২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায়-

রাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প খাত। এ পর্যন্ত দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মোট একুশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে আরও বেশিসংখ্যক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে অধিকতর উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এটা ঠিক যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলাকার সম্পদের পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠা ইতিবাচক ফল দেবে। কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনও নিঃসন্দেহে দূরদর্শী কাজ হবে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা মানেই নতুন বিনিয়োগ। পুরনো ধ্যানধারণা নিয়ে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যে কঠিন, তা বলাই বাহুল্য। প্রয়োজন পড়বে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার। নতুন বিনিয়োগে ব্যাপক শিল্পায়ন হলে দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিরাট সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে। সব মিলিয়ে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিষয়ে সমীক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়।

অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সব কিছুর আগে প্রয়োজন জমি। শিল্পায়নের জন্য জমি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোপূর্বে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি শিল্পায়নের জন্য অবিবেচনাপ্রসূতভাবে কৃষিজমি নির্বাচন করা হয়েছে। কিছুকাল আগে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে কৃষিমন্ত্রী দেশে কৃষি জমি ক্রমান্বয়ে হ্রাসের উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছিলেন। তিনি যথার্থই কারণ চিহ্নিত করে জানিয়েছিলেন, বেসরকারী খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের কারণে এটা ঘটছে। জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে কৃষি জমি রক্ষারও একটা সীমা আছে। ‘জমি অধিগ্রহণে সরকার যা ইচ্ছে তাই করতে পারে না’Ñ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সামান্যতম অবকাশ নেই। প্রতিবছর অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন, নদী ভাঙ্গন ও লবণাক্ততার কারণে হ্রাস পাচ্ছে শতকরা ১ ভাগ হারে কৃষি জমি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় ভূমি ব্যবহার কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা ও তদারকির জন্য একটি পৃথক সংস্থা গঠন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কৃষি জমিতে কোনভাবেই যাতে কোন শিল্প ও আবাসন গড়ে উঠতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেন।

যত্রতত্র শিল্পায়ন না করে কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষা করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল-ইপিজেড গড়ে তুলতে ২০১০ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেপজা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সরকারী উদ্যোগে সুনির্দিষ্টভাবে কৃষি জমি নির্ধারণ করা হলে সেই জমি কৃষি ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহার রোধ সহজ হবে। তাছাড়া ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন’ নামে খসড়া আইন চূড়ান্ত করার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করা চাই। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আগে সরকার প্রতিশ্রুত কৃষি জমি নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি সুসম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে শিল্পায়নের জন্য ভূমি ব্যবহারে এমন নীতির অনুসরণ জরুরী, যাতে অল্প জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এ জন্য প্রয়োজনে বহুতলবিশিষ্ট শিল্পভবন নির্মাণ করতে হবে।