২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রথম দিনেই অলআউট পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইংলিশ পেসারদের তোপের মুখে শারজা টেস্টের প্রথম দিনেই ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে গেছে পাকিস্তান। জবাবে কোন উইকেট না হারিয়ে ৪ রান করেছে ইংল্যান্ড। ব্যক্তিগত ৪ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ওপেনার মঈন আলি। রানের খাতা খোলার অপেক্ষায় তার সঙ্গী অধিনায়ক এ্যালিস্টার কুক। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি ড্র হয়। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান। সিরিজ হারতে না চাইলে ইংলিশদের এখানে জিততেই হবে। তাতে শুরুটা মন্দ হয়নি। বোলারদের নৈপুণ্যে প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষকে অল্পতে গুটিয়ে দিতে পেরেছে এ্যালিস্টার কুকের দল।

টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেন মিসবাহ-উল হক। শারজার উইকেট কি ব্যাট করার জন্য বেশ কঠিনÑ উত্তরটা যে ‘না’ অধিনায়ক নিজেই তার প্রমাণ দিয়েছেন। খেলেছেন ৭১ রানের চমৎকার এক ইনিংস। কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানরা যেন অকুল পাথারে পড়েন! রান তুলতে হাঁসফাঁস করে দলের বিপদ বাড়ান তুখের সব তারকা। কেউই স্বচ্ছন্দে প্রতিপক্ষ বোলারদের খেলতে পারেননি। দলীয় ৫ রানে প্রথম, ৪৯ রানে দ্বিতীয়, ৮৮ রানে তৃতীয়, ১০৩ রানে চতুর্থ ও ১১৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে কার্যত গর্তে ঢুকে যায় পাকিরা। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা আজহার আলিকে ফিরিয়ে শুরুটা করেন স্পিনার মঈন আলি। রানের খাতাই খুলতে পারেননি পাকিস্তান ওয়ানডে অধিনায়ক। মোহাম্মদ হাফিজ আর শোয়েব মালিক মিলে চেষ্টা চালিয়েছেন, তবে তা দীর্ঘ হয়নি। দ্বিতীয় উইকেটে ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ রান যোগ করেন তারা। দলীয় ৮৮ রানে মালিককে ফিরিয়ে শুরু করেন দিনের সেরা বোলার এ্যান্ডারসন। ভাল কিছুর ইঙ্গিত ছিল অভিজ্ঞ ইউনুসের ব্যাটেও। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩১ রান করে সুপার এ্যান্ডারসনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন পাকিস্তান টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের মালিক। এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইউনুস। ৫ রান করা আসাদ শফিক যখন সামিত প্যাটেলের বলে উইকেটের পেছনে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ১১৬ রানের মধ্যে টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ঘোরতর বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ভাগ্যিস এ পর্যায়ে অধিনায়ককে ক্ষণিকের জন্য সঙ্গ দিয়েছিলেন সরফরজা আহমেদ! নইলে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারত। ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ ৮০ রান আসে এই জুটি থেকে।

বোর্ড-নির্বাচকদের সকল অনুরোধ উপেক্ষা করে এই ম্যাচ শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণার দিয়েছেন মিসবাহ। ৪১-উর্ধ অধিনায়ক এখনও কেন দলের অপরিহার্য, সেটি আরও একবার দেখল পাকিস্তান। এ্যান্ডারসনের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন তিনি। ১৬০ বলে পাক অধিনায়কের ইনিংসটি ছিল ৭ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো। সরফরাজের ৩৯ পাকিদের দলীয় স্কোর ২শ’ পেরোতে সাহায্য করে। শেষদিকে ওয়াহাব রিয়াজ ০, ইয়াসির শাহ ৭ রান করে আউট হলে দ্রুত গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

দুরন্ত বোলিংয়ের পথে ১৫.১ ওভারে ১৭ রান দিয়ে সর্বাধিক ৪ উইকেট নেন এ্যান্ডারসন। স্টুয়ার্ট ব্রড, প্রায় তিন বছর পর ডাক পাওয়া স্পিনার সামিত প্যাটেল, আর মঈন আলি নেন ২টি করে উইকেট।