২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়া সঙ্কট

সিরীয় যুদ্ধ শেষ হোক সকল পক্ষই তা কামনা করে। কিন্তু সকল পক্ষই চায় তাদের স্ব-স্ব বিজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটুক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় রেখে কোন রাজনৈতিক সমাধানে রাজি নয়। অপর পক্ষে রাশিয়া, ইরান আসাদকে বাদ দিয়ে কোন সমাধান আশা করে না। ইউরোপ অভিমুখে অভিবাসী অভিযাত্রার ফলে এই সময় ইউরোপ এবং আমেরিকান বলয়ে সিরীয় সঙ্কটের আশু সমাধানের একটি আবহাওয়া এবং বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। তাই সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের ইতি টানার পথ খোঁজার তাগিদ উপলব্ধি করা হলেও সমাধান জটিল। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইরান, মিসর ও লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধানদের বৈঠকটি কোন সমাধান দিতে পারেনি।

দু’দিনব্যাপী আলোচনায় বাশারপন্থী এবং বিরোধী জোটের মধ্যকার বিরোধ দূর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়নি। বাশারকে রেখেই রাশিয়া ও ইরানের সমাধান চাওয়া অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই বৈঠকে অবশ্য সিরিয়ার প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের ভিয়েনার আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সিরিয়ার কাউকে ছাড়াই বৈঠকে বসায় সিরীয় বিদ্রোহী জোট সমালোচনা করেছে তাদের অংশগ্রহণ না থাকায়। এই প্রথম ইরান বৈঠকে অংশ নিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বিরোধিতার কারণে দু’দফা অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আলোচনায় ইরানকে বাদ দেয়া হয়। ২০১১ সালে শুরু হওয়া বাশারবিরোধী আন্দোলনের জের ধরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১২ সালে সিরীয় সরকারবিরোধী পক্ষ এবং বিদেশী শক্তিসমূহ একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কোন পক্ষই অর্জিত সমঝোতা অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্র অর্জনে আন্তরিক ছিল না। গৃহযুদ্ধের সুযোগে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং অভ্যন্তরীণ পারস্পরিক শত্রুমিত্র একাকার হয়ে পরিস্থিতিকে জটিল এবং সমাধান দুঃসাধ্য করে তোলে। সাম্রাজ্যবাদের কূটকৌশল এ এলাকায় চরমপন্থীদের আবির্ভাব ঘটায়। জঙ্গী আইএস নামের তথাকথিত খেলাফতের দাবিদারদের সশস্ত্র উপস্থিতি পরিস্থিতিকে সংঘাতময় করে তোলে। কথিত ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষে এবং সিরীয়া সরকারের বিপক্ষে ‘লড়াই’ করছিল তারা। সিরিয়া ও ইরাকের এক বিরাট অংশ দখল করে জঙ্গী আইএস। এখানে রয়েছে লেবাননের হিযবুল্লাহ, ইরানী সিভিল এবং সামরিক জনশক্তি, তুর্কি কুর্দিরা। পরাশক্তিও জড়িয়ে পড়েছে এই যুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে এ যুদ্ধে। আইএসের উত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান রয়েছে। ভূমধ্যসাগরের পূর্ব প্রান্তের প্রাচীন জনপদ সিরিয়া আজ বিধ্বস্ত। তাকে রক্ষার জন্য ভিয়েনায় ১২টি দেশ আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে আবারও বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ইউরোপে চলমান শরণার্থীর স্রোত সামলাতে না পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুরো ইউরোপের এই সঙ্কট সামলাতে ইইউ যদি কেবল এ সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর তৎপরতার দিকে চেয়ে থাকে তবে সঙ্কট আরও বাড়বে।

সিরিয়া, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বর্তমান অবস্থাকে সঙ্কটাপন্ন করে যারা তুলেছে, সমাধান তাদেরই হাতে। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের ইচ্ছা আকাক্সক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে এগোতে হবে। নতুবা বিপর্যয়ের মাত্রা আরও বাড়বে।