২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামের কাছে ১-০ গোলে হারল ঢাকা

  • দুই আবাহনীর লড়াই

রুমেল খান, চট্টগ্রাম থেকে ॥ প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড। বৃহস্পতিবার ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’ এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিকরা ১-০ গোলে হারিয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে। চট্টলার ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন উইঙ্গার জাহিদ হোসেন। ম্যাচের ৪৬ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে চমৎকার একটি ফ্রি কিকে গোল করেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া জাহিদ। তার দেয়া একমাত্র গোলেই জিতে আসর কিছুটা হলেও জমিয়ে তুলেছে স্বাগতিক দল। চট্টগ্রামের পরের গ্রুপ ম্যাচ আগামীকাল শনিবার, পাকিস্তানের করাচী ইলেকট্রিক ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে। একই দিনে ঢাকা আবাহনী লড়বে ভারতের কিংফিশার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের বিরুদ্ধে।

দুই আবাহনীর দ্বৈরথ ছিল যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অথচ এ মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে বিপিএল চট্টগ্রাম আবাহনীর অবস্থান ছিল প্রায় তলানীতে। ১১ দলের মধ্যে নবম। আর ঢাকা আবাহনীর অবস্থান চতুর্থ। লীগে চট্টগ্রাম আবাহনী ঢাকা আবাহনীর কাছে একবার হারলেও একবার ড্র করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। আর এবার শেখ কামাল টুর্নামেন্টে তো হারিয়েই দিল! তবে প্রিমিয়ার লীগের সেই দলটিই যে এবার ছিল, সেটা কিন্তু বলা যাবে না। সচেতন ফুটবলপ্রেমীরা অবশ্য যদি বলেন, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের কাছেই হেরেছে ঢাকা আবাহনী, তাহলে অবশ্য খুব একটা ভুল বলা হবে না! কেননা, এই টুর্নামেন্টে শেখ রাসেলকে খেলার জন্য আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। কিন্তু তাদের ১২ ফুটবলারকে ঠিকই ‘ধারে’ নিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। মূল একাদশে তাদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল বেশি।

ম্যাচ শেষে ঢাকা আবাহনীর কোচ অমলেশ সেন বলেন, ‘রেফারিং নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা একটা ফ্রি কিকে হেরেছি। ওটা নিঃসন্দেহে ভাল ফ্রি কিক ছিল। আমাদের আক্রমণভাগ আজ ক্লিক করেনি। সানডে-কেস্টার দুজনই ছিল নিষ্প্রভ। এছাড়া ওয়ালীর গোড়ালিতে চোট ছিল। তাই স্বাভাবিক খেলতে পারেনি। চোট ছিল প্রাণতোষেরও। আসলে ভাগ্য আমাদের সহায় হয়নি। এজন্য অনেক আক্রমণ করেও আমরা গোল করতে পারিনি।’ ঢাকা আবাহনীর পরের ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। ‘ওরা অনেক ভাল দল। ওদের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভাল। আমাদের জন্য ওটা হবে বাঁচা-মরার লড়াই, যাতে জিততেই হবে আমাদের।’

চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘গত ম্যাচে ভাগ্য সহায় ছিল না। তবে এই ম্যাচে ছিল। আজ ছিল আমাদের জন্য ডু অর ডাই। আমার ছেলেরা কৌশল অনুযায়ী এবং শতভাগ দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছে। যদিও ৯০ মিনিট খেলার মতো ফিটনেসে ঘাটতি ছিল তাদের। তবে উজ্জীবিত হয়ে খেলাতেই জয় এসেছে। এজন্য আমি খুব খুশি।’ মানিক বলেন, ‘আমরা ওদের ওপর চড়াও হয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। যোগ্যতর দল হিসেবেই জিতেছি। জাহিদের পারফর্মেন্স ছিল চমৎকার।’ রেফারিং নিয়ে অভিযোগ করলেন মানিকও, ‘রেফারি ইনজুরি টাইমে ৫ মিনিটের জায়গায় ৮ মিনিট খেলিয়েছেন।’

পরের ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা? ‘এই জয়ই শেষ জয় নয়। আমাদের পরের ম্যাচ আরও গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচে জিততেই হবে।’

চট্টগ্রাম আবাহনী তাদের প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। আর করাচী ইলেকট্রিককে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ঢাকা আবাহনী।