২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে জলদস্যু চক্র বেপরোয়া

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ বঙ্গোপসাগরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ জলদস্যু সিন্ডিকেট। প্রতিদিন ফিশিং বোটে ডাকাতি, গুলি, মারধর ও লুটপাট করে চলছে তারা। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে দিনে রাতে ডাকাতদলের তান্ডবের শিকার হচ্ছে বহু ফিশিং বোট। গুলিবিদ্ধ হচ্ছে নীরিহ মাঝি-মালারা। মহেশখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়ায় আস্তানা গেড়ে একাধিক জলদস্যু সিন্ডিকেট সাগরের কোন পয়েন্টে কারা তান্ডব চালাবে, তা প্রত্যেহ দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। ফিশিং ট্রলার থেকে লুন্ঠিত মাছ ও মেশিনারী পার্টস ক্রয়কারী জলদস্যুদের সহযোগি অসাধু ব্যবসায়ীরা বোটসহকারে কোথায় অপেক্ষা করবে তাও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে গডফাদারের তরফ থেকে। সোনাদিয়ার জলদস্যু জাম্বু বাহিনী, সরওয়ার বতইল্যা বাহিনী ও জলদস্যু সম্রাট খ্যাত নাগু মেম্বারের পুত্র নকিব বাহিনী ওসব সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বোট মালিক ও মাঝি-মালাদের জন্য সাগরে দস্যুতা আতঙ্ক ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। গত তিনদিন ধরে সাগরে বেপরোয়া দস্যুতা চালাচ্ছে ওসব সিন্ডিকেট। সাগরে জলদস্যুতা বন্ধ বন্ধ করতে নৌ-বাহিনীর সহযোগিতা দরকার বলে জানিয়েছেন বোট মালিক সমিতি।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া চ্যানেল থেকে অস্ত্রের মুখে এফবি ভাই ভাই নামে একটি ফিশিংবোটসহ ওই বোটের চালক শাকের মাঝিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর বুধবার এফভি নাসের ও এফভি সুরুজ জামাল নামে আরও দু’টি ফিশিংবোট দস্যুতার শিকার হয়। ডাকাতের গুলিতে আহত হয় দুই মাঝি-মালা। বৃহস্পতিবার ফের জলদস্যুদের তান্ডবের শিকার হয়েছে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার মমতাজ আহমদের মালিকানাধীন এফভি সাগর-২ নামে আরও একটি মাছধরার ট্রলার। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলি পয়েন্ট থেকে অন্তত ১৫ নটিকেল মাইল উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। জলদস্যুদের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে তিন মাঝিমালা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তারা হলেন-কক্সবাজার সদর খুরুশকুল কুলিয়াপাড়ার খোরশেদ আলম, মনজুর আলম ও বাঁশখালীর জসিম উদ্দিন। এছাড়া ডাকাতদলের মারধরে আহত হয়েছে আরও দশজন মাঝিমালা।

ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ জানান, সাগর শান্ত থাকায় সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকার জলদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে ডাকাতি করছে ফিশিং বোটে। প্রতিনিয়তই লুট করছে আহরিত মাছসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালীর সোনাদিয়ায় চিহ্নিত সশস্ত্র ডাকাতরা জড়ো হয়ে শক্ত ঘাঁটি বেঁধেছে। ইলিশ ধরার মৌসুমকে টার্গেট করে তারা জড়ো হয়েছে ওই দ্বীপে। সোনাদিয়ার জাম্বু, বতইল্যা ও নকিব বাহিনীর নেতৃত্বে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, হাটখালী, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার দস্যুরা সোনাদিয়া চ্যানেলে জড়ো হয়ে বেপরোয়া তান্ডবলীলায় মেতে উঠেছে। সোনাদিয়ার শাব্বির ডাকাত, আব্দুল মোনাফ, মোবারক, আনজু, জাহাঙ্গীর, বক্কর, সাদ্দাম, আবুল কালাম, আব্দুল বারি, শফি ডাকাত, কুতুবজোম নয়াপাড়ার ফরিদুল আলম প্রকাশ লেং ফরিদসহ অন্তত অর্ধশত জলদস্যু বর্তমানে ওই তিন সিন্ডিকেটের হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রতিনিয়ত চালাচ্ছে দস্যুতা ও লুটপাট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বোট মালিক জানান, সোনাদিয়ায় জড়ো হওয়া ডাকাতরা মুঠোফোনে চাঁদা চেয়ে হুমকি দিচ্ছে। টাকা না দিলে তার বোট লুট করা হবে বলেও জানান দিচ্ছে তারা। বঙ্গোপসাগরে সোনাদিয়া চ্যানেল থেকে অস্ত্রের মুখে এফবি ভাই ভাই ফিশিং নামে একটি মাছধরার ট্রলারসহ চালক অপহরণ করে নিয়ে মুঠোফোনে বোট মালিকের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করছে জলদস্যুরা।

শহরের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা অপহরণের শিকার ফিশিংবোটের মালিক ফজল করিম কোম্পানি জানান, ১৮ মাঝিমালা নিয়ে ১৫ দিনের খাবার ও রসদপত্র সহ তার ট্রলার গত ১৮ অক্টোবর সাগরে মাছ ধরতে যায়। সাগরে নামার দুই দিনের মাথায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে বোটটি। জেলা বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, ইলিশ প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো সাগরে মাছ ধরতে গেলে মৌসুমের শুরুতে অপহরণ, গুলিবিদ্ধ ও লুটপাটের খবরে জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ভর করছে। কক্সবাজার কোস্টগার্ড স্টেশনের পিটি অফিসার নান্নু মিয়া বলেন, সাগরে দস্যুতা আতঙ্ক ও উদ্বেগের বটে, এই দস্যুতা বন্ধে যৌথ অভিযান জরুরী। জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, এ বিষয়ে অবগত হয়েছে জেলা প্রশাসন। সাগরে দস্যুতা বন্ধে করণীয় ঠিক করতে যৌথসভা ডাকা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ