২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধর্ষণের অভিনয় করে ফাঁসানোর চেষ্টা, নারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর লালবাগে ধর্ষণের অভিনয় করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগে রেনু বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। এ ঘটনার মূলহোতা নাজির আহম্মেদ ও অভিনয়কারী দুই নারীকে র‌্যাব খুঁজছে। বৃহস্পতিবার রাতে লালবাগের শহীদ নগর এলাকায় রেনু বেগমকে আটকের পর লালবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, লালবাগে চিকিৎসার নামে কিশোরী ধর্ষণ’ হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে তাদের একটি চৌকস দল। পরে র‌্যাবের একটি টিম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই ধর্ষিতাকে দেখতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ওই কিশোরী পালিয়েছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে র‌্যাব জানতে পারেন, ওই এলাকার বাসিন্দা নাজির আহম্মেদ ও রাসেলের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। আর ওই জমিতেই চিকিৎসক বাবুল আজম বিভিন্ন লোককে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। নাজির আহম্মেদ চিকিৎসক বাবুল আজম ও রাসেলকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য দুই-তিন মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করেন। এ সময় তার বাড়ির ভাড়াটিয়া রেনু বেগমের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই কিশোরীকে ভাড়া করে আনেন। পরে নাজির আহম্মেদ দুই কিশোরীর মধ্যে মরিয়ম নামে এক মেয়েকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের অভিনয় করে। পরে নাজির আহম্মেদ নিজস্ব লোক দ্বারা ভিডিওচিত্র ধারণ করে। আর দৃশ্য ভিডিওচিত্র এডিটিংয়ের মাধ্যমে নাজির আহম্মেদের চেহারায় চিকিৎসক বাবুল আজম ও রাসেলের চেহারা বসিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে। কিন্তু ভিডিওম্যান এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রেনু বেগম পুনরায় ওই মেয়েদের একজনকে বাসায় নিয়ে আসেন। তাকে ওই চিকিৎসক ও রাসেল ধর্ষণ করেছে বলে এমন অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা শুরুর আগেই মরিয়ম নামের মেয়েটি পালিয়ে যায়।

পরে র‌্যাব-১০, লালবাগ ক্যাম্প তদন্ত করে ধারণকৃত ভিডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করে। ক্লিপটির সূত্র ধরে রেনু বেগমকে আটক করা হয়। পরে তিনি স্বীকার করেছেন- তার বাড়িওয়ালা নাজির আহম্মেদ তাকে দিয়ে বাবুল আজম ও তার সহযোগী রাসেলকে ফাঁসানোর জন্য এ ঘৃণ্য কাজ করিয়েছেন। র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরিকল্পনাকারী নাজির আহম্মেদ ও অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।