২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক নার্সিংয়ে ছাত্রী নির্যাতন

  • বোরখা-হিজাব ছাড়া অন্য পোশাক নিষিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ নওদাপাড়ায় অবস্থিত জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার জন্য এক ছাত্রী হোস্টেলের বাইরে যেতে চাইলে তাকে মারপিট করা হয়। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষের চেম্বারে ডেকে নিয়েও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা। তবে ছাত্রী তাকে উল্টো ধাক্কা মারায় সামান্য চড়ধাপ্পড় মারা হয়েছে বলে দাবি করেন নারী অধ্যক্ষ মেজর ডালিম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আবাসিক ছাত্রীরা জানান, মাঝে মধ্যেই অধ্যক্ষ মেজর ডালিম ছাত্রীদের মারপিট করেন। অশালীন গালাগালিজ করেন। এছাড়াও ছাত্রীদের দিয়ে হোস্টেলের ব্লক, সিঁড়ি ও টয়লেট পরিষ্কার করে নেয়। এসব পরিষ্কার করতে না চাইলে অধ্যক্ষ ছাত্রীদের মারপিট করেন। ওই হোস্টেলে ১৮০ আবাসিক ছাত্রী রয়েছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসার জন্য এক ছাত্রী হোস্টেলের বাইরে যেতে চায়। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে হোস্টেল পরিষ্কার করতে কাজে লাগার জন্য বলেন। এতে ওই ছাত্রী রাজি না হওয়ায় তাকে মারতে মারতে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে তার রুম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাকে অশালীন গালিগালাজ করাও হয়। এ ঘটনার পর সন্ধ্যার পরে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে নিজের চেম্বারে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখেন উপাধ্যক্ষ আসমা খাতুন। সেখানে ফের নির্যাতন করে তাকে মারাপিট করা হয়নি বলে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে শাহমুখদুম থানার ওসি অধ্যক্ষকে ফোন দেয়ার পর ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান হোস্টেলের ছাত্রীরা।

হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা আরও জানান, সম্প্রতি হোস্টেলে শর্ট কামিজ পরায় এক ছাত্রীকে মারপিট করে তার শরীর থেকে কামিজ ছিঁড়ে ফেলেন অধ্যক্ষ নিজে। এছাড়াও কোন ছাত্রী বোরখা কিংবা হিজাব না পরলে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালিজ করা হয়। সেখানে বোরখা ও হিজাব ছাড়া অন্য পোশাক নিষিদ্ধও করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ মেজর ডালিম বলেন, ছুটি না দেয়ার কারণে ওই ছাত্রী আমাকে ধাক্কা মেরে হোস্টেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় তাকে সামান্য চড়থাপ্পড় মারা হয়। আর সন্ধ্যার পর উপাধক্ষের কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে ছুটির দরখাস্ত লিখতে বলা হয়েছিল। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ। এদিকে ছাত্রীর কাজিম ছিঁড়ে ফেলার ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউট একটি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ইসলামিক নিয়ম কানুন চলে। সে কারণে সেখানে বোরখা ছাড়া বাইরে যেতে এবং শর্ট কামিজ পরা নিষেধ করা হয়েছে। ওই ছাত্রী নিষেধ অমান্য করায় তার কামিজ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে তাকে মারপিট করা হয়নি বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।