২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমার শিক্ষকগণ

  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

স্মৃতি-১

পঞ্চাশের দশকের শেষার্ধ। ভোরে গ্রামের মক্তবে কোরান শিক্ষার পাশাপাশি নামাজ শিক্ষার তালিম নিচ্ছি। মক্তব থেকে ফিরেই আবার ছায়েরা ফুফুর (তিনি মাইনর স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে) সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা শুরু করেছি মাত্র। আমাদের গ্রামের পাশের কালীবাড়িতে চৈত্র সংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখের মেলা হতো। স্বাভাবিকভাবেই মেলার আয়োজন করত হিন্দু সম্প্রদায়। তখন আমাদের গ্রাম ও আশপাশের গ্রামে মুসলিম ও হিন্দু বসতি ছিল ফিফটি ফিফটি। কালীবাড়িতে পাশাপাশি দুটো মন্দির ছিল- শিব ও কালীমন্দির। হিন্দুরা শিব ও কালীপূজা করত। পাশের আমলকী তলায়ও পূজা হতো। এসবকে কেন্দ্র করে নানা সামগ্রীর পসরা বসত। আমাদের আকর্ষণও ছিল মেলা। মেলায় যেমন কদমা, মুরালী, চিনি-বাতাসার দোকান বসত, তেমনি হাতা-বেড়ি, খোন্তা-কুড়াল নানা গিরস্থালি পণ্যের পসরা বসত। আমাদের বেশি আগ্রহের বস্তু ছিল ঘুড়ি। নানান রঙের নানান প্রকারের ছোট-বড় ঘুড়ি। ঘুড়ি কেনার জন্য সারাবছর এক পয়সা-আধ পয়সা করে জমাতাম। পয়সা জমানোর ব্যাংক ছিল ঢেঁকিশালার বাঁশের খুঁটি। চুপি চুপি ছিদ্র করে তাতে পয়সা জমাতাম। এক মেলায় আমি ছোট-বড় দুটো ঘুড়ি-নাটাই কিনি এবং সারা বিকেল উড়িয়েছিলাম। পরদিন মক্তবে গেলে হুজুর জানতে চাইলেন আমরা কে কে মেলায় গেছি। মিথ্যে বলার শিক্ষা পাইনি, তাই আমরা কয়েকজন দাঁড়িয়ে বললামÑ আমরা গেছি। মনে হলো হুজুর আগে থেকেই খুব রেগেছিলেন। আমাদের মক্তবের পাশে খোলা আকাশের নিচে পূর্ব দিকে সূর্যমুখী করে দাঁড় করালেন। এক ঘণ্টারও বেশি হবে তাপদগ্ধ সূর্যের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল এবং যাতে মাথা নিচে না নামাতে পারি সে জন্য কপালে হাঁড়িভাঙ্গা চাড়া দিয়ে রেখে দেন। স্কুলে যাবার সময় না হলে হয়ত আরও অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।

স্মৃতি-২

পারিবারিক পরম্পরা অনুযায়ী প্রাথমিকের পড়া শেষ করে মাদ্রাসায় পড়ছি। আয়ুবের মিলিটারি শাসন চলছে। ব্রিটিশদের বিনা পয়সায় চা খাওয়ানোর মতো প্রায়ই আমাদের পাউডার দুধ দেয়া হতো। টিন ভর্তি। একটা ব্যাপার আমি বহুবার লিখেছি। আজও আবার লিখছি। শিক্ষকরা বললেন মিলিটারি শাসন, মার্শাল ল’ এসেছে, অতএব, পুকুর-খাল-বিলের কচুরিপানা এবং রাস্তার পাশের আগাছা সব নিজেদের সাফ করতে হবে। অধ্যক্ষ মরহুম মওলানা আয়ুব আলী, যিনি আমার মরহুম পিতারও শিক্ষক, ভগ্ন মনে আমাদের দিয়ে পুকুরের কচুরিপানা সাফ করালেন এবং মাদ্রাসার পাশের রাস্তার দুই পাশে আগাছা কেটে পরিষ্কার করালেন। তখন মাদ্রাসার উচ্চ মাধ্যমিকে (আলিম) পড়ছি। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলার পাশাপাশি ‘বালিথুবা ইয়ুথ ক্লাব’ গঠন করে গল্পের বই পড়ার পাশাপাশি বছরে অন্তত একটি নাটক মঞ্চস্থ করা শুরু করেছি। একবার ক্লাসে পাঠ্য কিতাবের মাঝে ‘দস্যু মোহন’ সিরিজের একখানা বই এক হুজুর দেখে ফেললেন। এই শিক্ষকও ছিলেন প-িত মানুষ এবং আমার বাবার সহপাঠী। সেবার ১৪ আগস্ট পাকিস্তান দিবসে চাঁদপুর নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে একটা হিন্দী ছবিও দেখেছিলাম। তখন থেকে প্রতি সপ্তাহেই গ্রামের বন্ধুরা মিলে চাঁদপুর যেতাম। একটা করে গল্পের বই কিনতাম আর সিনেমা দেখতাম। বাবার বন্ধু ঐ শিক্ষকের কানে এসব গেল এবং একদিন তিনি অফিসে ডেকে বেত দিয়ে কষে পেটালেন এই বলে যে, তিনি আমার বাবার বন্ধু এবং মৃত বন্ধুর ছেলেকে উচ্ছন্নে যেতে দিতে পারেন না। আমি মাদ্রাসায় যাওয়া ছেড়ে দিলাম। বললাম স্কুলে ভর্তি হব। এর পেছনে অন্য কারণও ছিল। গ্রামের বন্ধুরা দু’একজন বাদে সব স্কুলে ম্যাট্রিক দিচ্ছে, কেউ কলেজে। পরিবার থেকে কিছুতেই স্কুলে ভর্তি করতে রাজি হলো না। আমার বাবাও মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছেন, তাই তার ছেলেকেও মাদ্রাসায়ই লেখাপড়া করতে হবে এবং মাদ্রাসার লেখাপড়া শেষ করে তবেই ইচ্ছে করলে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়তে কারও আপত্তি থাকবে না। একদিন অধ্যক্ষ মাওলানা আয়ুব আলী আমাদের বাড়ি এলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্সিলিং করে বুঝিয়ে আমাকে আবার মাদ্রাসায় নিয়ে গেলেন। আর মাদ্রাসাবিমুখ হইনি, একটানা মোটামুটি ভালভাবে আলিম, ফাজিল, কামিল পাস করলাম এবং তারপর প্রথমে চাঁদপুর কলেজ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স এমএ শেষ করি এবং পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা বেছে নিই। সাংবাদিকতার সুবাদে বিদেশেও লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছিলাম। মাদ্রাসায় আমার ভাল করার পেছনে বাবার শিক্ষক মাওলানা আয়ুব আলী এবং সহপাঠী মাওলানা ইউনুসের তদারকি আমাকে সাহায্য করেছিল।

আমাদের সময় মাদ্রাসায় আরেকজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রয়াত যামিনী মজুমদার। মাদ্রাসায় হিন্দু শিক্ষক এ নিয়ে তখন কেউ প্রশ্ন তোলেনি। আজ হলে কাঠ মোল্লার দল তাকে হয়ত ঢুকতেই দিত না। আমাদের সময় ফাজিলের সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজী (অপশনাল) নিয়ে পাস করলে কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সুযোগ দেয়া হতো। তাই করেছিলাম আমি এবং কামিল (মাস্টার্স (হাদিস) ডিগ্রী) পাস করে সরাসরি চাঁদপুর কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়েছিলাম। প্রয়াত যামিনী মজুমদার শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। শুনেছি একমাত্র পুত্র ও একমাত্র কন্যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে এবং পুত্র ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে এবং কন্যা ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন। পুত্র ও কন্যা দু’জনই বার বার এসে তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি। তার স্ত্রীও অনেক আগেই গত হয়েছিলেন। এক মুসলমান গৃহকর্মী নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। তাকে যদি বলা হতো, স্যার আপনার ছেলেমেয়ে এত ভালভাবে প্রতিষ্ঠিত, সেখানে গেলে তো আপনার কষ্টের জীবন থাকত না। উত্তরে স্যার বলতেন, ‘কর্মজীবনের কষ্ট হয়ত শেষ হতো, মানসিক জীবনের কষ্ট বেড়ে যেত।’ আমি দেখেছি মাদ্রাসার শিক্ষক কক্ষে তারা একসঙ্গে চা-নাস্তা খাচ্ছেন, একটি বারের জন্যও কেউ বলেননি, যামিনী বাবু হিন্দু শিক্ষক। সত্যি আমরা তাকে শিক্ষক হিসেবেই দেখেছি, হিন্দু হিসেবে নয়। আজ খোলামনে বলছি, আমি বাঙালীর সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্মের একজন, যে একসঙ্গে মাদ্রাসা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ যেমন পেয়েছে, তেমনি মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়ে সক্রিয় অবদান রাখতে পেরেছে।

স্মৃতি-৩

চাঁদপুর কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বেশ কয়েকজন শিক্ষককে পেয়েছিলাম যাদের চেহারা এখনও মানসপটে ভেসে বেড়ায়, আমাকে প্রভাবিত করে, পথ দেখায়। এখনও যেন বুকের পাশে বাম হাতে বই চেপে করিডর দিয়ে ক্লাসে যাচ্ছেন আর আমরা দৌড়ে যার যার ক্লাসে বসছি। তখন ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরোধী আন্দোলন এবং ঊনসত্তরের ছাত্র ও গণঅভ্যুত্থান চলছে। আমরাও ক্লাসে কোন রকমে প্রক্সি দিয়ে বটতলায় ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা- তোমার আমার ঠিকানা’, ‘পি-ি না ঢাকা- ঢাকা ঢাকা’ জেলের তালা ভাঙব শেখ মুজিবকে আনব’, ‘জয় বাংলা’, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ সেøাগান দিচ্ছি, মিছিল করছি। আমাদের ক্লাস ফাঁকি তাই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো না। চাঁদপুর কলেজে শিক্ষকের মধ্যে মনে পড়ে বাংলার মাহমুদা খাতুন, আবদুস সাত্তার স্যারের কথা। মাহমুদা খাতুনকে অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও পেয়েছিলাম। আমার ইন্টারমিডিয়েটের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করেছিলেন। মনে পড়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মনিরুজ্জামান, অর্থনীতির মশিউর রহমান স্যারের কথা, মনে পড়ে ইংরেজীর এসএন রায়, হেলালুদ্দিন, ওয়ালিউল্লাহ ও আবদুস সাত্তার স্যারের কথা। সাত্তার স্যার মনে-প্রাণে বাঙালী মানসের ছিলেন, মিলিটারি আয়ুবের বেতারে ‘মুজিব ইজ এ ট্রেইটর, দিস টাইম হি উইল নট গো আনপানিসড’ বক্তৃতা শোনার সঙ্গে সঙ্গে হার্টফেল করে ইন্তেকাল করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমেই মনে পড়ে অধ্যাপক আবদুল হাই স্যারের কথা। ট্রেন দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। মনে পড়ে অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, জিসি দেব, গিয়াস উদ্দিন, আলিম চৌধুরীর কথা, যাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সামরিক জান্তার সহযোগী ঘাতক আল বদর বাহিনী বাসা থেকে চোখ বেঁধে বধ্যভূমিতে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এখনও এসব মুখ আমাকে তাড়িত করে। মনে হয় ¯েœহের পরশ দিয়ে চলেছেন।

আজও আদর্শবান-নীতিবান শিক্ষক যেমন রয়েছেন, তেমনি আদর্শহীন-নীতিহীন শিক্ষকও কম নেই। তারপরও বলব শিক্ষক শিক্ষকই। শিক্ষকরা যখন মনোকষ্টে ভোগেন তখন আমাদের সন্তানরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিককালে সরকারী বেতন স্কেল ঘোষণার পর যতদূর শুনছি শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা আমলাদের নিচে ঠেলে দেয়া হয়েছে। শুনেছি আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবার বাসনা ছিল। মেধাও তার ছিল, তবু তা না হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। তারই অর্থমন্ত্রিত্বের আমলে দেশ যেভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে সে সময় শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন ভাবা যায় না। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি যথেষ্ট দক্ষ এবং সফলÑ এটি তার শত্রুও স্বীকার করবে। হয়তোবা বয়সের ভার বইতে না পেরে আমলানির্ভর হয়ে পড়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ সজ্জন ব্যক্তি। বছরের পয়লা দিন বাচ্চাদের হাতে বই তুলে দিচ্ছেন, বছর বছর পাসের হার বাড়াচ্ছেন; কিন্তু তার আমলেই শিক্ষকগণ ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হলেন। অবশ্য তার কাছ থেকে তেমন কিছু আশা করি না। আমার এলাকার বন্ধু সহযোদ্ধা শহীদ জাভেদ মেমোরিয়াল হাইস্কুলটি পাকা করার জন্য তার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি করে দেননি। তার শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটিতে এমন লোককে নিয়েছেন যিনি তার গ্রামের স্কুলে মুক্তিযুদ্ধের প্রার্থী প্রথম হওয়া সত্ত্বেও এক রাজাকারকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেননি। শিক্ষা প্রশাসন আজ ঘুষের স্বর্গ। কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুস্থানীয় একজন সিনিয়র শিক্ষক, যিনি বঙ্গবন্ধু ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল এবং যুদ্ধাপরাধ বিচার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। বলছিলেন, শিক্ষকদের এভাবে অবমূল্যায়ন করা ঠিক হয়নি। বললেন, আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতা বঙ্গবন্ধুর মতোই শিক্ষকবান্ধব এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবু কেন এমন হলো? সরকারী সিদ্ধান্ত সংশোধন করে সিলেকশন গ্রেড এবং টাইম স্কেল প্রথা বাতিল না করে বহাল রাখলে শিক্ষকদের ক্ষোভের কিছুটা হলেও প্রশমন হতো।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের কতখানি শ্রদ্ধার চোখে দেখেন তা কে না জানে। আজ বলছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী হিসেবে যেমন তাঁকে দেখেছি, তেমনি দেখেছি সাংবাদিক হিসেবে। দেখেছি কোন শিক্ষক তাঁর অনুষ্ঠানে এলে মঞ্চ থেকে উঠে গিয়ে পাশে বসাচ্ছেন। আনিসুজ্জামান কিংবা প্রয়াত প্রফেসর নীলিমা ইব্রাহিম বা প্রয়াত প্রফেসর সালাহউদ্দিন স্যারের বেলায় আমি দেখেছি। দেখেছি উঠে গিয়ে তাদের কিভাবে রিসিভ করছেন। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেলায়ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কথা আমরা জানি। কতখানি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালেই বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক লাখ চার হাজার শিক্ষকসহ তাদের ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় এক স্বাক্ষরে সরকারীকরণ করে দিয়েছিলেন। শিক্ষকরা রাতারাতি ৪৫-৬০ টাকা বেতন থেকে বেড়ে মাসে সাড়ে ছয় শ’ টাকা বেতন পেতে শুরু করেন। বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীও সজ্জন এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। শুনেছি তিনিও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদা দিয়ে আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যেও আজ ক্ষোভ বিরাজ করছে। আমরা জানি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ বা ধরিত্রীর আদরের কন্যা শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের নজিরবিহীন সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়। শিবির, হিযবুল মুজাহিদীন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হামযা ব্রিগেড প্রভৃতি নামে তারা নাশকতা চালাচ্ছে। দু’জন বিদেশীকে গোপনে হত্যা করে নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আনা এবং তাতে করে অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকার ক্রিকেট টিম বাংলাদেশে খেলতে আসতে বারণ করা গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। দেশে আইএস নেই সত্য, তবে আইএস-এর আদর্শ ধারণকারীদের সংখ্যা একেবারেই কম নয়। এই অবস্থায় শিক্ষকদের ক্ষোভ মোটেই কাম্য ছিল না।

আমাদের আমলারাও দেশের জন্য কম অবদান রাখছেন না। বিশেষ করে ২০০১-এর নির্বাচনের পর এবং ২০১৩ ও ২০১৫-এর প্রথম ৯২ দিন খালেদা জিয়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর তা-ব প্রতিরোধে আমাদের সিভিল পুলিশ মিলিটারি আমলা এবং বিজিবির অবদান অস্বীকার করার নয়। বিনিময়ে তারা কম পাচ্ছে না। তবে সেক্রেটারির ওপর সিনিয়র সেক্রেটারি এই পদোন্নতি কেন বোঝা কঠিন। প্রশ্নটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কোন্ লেভেলে আছেন? এর সমাধান কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবাই আশা করেন বলে আমি মনে করি।

ঢাকা ॥ ২৩ অক্টোবর ২০১৫

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি জাতীয় প্রেসক্লাব

নির্বাচিত সংবাদ