২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের জীবনমুখী গান সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই ॥ মানিক

বাংলাদেশের জীবনমুখী গান সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই ॥ মানিক

সঙ্গীত অঙ্গনে সঙ্কট চলছেই। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ সঙ্গীতের সঙ্কট উত্তরণে কারও কোন মাথা ব্যথা আদৌ আছে বলে মনে হয় না। এই অবস্থাতেও জীবনমুখী বাংলা গান নিয়ে দেশের কয়েকজন তরুণ শিল্পী নিরীক্ষা করছেন। সঙ্গীতাঙ্গনের ঐতিহ্য ফিরে আনতে চেষ্টা করছেন। তেমনি একজন তরুণ তুর্কি কণ্ঠশিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিক। বহমান সময়ের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই তরুণ সম্প্রতি ‘অবাক শহরে’ এ্যালবামের মাধ্যমে নিজের শিল্প প্রতিভার জাত চিনিয়েছেন। এ্যালবামের ছায়ামানবী, রংবাজার, মিসকল ও শিরায় শিরায় গানের ভিডিওগুলো প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি তার ‘মা’ এ্যালবামের ‘দশ মাস দশ দিন’ ও ‘রাতের তারা’ গান দুটিও শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। এ বছর নচিকেতার সঙ্গে গাওয়া গান নিয়ে ‘আয় ভোর’ এ্যালবামের বেশ ক’টি গানের মাধ্যমে ফের আলোচনায় এসেছেন তিনি। সুন্দর কথার গাঁথুনি ও হৃদয় ছোঁয়া সুরের পাশাপাশি মানিকের গানের মূল উপজীব্য জীবনমুখিতা। ভিন্নধর্মী গানের এই শিল্পীর সঙ্গে সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়।

বর্তমানে আপনার ব্যস্ততা কি নিয়ে?

মানিক : বর্তমানে তরুণ গীতিকার সজীব শাহরিয়ারের কথায় পুরো একটি এ্যালবামের সুর করছি। এতে খ্যাতিমান তরুণরাই গাইবেন। এছাড়া সমসাময়িক অসঙ্গতি নিয়ে নিজের একটি একক এ্যালবামে হাত দিয়েছি। গীতিকার মাহমুদুল হাসানের কথায় আমার সুরে এমসিকিউ শিরোনামের একটি মেগা এ্যালবামে গান গাইলাম। এসবিএল সুমনের এ্যালবামে গান করলাম। এর বাইরে তিন নবীন শিল্পী কাওসার জামান, মোনায়েম ও তাসনীমের জন্য গান তৈরি করছি। এছাড়া একটি প্রাইভেট চ্যানেলে জব করছি। এই তো ।

সঙ্গীতাঙ্গনের সঙ্কটকালে গান নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?

মানিক : পৃথিবীজুড়েই সংঘাত-হাহাকার এবং মানুষের চিৎকার। ইতিবাচক ও শুদ্ধ কথামালার গান দিয়ে সকল হিংস্রতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে চাই। স্বপ্ন দেখি গানের ভাষায়-হাজার মতবাদের ভিড়ে একদিন সকাল আসবেই, বিপন্ন পৃথিবী প্রান্তিক জনপদ একদিন না একদিন জাগবেই সেই প্রতীক্ষায় আছি।

আপনার ‘আয় ভোর’ এ্যালবামের সাড়া কেমন?

মানিক : বেশ ভাল সাড়া পেয়েছি। নিজস্বতার কারণে বাংলাদেশের গ-ি ছাড়িয়ে গানটি পৌঁছে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে। তুমি আর আমি সর্বস্ব একঘেয়ে কথার বাইরে হওয়ায় এই এ্যালবামটি সমঝদার শ্রোতাদের কাছেও সাড়া পেয়েছে।

জীবনমুখী গানে তো জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় না?

মানিক : কথাটা সত্য নয়। প্রেমনির্ভর গানের শ্রোতা সাধারণত তরুণ-তরুণীরা। কিন্তু জীবনমুখী গানের শ্রোতা সব শ্রেণীর মধ্যে রয়েছে। জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো যথার্থভাবে তুলে ধরা গেলে জীবনমুখী গানও মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে। আমাদের গানে মূল্যবোধ খুব একটা ওঠে আসে না। তাছাড়া জীবনমুখী গানের ধারার শিল্পী সংখ্যাও কম। ফলে এ ধারাটা ততটা আলোকিত নয়। বলিউড ও দক্ষিণী সুরের প্রকট প্রভাবে সবার মধ্যে এখন ভিন্ন কিছু অনুসন্ধানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে জীবনমুখী গানের দিকেই ফিরে আসতে হচ্ছে সবাইকে।

জীবনমুখী গান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?

মানিক : আমি ব্যক্তিগতভাবে জীবনমুখী গানকে মানুষমুখী নাম দেয়ার পক্ষে। কারণ এসব গানে এমন সব অনুভূতি থাকে, অন্যসব গানে থাকে না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার জীবনমুখী গানের শিল্পীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি এ্যালবাম করার পরিকল্পনা আছে। যদি সম্মতি পাওয়া যায় তাহলে এই এ্যালবামে প্রতুল মুখোপাধ্যায়, কবির সুমন, অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা, নকুল কুমার বিশ্বাস, মাহমুদুজ্জামান বাবু, হায়দার হোসেন ও সায়ানের গানকে এক মোড়কে আনতে চাই। আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রয়োজনে ইংরেজী ভার্সনও করতে চাই গানগুলোর। ভবিষ্যতই বলে দেবে এত বড় পরিকল্পনা কতটুকু সফল হবে।

Ñসাজু আহমেদ