২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জনকণ্ঠ সম্পাদক

বনানীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জনকণ্ঠ সম্পাদক

জনকণ্ঠ সম্পাদকের

গুলশান-বনানী

পূজামণ্ডপ

পরিদর্শন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বনানী মাঠে স্থাপিত বিশাল পূজামণ্ডপে চোখ আটকে যাবে যে কারও। পুরো মাঠ ঘিরে বর্ণিল আলোকসজ্জার আয়োজন। আর মণ্ডপের বাইরে চোখ জুড়ানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ। বৃহস্পতিবার ছিল শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। তাই সন্ধ্যার পর থেকে আরতির ধূপ, কাসর ঘণ্টা, বাদ্যি-বাজনা

আর ভক্তদের পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপের চারপাশ। নানা রঙের আলোর প্রক্ষেপণে পুরো মণ্ডপে সৃষ্টি হয় এক দৃষ্টিনন্দন আলোকছটা। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে রাত সাড়ে আটটার দিকে নাতনি ও পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন জনকণ্ঠ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ)। মণ্ডপের ভিআইপি প্রবেশপথে তাদের স্বাগত জানান গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদের সভাপতি সুভাষ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু কে দাস, পরিষদের সাংস্কৃতিক কমিটির আহ্বায়ক মনোজ সেনগুপ্ত ও সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা। এ সময় জনকণ্ঠ সম্পাদক পূজার সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি পুত্রবধূ ও নাতনিকে নিয়ে মণ্ডপ পরিদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পূজার প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে নানা অনুষ্ঠান। এদিন রাত নয়টায় মঞ্চে ওঠেন বরেণ্য রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। জনকণ্ঠ সম্পাদক পুত্রবধূ ও নাতনিসহ ভিআইপি দর্শক সারিতে বসে বন্যার গান শোনেন। অনুষ্ঠানে বন্যা মোট তিনটি গান গেয়ে শোনান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশের আইজি একেএম শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞাসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন। তারা জনকণ্ঠ সম্পাদকের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এক ঘণ্টারও বেশি সময় মণ্ডপে অবস্থান করেন। রাত পৌনে দশটার দিকে পূজা পরিষদের কর্মকর্তারা তাকে বিদায় জানান।

সকাল থেকেই বনানী পূজামণ্ডপে সাধারণ ভক্ত-দর্শনার্থী ভিড় করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপে নানা বয়সী দর্শনার্থী, পূজারী ও ভক্তদের ঢল নামে। বাঙালীর সার্বজনীন এ উৎসবে যোগ দিতে মণ্ডপে এসেছিলেন অন্য ধর্মের মানুষরাও। সন্ধ্যায় মহিলাদের অংশগ্রহণে হয় আরতি প্রতিযোগিতা। রাতে ছিল খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক এই আয়োজনকে কেন্দ্র করেও জমে ওঠে আলাদা ভিড়। বসার জায়গা ছাড়িয়ে সেই ভিড় ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা মাঠেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলেছে মধ্যরাত পর্যন্ত। এতে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ছাড়াও গান করেন ফাতেমাতুজজোহরা, ফরিদা পারভীন, ফকির আলমগীর, শুভ্র দেব, মহাদেব ঘোষ, রুমানা ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাগর বাউল ও আব-ই-জান্নাত। বাঁশিতে সুর তোলেন গাজী আবদুল হাকিম। নৃত্য পরিবেশন করেন কবিরুল ইসলাম ও প্রিয়াঙ্কা রিসিল। বেসরকারী টিভি বৈশাখী চ্যানেল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর বনানী মাঠে পূজা উৎসবের আয়োজন করে আসছে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার সপ্তমীর রাত থেকে মণ্ডপে মানুষের ঢল নামে। সেই অনুযায়ী নানা প্রস্তুতিও ছিল তাদের। প্রতিদিনই ছিল প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় মণ্ডপ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ কয়দিন শান্তিপূর্ণভাবেই পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আজ শুক্রবার দুপুর দুইটায় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের করা হবে। গুলশান-২, গুলশান-১ নং চক্কর মহাখালী এয়ারপোর্ট রোড হয়ে আশুলিয়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। এর আগে সকালে পূজামণ্ডপে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মহিলাদের সিঁদুর খেলা অনুষ্ঠিত হবে।