২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বসতবাড়ি দখল করতে মরিয়া ভূমিদস্যুরা

  • নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সীমানা বিরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ২৩ অক্টোবর ॥ হাতিয়ার সঙ্গে সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে রামগতি উপজেলার চরগাজি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে সীমানা নিয়ে বিরোধের সুযোগে জমি-বাড়ি দখলে নিতে সুর্বণচর-হাতিয়ার ও স্থানীয় কয়েক ভুমিদুস্যু মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে চরগাজী ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিন টুমচর, চর দরবেশ, চরলক্ষ্মী মৌজা নিয়ে সূর্বণচর-হাতিয়ার সঙ্গে সীমানা বিরোধ চলে আসছে। এ ৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা রয়েছে। এদের প্রায় সকলেই কৃষি ও মৎস্যজীবি। লক্ষ্মীপুরের প্রশাসন থেকে এক সনা লীজ নিয়ে ৩০ থেকে ৩৫বছর ধরে এ ভুমিহীন মানুষগুলো এখানে বসবাস করছেন। এদের ৯০ভাগ চরগাজী ইউনিয়নের ভোটার।

এ ৩টি মৌজা একাধিকবার রামগতির ভূমি হিসেবে গেজেট প্রকাশিত হলেও হাতিয়া প্রশাসন ওই ভুমি হাতিয়ার ‘বয়ারচর’ নামে গ্যাজেট প্রকাশ করে। পরে এর বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের যুগ্ন জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা করা হয়। যার নং-৪/২০০৯। এর প্রেক্ষিতে আদালত গত ৩ ফেব্রুয়ারী’১৫ পক্ষের মধ্যে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

এলাকাবাসী জানায়, গত ৮-৯ বছর থেকে হাতিয়া ও স্থানীয় কয়েক ভুমিদুস্যু জলদুস্যু, লাঠিয়ালদের নিয়ে ওই ৩টি মৌজার জমি, ধানক্ষেত, নদীঘাট দখলের চেষ্টা করে আসছে। গত ১৬ অক্টোবর হাতিয়ার হরনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান মোরশেদসহ কয়েকজন দক্ষিন টুমচর এলাকায় ভোটার তালিকা অর্ন্তভুক্তি করতে এলে এলাকাবাসী ধাওয়া করে। গত কয়েক মাস থেকে সার, বিধবা ভাতা, জমি দেয়ার মিথ্যা লোভ দেখিয়ে বেশ কয়েকজনের জাতীয় পরিচয় পত্রের কার্ড নিয়ে যায় হাতিয়ার একটি ভুমিদস্যু চক্র।

এর প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে চরগাজীর টুমচরের মোহাম্মদীয় তোগাছিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হাজারো চর ও এলাকাবাসী। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, সীমানা বিরোধের সুযোগে হাতিয়ার প্রভাবশালী মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে ভুমি ও জলদস্যুরা তাদেরকে উচ্ছেদ করে বসত-বাড়ি ও নদী ঘাট দখল করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। ভূমি দস্যুদের কথা না রাখলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।

এ ছাড়াও স্থিতিঅবস্থার নির্দেশ থাকলেও তাদের বসত-বাড়ি দখলে নিতে মাইনউদ্দিন বাজারে শতাধিক সন্ত্রাসী জড়ো করে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী জানান, এ জেলায় তিনি নতুন এসেছেন। সে জন্য সীমানা বিরোধের কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি নোয়াখালীর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে স্থানীয় গন মাধ্যম কর্মীদেরকে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে শান্তি পূর্ণ সমস্যা সমাধানে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। যে কোনো উপায়ে তিনি রক্তপাত এড়াতে বদ্ধপরিকর।