২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পর্যালোচনার জন্য পে স্কেল খসড়া ফেরত নিলেন অর্থমন্ত্রী

তপন বিশ্বাস ॥ ভেটিং ছাড়াই অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত গেল পে-স্কেলের খসড়া। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিস লেটিভ বিভাগের সচিব সহিদুল হক বুধবার নিজে নথিটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাতে দেন। অর্থমন্ত্রী নিজে বিষয়টি ভাল করে পর্যালোচনা করবেন। পরে পুনরায় এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

বিগত ২৬ অক্টোবর সোমবার দৈনিক জনকণ্ঠে ‘আমলাতান্ত্রিক রূপ নিয়েই প্রকাশ হচ্ছে পে-স্কেলের গেজেট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়। পর দিন ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকার ঘোষিত অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাকে না জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো বেতনক্রম সংক্রান্ত নথি মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের লেজিস লেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব সহিদুল হককে নিজ দফতরে ডেকে ফেরত দিতে বলেন। একই সঙ্গে নিজ বিভাগের সচিব মাহবুব আহমেদকে বেতনক্রম সম্পর্কে তার মতামত বা সুপারিশ বিষয়ে লেখা নথি তার (অর্থমন্ত্রী) কাছে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক লেজিস লেটিভ বিভাগের সচিব বুধবার (গতকাল ২৮ অক্টোবর) সকালে নথিটি অর্থমন্ত্রীর হাতে দেন। অর্থমন্ত্রী নিজেই পুরো বেতনক্রম পর্যালোচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার বহির্ভূত কর্মকর্তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ। তারা ইতোমধ্যে সভা-সমাবেশে সে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সরকারের কর্মচারী থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও ক্ষুব্ধ। তাদের মূল দাবি সিলেকশন গ্রেড ও টাইম-স্কেল পুনর্বহাল।

অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিলেকশন গ্রেড বা টাইম-স্কেল পুনর্বহাল না করে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া যায়, তা নিয়ে বিকল্প চিন্তাভাবনা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী চাকরির চার বছর ও ১০ বছর পূর্তিতে একটি করে সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্টরা উর্ধতন পদ পান না বটে, কিন্তু উর্ধতন পদের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। এখন চিন্তা করা হচ্ছে যে, এ ধরনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চার বছরের সুযোগ বাদ রেখে সন্তোষজনক চাকরির শর্তে দশ বছর পূর্ণ হলে উর্ধতন পদের আর্থিক সুবিধা দেয়া যায় কিনা; তবে এতে বড় বাধা সচিব কমিটি।

ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম-স্কেল পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল। সচিব কমিটি তা একেবারেই প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। অর্থ বিভাগও এটি বহাল রাখে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ অষ্টম বেতনক্রম মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের বেতন কিছুটা বাড়িয়ে দেন এবং সেভাবেই অনুমোদিত হয় অষ্টম বেতনক্রম। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করার কথা। এর আগে আইনী মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের লেজিস লেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠাতে হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছিল বেতনক্রম নিয়ে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন হবে। সে কমিটি গঠনও হয়েছে। এরই ফাঁকে অর্থমন্ত্রীকে অজ্ঞাত রেখে বেতনক্রম সংক্রান্ত নথি মতামতের জন্য লেজিস লেটিভ বিভাগে পাঠানো হয়। আর এ কাজটি করেছেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলী।

গত ৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনক্রম ঘোষণা করা হয়। কথা ছিল মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৬ অক্টোবর দেশে ফিরলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু তার আগেই প্রস্তাবটি গেজেট করার জন্য লেজিস লেটিভ ও সংসদ বিভাগে পাঠানোয় ক্ষোভ নিরসন তো দূরের কথা বরং একে আরও উস্কে দেয়া হলো।

ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পঠানো পে-স্কেলের খসড়ায় নানা বৈষম্য রয়েছে। এটি বহাল থাকলে অন্যান্য ক্যাডারের (লাইন পোস্ট) সৃষ্ট গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ এর ৫০টি পদ আবারও প্রশাসন ক্যাডারের দখলে চলে যাবে। বিভিন্ন সার্ভিসের বিধিমোতাবেক লাইন পোস্টে পদোন্নতি পেয়ে গ্রেড-৩ ও গ্রেড-৪ এ উন্নীত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে সিলেকশন গ্রেড পেয়ে হাতেগোনা কয়েক কর্মকর্তা গ্রেড-১ বা গ্রেড-২ তে উন্নীত হন। টাইম-স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় এতে বিভিন্ন টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তা গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ তে উন্নীত হতে পারবেন না। এর মধ্যে বিভিন্ন চীফ ইঞ্জিনিয়ার, মাউসি’র মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের পদসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে টেকনিক্যাল (বিশেষায়িত) এই সকল পদে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া যাবে না। এতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা দিয়ে এ জাতীয় টেকনিক্যাল পদ পূরণের আবশ্যকতা দেখা দেবে।

এছাড়া খসড়ায় বলা রয়েছে, প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ক্যাডার কর্মকর্তারা অষ্টম গ্রেডে অন্তর্র্র্র্ভুক্ত হবেন আর নন-ক্যাডারা হবেন নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এর আগে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ক্যাডার ও নন-ক্যাডাররা নবম গেডে অন্তর্ভুক্ত হতেন।

নির্বাচিত সংবাদ