২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকার পাকি সাক্ষী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য পাঁচ পাকিস্তানী নাগরিকের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদ-াদেশের রিভিউ শুনানিতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এই পাঁচ নাগরিক সাফাই সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন। শুক্রবার পাকিস্তানের দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাঁচ পাকিস্তানীর বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিবাসন পুলিশের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তাদের নাম ও ছবি জমা দিয়ে কালোতালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিবাসন পুলিশ।

বাংলাদেশে যে পাঁচ পাকিস্তানী নাগরিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তারা হলেন পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মিয়া সুমরো, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি, ডন মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারপার্সন আম্বার হারুন সাইগল, স্থপতি মুনিব আরজুমান্দ খান ও ভিকারুন্নেসা নূনের নাতি রিয়াজ আহমেদ নূন।

এর মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইসহাক খান খাকওয়ানি এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের নিষিদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। তিনি আন্তর্জাতিক সাক্ষী হিসেবে তাদের সাক্ষ্য না নেয়ার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে সাজা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং বিএনপির অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানের ঘাটতি রয়েছে এবং মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উল্লেখ্য, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের শুনানিতে পাঁচ পাকিস্তানীসহ আটজনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়ার আবেদন করা হয় গত ১৯ অক্টোবর। পাঁচ পাকিস্তানী ছাড়া এক মার্কিন নাগরিক এবং দুই বাংলাদেশীর সাক্ষ্য আমলে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। এর আগে সাকা চৌধুরী ১৪ অক্টোবর সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রিভিউ পিটিশনের শুনানির জন্য আগামী ২ নবেম্বর দিন ধার্য করেছে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ।