১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভক্তদের শ্রদ্ধা ভালবাসায় দেবী দুর্গার বিসর্জন

  • সিঁদুর খেলা আর আরতিকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভক্তদের অশ্রু বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভক্তরা তাকে বিসর্জন দেয়। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের

চট্টগ্রাম অফিস ॥ পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে শুক্রবার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সকাল ১০টায় প্রতিমা বিসর্জন হলেও সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয় বিকেল তিনটায়। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু করেন। এ সময় পতেঙ্গার সাগর তীর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এবার পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীর আরও তিনটি স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। তাছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছিল এ আয়োজন। তবে বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয় পতেঙ্গা সৈকতে। সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ পূজা ম-পের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করতে থাকেন ভক্তরা। দুপুর ২টার দিকে পুরো সৈকত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। ভক্তদের নাচে-গানে পুরো এলাকায় যুগপৎ আনন্দঘন ও করুণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ট্রাকযোগে প্রতিমা নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার নগরজুড়ে অন্যরকম পরিবেশ বিরাজ করে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি ঢাক-ঢোলের তালে অন্য ধর্মের লোকেরাও আনন্দে মেতেছে।

পতেঙ্গা ছাড়াও এবার কালুরঘাট কর্ণফুলী নদীর তীর, পারকি চর সমুদ্র সৈকত এবং এনায়েত বাজার গোয়ালপাড়া কেদারনাথ তেওয়ারী পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন হয়।

নওগাঁ ॥ ম-পে ম-পে সিঁদুর খেলা, আরতি এবং পরিশেষে শহরের ছোট যমুনা নদীতে প্রতিমাবাহী নৌকার শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কালিতলা দহেরঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয়। এবার নওগাঁ জেলার ৭২০টি পূজা ম-পে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হলো। পূজাতে জেলা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এবার চোখে পড়ার মতো।

বৃহস্পতিবার দেবীর দশমীবিহিত পূজা সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে সকল ম-পের প্রতিমা নিরঞ্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন ম-পে শুরু হয় নারী ভক্তদের সিঁদুর খেলা। মা দুর্গার বিদায় মুহূর্তে এই সিঁদুর খেলা ও ম-পে ম-পে আরতি খেলা ভক্তদের অনাবিল খুশিতে ভরে তোলে।

বিকেল ৩টায় শহরের প্রতিমাগুলো ছোট যমুনা নদীতে নৌকায় তোলা হয়। প্রায় অর্ধশত নৌকা নদীর উত্তরে বিজিবি ক্যাম্প এবং দক্ষিণে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত এক লাইনে চলাচল করে। এ সময় নদীর দু’তীরে হাজার হাজার ভক্ত-দর্শনার্থী দাঁড়িয়ে প্রতিমাবাহী নৌকার শোভাযাত্রা পরিদর্শন করেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে শান্তিপ্রিয় মানুষ এ উৎসবকে উপভোগ করে। শহরের লিটন সেতুর ওপর, নদীর দুই তীরে এবং নৌকাতে টহল পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থেকে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

রাঙ্গামাটি ॥ নবমী ও বিজয়া দশমী শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রতিমা বির্সজনে কাপ্তাই হ্রদের তীরে ভক্তবৃন্দের ঢল নামে। শহরের ১৩টি পূজা ম-পের প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা ট্রাক মিছিল করে। মিছিল শেষে স্ব স্ব মন্দির ঘাটে নিয়ে হ্রদের পানিতে প্রতিমা বির্সজন দেয়। এরার রাাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি পূজা ম-পে শারদীয় দুর্গোৎসব হয়েছে। অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব পালিত হওয়ায় ম-পে ম-পে ভক্তবৃন্দের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা শেষ হয়।