল না শুধু লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন। বৃহস্পতিবার ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজে’ তাকে কোন দলই নিল না। রংপুর রাইডার্সে সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, আরাফাত সানি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে মাশরাফি বিন মর্তুজা, লিটন কুমার দাস, ইমরুল কায়েস, শুভগত হোম, ঢাকা ডিনামাইটসে নাসির হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, চিটাগং ভাইকিংসে তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, বরিশাল বুলসে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান রুম্মন, তাইজুল ইসলাম, রনি তালুকদার, সিলেটে মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন, মুমিনুল হক সৌরভ খেলবেন। কিন্তু লিখন কোন দলই পেল না। শুধু লিখনই নন, পেসার রবিউল হোসেন, ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব, অলক কাপালীও দল পাননি। তবে এখনও এ ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার সুযোগ আছে। আগামী সাত দিনের মধ্যেই সেই সুযোগ মিলতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চাইলে বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের কাউকে কাউকে দলে নিতে পারবে। দেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে আইকন ক্রিকেটার ছাড়া মোট ৫৭ জন ক্রিকেটার দল পেয়েছেন। সেই তালিকায় নেই মেহরাব হোসেন জুনিয়র, ব্যাটসম্যান রকিবুল হাসান, উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সগির হোসেন পাভেল, উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নাজিম উদ্দিন, পেসার মোহাম্মদ শরীফ ও বাঁহাতি স্পিনার সোহরাওয়ার্দী শুভর মত ক্রিকেটাররাও। এমনকি রাজিন সালেহ, তুষার ইমরানের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানরাও সুযোগ পাননি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘যারা দল পায়নি তাদের যদি ফ্র্যাঞ্চাইজিরা চায় নিতে পারে। তবে যে দর আছে এর কম হওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

কোহলির সেঞ্চুরি, ভারত ২৯৯

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চেন্নাইয়ে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকালেন ভিরাট কোহলি টানা ১৩ ইনিংস পর। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে ১৪০ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ১৩৮ রান করেছেন তিনি। সেই সুবাদে প্রথম ব্যাট করে ভারত ৮ উইকেটে ২৯৯ রান তুলেছে। একই দিনে সুরেশ রায়নাও ফর্মে ফিরেছেন। আগের ৭ ওয়ানডে থেকে মাত্র ১২২ রান করা এ মিডল অর্ডার এদিন ক্যারিয়ারের ৩৬তম ফিফটি হাঁকিয়ে করেন ৫৩ রান। ৩০০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ম্যাচ হারলেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে ভারতের। কারণ ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে প্রোটিয়ারা। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে ভারত। মাত্র ৩৫ রানে দুই উইকেট হারানোর পর কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে আর রায়না মিলেই দলকে একটি ভাল অবস্থানে নিয়ে যান। কোহলি গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এ্যাডেলেইডে করেছিলেন ১০৭ রান। এরপর গত ১৩ ইনিংসে মাত্র একটি অর্ধশতকসহ এ নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে মাত্র ৩৪৭ রান এসেছে। একমাত্র অর্ধশতকটি তিনি করেন ১২ ইনিংস পর গত ম্যাচে রাজকোটে। এবার শতক হাঁকালেন তিনি। ক্যারিয়ারের ২৩তম। তিন নম্বরে নেমে ১৬তম। এ পজিশনে তারচেয়ে বেশি শতক আছে শুধু রিকি পন্টিং (২৯) ও কুমার সাঙ্গাকারার (১৮)।