১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যমুনা তীর ও চরগ্রামে সুগন্ধী গাইঞ্জা ধানের আবাদ

 যমুনা তীর ও  চরগ্রামে  সুগন্ধী গাইঞ্জা  ধানের আবাদ
  • ভাল ফলনের আশা

সমুদ্র হক ॥ মধ্য আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের দুই দফা বন্যায় যমুনার তীরে ও চরগ্রামের কৃষক বগুড়ার সুস্বাদু গাইঞ্জা ধান উৎপাদনের আশা ছেড়েই দিয়েছিল। তবে প্রকৃতি সে আশা পূরণ করেও দিয়েছে। যমুনা ও বাঙালী তীরের সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের গ্রামে গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণের হিড়িক পড়ে এই সময়টায়। কৃষক ও গৃহস্থ অল্প ক’ দিনেই অধিক জমিতে এই ধানের আবাদ করেছে। আশা করা হয়েছে এবারও মিষ্টি সুগন্ধের গাইঞ্জার ফলন বাড়বে।

যমুনা তীর ও চরগ্রামের এই গাইঞ্জা ধানের আবাদ দেশের অন্য কোথাও হয় না। প্রকৃতিতে মাটির গুণাগুণ ও অনুকূল আবহাওয়ায় বগুড়া অঞ্চলে এই ধানটি বেশি ফলে। এই ধানের চাল অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের, তবে পোলাওয়ের চাল নয়। ধান থেকে চাল ছেটে নেয়ার সময় সুবাস ভেসে আসে। মিষ্টি সুগন্ধের এই চালের ভাত এতটাই স্বাদের যে ছানা ভর্তাতেই পেট পুরে তৃপ্তির সঙ্গে ভোজন করা যায়। সারিয়াকান্দি সোনাতলা ধুনট এলাকার মানুষ অতিথি আপ্যায়নে এই চালের ভাত রান্না করে। বর্তমানে শহরের মানুষ এই চাল কিনে রেখে দেয় অতিথি বরণে।

সূত্র জানায়, গেল বন্যায় উল্লিখিত তিন এলাকায় রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমির। পরবর্তী সময়ে বীজতলারও ক্ষতি হয়। মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম হয় প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরও অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ে। প্রকৃতির ওপর করার কিছু নেই। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন্যা আক্রান্ত এলাকার সকল কৃষক ঝাঁপিয়ে পড়ে আবাদ পুনরুদ্ধারে। রোপা আমন যদি নাই হয় গাইঞ্জা তো হাতের কাছেই আছে। তারা কোমর বেঁধে নামে গাইঞ্জা চাষে। এলাকার নারী কৃষকও যোগ দেয় গাইঞ্জা রোপণে। এভাবে মধ্য অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে গাইঞ্জা রোপণ শেষ হয়। আশা করা হয়েছে শেষ অক্টোবরের মধ্যে ধার্য করা লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৭শ’ ৭৭ হেক্টর ছাড়িয়ে ৫ হাজার হেক্টরে ঠেকবে।

কৃষি বিভাগের সূত্রের খবর- ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এই ধান ফলে। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতাংশ) ফলন হয় ৮ থেকে ১০ মন করে। সারিয়াকান্দির চর কাজলার কৃষক দুলাল জানান, এই ধান আবাদে কোন সেচের দরকার হয় না। বন্যার পর জমি এমনিতেই ভিজা থাকে। পলি জমে এবং প্রকৃতি থেকে জৈব পদার্থ যোগ হয়ে উর্বরতা বেড়ে যায়। আরেক কৃষক রফিকুল বললেন, রোপা আমনে যে লোকসান হয়েছিল তা অনেকটা পুষিয়ে নেয়া যাবে। গাইঞ্জা ধান ও চালের দামও সাধারণ ধানচালের চেয়ে বেশি। কৃষককে লোকসান গুনতে হবে না। চাল বেচে দুটো পয়সাও মিলবে নিজেরা ভাল-মন্দ খেতে এবং অতিথিদের সম্মান করতেও এই চালের ভাতে আপ্যায়ন করা যাবে।