২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীন ॥ সাত জেলায় ভাড়া নৈরাজ্য

গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীন ॥ সাত জেলায় ভাড়া নৈরাজ্য
  • ভাড়ার তালিকা বাসে নেই ্রইচ্ছেমতো আদায় ;###;গলা কাটছে ২৬ হাজার অটোরিক্সা;###;এক নবেম্বর থেকে বাড়ছে অটোরিক্সার ভাড়াও

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ভাড়া নিয়ে গণপরিবহনে চলছে গণনৈরাজ্য। বাস-মিনিবাসসহ রাজধানীর ৮৭ ভাগ যানবাহনে আদায় হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। সব মিলিয়ে সাত জেলায় বাস যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ভাড়া আদায়ের বিষয়টি একেবারেই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেছে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলছেন, ৪০ ভাগ বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কথা। সরকারের পক্ষ থেকে বার বার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হলেও কেউ কথা কানে নিচ্ছে না। অভিযান চালালে মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এক মাসেও সব বাসে ঝুলেনি নতুন ভাড়ার তালিকা। এদিকে বেপরোয়া অটোরিক্সা চালকরা। এক নবেম্বর থেকে ভাড়া বাড়ানোর কথা থাকলেও ইতোমধ্যে এই পরিবহনের মালিকরা জমা বাড়িয়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যাত্রীদের পকেট কাটছেন চালকরা। সিকিউরিটি লক ছাড়াই রাজধানীর তিনটি প্রতিষ্ঠান অটোরিক্সা মিটারে নতুন করে সফটওয়্যার ডাউনলোড শুরু করেছে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত মিটার প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়নি।

এদিকে সাময়িক জনভোগান্তি হলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি দাবি করেন, রাজধানীর গণপরিবহনগুলোর ৬০ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করছে। আর ৪০ শতাংশ আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। বিআরটিসি বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশন দেন ওবায়দুল কাদের। উল্লেখ্য, ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ অভিযান চালালে রবিবার সাতঘণ্টা নগরীতে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বাস-মিনিবাসে যাত্রীদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০০ ভাগ ও সর্বোচ্চ ৬০০ ভাগ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীতে চার হাজারের বেশি বাস ও মিনিবাস চলছে। বাস ও হিউম্যান হলারে গড়ে প্রতিদিন ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অটোরিক্সাসহ সকল গণপরিবহনে দৈনিক ৫০০ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে যাত্রীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাস-মিনিবাসসহ অটোরিক্সা বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। এক অক্টোবর থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হয় ঢাকায়। নানা কারণে চট্টগ্রামে পাঁচ অক্টোবর থেকে কার্যকর শুরু হয়েছে। নতুন করে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া এক টাকা ৭০ পয়সা ও মিনিবাসে এক টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন ভাড়া অপরিবর্তিত থাকছে।

বাসে-বাসে বাড়তি ভাড়া ॥ সায়েদাবাদ-সাভার রুটে চলা লাব্বায়েক পরিবহনে সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা করা হয়েছে। কমলাপুর থেকে স্বকল্প পরিবহনে মগবাজার পর্যন্ত ১৫ টাকা দাবি করা হচ্ছে নির্দ্বিধায়। মতিঝিল থেকে গাজীপুর পরিবহনে বনানী পর্যন্ত ১০ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। মতিঝিল থেকে চিড়িয়াখানা পর্যন্ত চলা নিউ ভিশন পরিবহনের বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা ঝুলতে দেখা গেছে। বাস কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত তালিকায় দেখা গেছে, মতিঝিল থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত দেখানো হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তা। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ টাকা। নতুন ভাড়া অনুযায়ী আসে ১১টাকা ৫৫ পয়সা। আর চিড়িয়াখানা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা। এখানে ভাড়া আসে ২৫ টাকা ৬ পয়সা। কমলাপুর থেকে মিরপুর রুটে চলা স্বকল্প পরিবহনে মগবাজার পর্যন্ত ১৫ টাকা দাবি করা হচ্ছে। অথচ গাড়িতে সরকারী ভাড়ার তালিকা নেই। ছালছাবিল ও অনাবিল পরিবহনে বাসাবো থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত ২৫টাকা আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। তবে তুরাগ পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। আট নম্বর বাসে নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আরামবাগ থেকে সিটি সার্ভিসে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত কখনও ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ঢাকা পরিবহন, বিকল্প পরিবহন, ইটিসিসহ মিরপুর রুটের বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে ভাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কমলাপুর থেকে বাহন, মিডওয়ে পরিবহনে সায়েন্সল্যাবরেটরি পর্যন্ত ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এক টাকা বাড়তি ভাড়া নিতে হলে অন্তত ১০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে হবে। অথচ এসব বাসে ভাড়ার তালিকাই চোখে পড়েনি। গাজীপুর পর্যন্ত চলা বলাকা পরিবহনে তালিকা নেই। গাজীপুর ও ঢাকা পরিবহনের চিত্র একই। ঢাকা থেকে মাওয়া, গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, ভুলতা, গাউছিয়া, কালিয়াকৈরসহ আশপাশের জেলা উপজেলায় বাড়তি বাস ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ মিলেছে। যদিও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) আওতায় হওয়ায় রাজধানীর আশপাশে ছয় জেলার বাস ভাড়াও কিলোমিটার প্রতি ১০ পয়সা করে বেড়েছে। বাস ও মিনিবাসে নেয়া হচ্ছে সমান ভাড়া। তা নিয়ন্ত্রণ বা দেখভালের কেউ নেই। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে- ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ ও চট্টগ্রাম মহানগর।

বিআরটিএ সচিব শওকত আলী জনকণ্ঠকে বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়া আদায় নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অভিযোগ পেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জনকণ্ঠকে বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা সকল পরিবহন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছি।

বাস্তবতা হলো বিশাল এই পরিবহন সেক্টরে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিআরটিএর জনবল নেই। সর্বোপরি কথা হলো সরকার অনেকটাই অসহায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কাছে। পরিবহন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিআরটিএর কাছে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জনকণ্ঠকে বলেন, ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে মালিকদের বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে নির্দেশ দেয়ার কথা জানান তিনি।

৮৭ ভাগ যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায় ॥ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, ১৭০টি সড়কে পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখেছে ঢাকা শহরের প্রায় ৮৭ ভাগ যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সংগঠনটির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে গণপরিবহনের ভাড়া ইচ্ছেমতো বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় যাত্রীদের সেবার বদলে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরীতে যে গণপরিবহন চলছে এগুলোর সেবার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এই গণপরিবহনে যাত্রীদের যাতায়াত করার ন্যূনতম পরিবেশ নেই। প্রতিবার সরকার যে পরিমাণ ভাড়া বাড়ায় তার তুলনায় চালক ও মালিকরা বেশ কয়েকগুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। এতে যাত্রীদের অবস্থা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান গণপরিবহনগুলো আইনকানুন কিছুই মানে না। এখানে মালিকদের এমন একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে যারা সরকারের কোন না কোন রাজনৈতিক আশ্রয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এক নবেম্বর থেকে বাড়ছে অটোরিক্সা ভাড়া ॥ সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী আগামী এক নবেম্বর থেকে বাড়বে অটোরিক্সার ভাড়া। অটোরিক্সায় প্রথম দুই কিলোমিটারে দিতে হবে ৪০ টাকা। মালিকদের জমা বাড়িয়ে ৬০০ টাকার স্থলে করা হয়েছে ৯০০টাকা। সর্বশেষ ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রামে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশনে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ২৫ টাকার স্থলে ৪০ টাকা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়াও তাই। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া সাত টাকা ৬৪ পয়সার স্থলে ১২টাকা করা হয়েছে। যানজট বা অন্য কোন কারণে রাস্তায় বিরতিকালীন সময়ে প্রতি মিনিটের ভাড়া এক টাকা ৪০ পয়সার স্থলে ২টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, সরকার নির্ধারিত অটোরিক্সার ভাড়া মেনে চলতে মিটার মেরামতের জন্য পরিবহন মালিকরা সময় চেয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের এক নবেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এ দিন থেকেই ভাড়া কার্যকর করার কথা জানান তিনি।

অটোরিক্সার নতুন ভাড়া কতটুকু কার্যকর হবে ॥ সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক নবেম্বর থেকে অটোরিক্সার ভাড়া কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে যেমন ভাড়া বেড়েছে তেমনি বেড়েছে জমাও। ১৫০ টাকার নিচে কোন ভাড়া নেই এই পরিবহনে। বিআরটিএ হিসেব অনুযায়ী রাজধানীতে ১৩ হাজার অটোরিক্সার লাইসেন্স দেয়া থাকলেও রাস্তায় চলছে সর্বোচ্চ সাত হাজার। চট্টগ্রামেও চলছে ১৩ হাজার অটোরিক্সা। চাহিদা বেশি হওয়ায় চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। চালকদের শোষণ করছেন মালিকরা। প্রতিটি অটোরিক্সা দুই শিফটে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফট রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। এতে চালকদের কাছ থেকে কোথাও এক হাজার চারশ’ কোথাও এক হাজার ৬০০টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাড়তি ভাড়াও কতটুকু কার্যকর হবে? এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম খসরু বলেন, সরকার নির্ধারিত ৯০০টাকা জমা কার্যকর করতে অটোরিক্সা মালিকদের নির্দেশন দেয়া হয়েছে। কেউ বেশি রাখলে বিআরটিএর পক্ষ থেকে লাইসেন্স বাতিলসহ আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে। ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, মালিকরা বাড়তি জমা না নিলে চালকরা যাত্রীদের সঙ্গে আশা করি প্রতারণা করবে না। তিনি বলেন, অটোরিক্সার সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। কোন মালিক বাড়তি জমা নিলে তাঁর গ্যারেজ সিলগালা করে দেয়া হবে। বেশি ভাড়া নিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চালকদেরও শাস্তি নিশ্চিত করার কথা রয়েছে। বাড়তি ভাড়া ও জমা রোধে সরকারীভাবে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে এই সেক্টরে ৮০ ভাগ নৈরাজ্য কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

সিকিউরিটি লক ছাড়া অটোরিক্সার মিটারে নতুন সফটওয়্যার ॥ বিআরটিএর নতুন নির্দেশন অনুযায়ী নতুন ভাড়া কার্যকর করার ক্ষেত্রে সকল অটোরিক্সার মিটারে নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে। পাশাপাশি সকল মিটারে সিকিউরিটি লক বাধ্যতামূলক। লক নিশ্চিত করা গেলে মিটার টেম্পারিং করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়া সম্ভব হবে না। অর্থাৎ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিআরটিএ এই নির্দেশনা জারি করেছে। মিটারে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক নবেম্বর থেকে অটোরিক্সার বাড়তি ভাড়া কার্যকর করার প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে মিটারে নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোডের কাজ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্রিস্টাল এজেন্সি, এস কে ট্রেডার্স ও অভিজাত ইন্টারন্যাশনাল এই তিনটি প্রতিষ্ঠান সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী সিকিউরিটি লক ব্যবহার করছে। বাকি আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান কেব এক্স, হলিটেড ইন্টারন্যাশনাল ও ডিস্ট্রিবিউশন ওয়ান লিমিটেড কোন প্রকার সিকিউরিটি লক ছাড়াই সফটওয়্যার ডাউনলোড করছে। বিষয়টি দেখতে বিআরটিএ পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, লক না থাকলে নতুন সফটওয়্যার থাকবে কাগজে কলমে। মিটার টেম্পারিং করে যাত্রীদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয়া হবে বাড়তি অর্থ।

ছয় প্রতিষ্ঠানে চলছে মিটার সংযোজন ॥ অটোরিক্সায় মিটারের ত্রুটি দূর করা, নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোডসহ যাবতীয় কাজের জন্য সরকারীভাবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয়টি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে। অটোরিক্সায় বাড়তি ভাড়া কার্যকর করতে ইতোমধ্যে রাজধানীর প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোডের চাপ বেড়েছে।

জানতে চাইলে ক্রিস্টাল এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওয়ালিউল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিন ৩০০ মিটারে সফটওয়্যার ডাউনলোড করার কেপাসিটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি মিটারে নতুন করে সফটওয়্যার লোড করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ কাজের জন্য বিআরটিএর পক্ষ থেকে ওয়ান টাইম লক ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। আমরা নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি। লক দেয়া না হলে অনেক সময় এক মাসের মধ্যে চালকদের মিটার টেম্পারিং করে যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে প্রতারণা করার সুযোগ থাকে। তিনি জানান, ঢাকায় মিটার প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হলেও চট্টগ্রামে এখনও হয়নি। অথচ এক নবেম্বর থেকে নতুন ভাড়ায় এসব পরিবহন চলার কথা রয়েছে। সব অটোরিক্সায় নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোডের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।