২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা অঘটন ঘটানোর রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ॥ তথ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে খালেদা জিয়া দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সচিবালয়ে মঙ্গলবার তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে আন্তর্জাতিক জঙ্গীবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন খালেদা ও তার পুত্র তারেক রহমান। শীর্ষ সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমসহ আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গীবাদী সংগঠনের সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

জঙ্গীবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলামত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে কর্তৃপক্ষ মামলার বিষয়টি দেখবে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বক্তব্যকে ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এখন খলনায়িকার ভূমিকা পালন করছেন। সামরিক শাসকের স্ত্রী ও হাওয়া ভবনের তারেক রহমানের মায়ের মুখে এসব কথা ভূতের মুখে রাম নাম ছাড়া আর কিছুই না। খালেদা জিয়া এখন রাজনীতির খলনায়িকার ভূমিকা পালন করছেন।

ইনু বলেন, জঙ্গীবাদী-জামায়াতিরা উনার পার্টনার। জামায়াতিদের নিয়ে যে গণতন্ত্রের ফর্মুলা উনি দিয়েছেন তা মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্রের কোনটির মানেই বোঝেন না। আর যদি কিছু বোঝেন তাহলে বুঝেও অসত্য বলেছেন। অতীতের মতো ডাহা মিথ্যা ও অসত্য উক্তি করেছেন। খালেদার উদ্দেশে ইনু প্রশ্ন রেখে বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক ও হিটলারি কায়দায় দেশ চালানো হলে খালেদা জিয়ার বিএনপি কীভাবে রাজনীতি করছে? খালেদা জিয়ার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে কীভাবে? খালেদা জিয়া জনসভা করছেন, দলীয় অফিসে যাচ্ছেন, নিজের অফিসে যাচ্ছেন, বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন, বিদেশে যাচ্ছেন। শুধু আগুন সন্ত্রাস চালাতে বাধা দিলেই গণতন্ত্র নেই বলে মায়াকান্না জুড়ে দেয়া হচ্ছে। বিএনপি সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও জঙ্গী কর্মকা-ের বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অঘটন ঘটানোর রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জিয়া জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করেছেন। বেগম জিয়া জঙ্গী-জামায়াত-রাজাকার নিয়ে জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। ক্ষমতার লোভে গণতান্ত্রিক পথ ছেড়ে রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, প্রকাশক দীপন হত্যা, আরও দুইজন প্রকাশকের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে আমিও মর্মাহত। একটা গোপন ঘাতক গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে সুফীবাদী ইসলামের সাধক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে চাইছে। এই গুপ্তঘাতক গোষ্ঠীকে খুঁজে বের করে দমন করার জন্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশ চালাচ্ছেন একজন লেডি হিটলার, লন্ডনে খালেদার ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক শাসকের স্ত্রী ও হাওয়া ভবনের তারেক রহমানের মা’ এর মুখে এসব কথা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ ছাড়া আর কিছুই না। বেগম জিয়া রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র কোনটির মানেই বোঝেন না, আর যদি কিছু বোঝেন তাহলে বুঝেও অসত্য বলছেন। দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলছে। সংবিধান, আইন, বিধি-বিধানে সবকিছু সুনির্দিষ্ট করে দেয়া আছে, সরকার-প্রশাসন কিভাবে চলবে, কার কতটুকু ক্ষমতা, এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী সংবিধান ও আইনের উর্ধে উঠে যা ইচ্ছা তাই করার কোন এখতিয়ার রাখেন না, এবং এমন কিছু করছেনও না।

তাছাড়া দেশে সত্যিকার অর্থে বিচার বিভাগ স্বাধীন। সরকার প্রশাসন সংবিধান বা আইনের বাইরে কোথায়ও কোন পা দিলেই যে কোন ক্ষতিগ্রস্ত বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন, প্রতিকারও পান। দেশে সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিত জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। বিএনপি আপন খেয়ালে কখনও নির্বাচন বর্জন করছে, কখনও অংশগ্রহণ করছে, কখনও বিজয়ী হচ্ছে, কখনও পরাজিত হচ্ছে। বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনে জিতলে নির্বাচন ভাল, হারলে খারাপ।

বিচার বিভাগ স্বাধীন। গণমাধ্যম স্বাধীন। সংসদ অধিবেশন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদে এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সরকার ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা নিয়মিত জবাবদিহি করছে, ভুল করলে মন্ত্রী, সচিবরা তুলোধুনো হচ্ছে, কখনও কখনও সংসদীয় কমিটি ভুলের জন্য কঠোর ব্যবস্থাও নিচ্ছে। বেগম জিয়া জনসভা করছেন, দলের অফিসে যাচ্ছেন, নিজের অফিসে যাচ্ছেন। বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন, বিদেশে যাচ্ছেন। শুধু আগুন সন্ত্রাস চালাতে বাধা দিলেই ‘গণতন্ত্র নেই’ বলে মায়াকান্না জুড়ে দেয়া হচ্ছে।

বেগম জিয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজকে মোটেও ভাল নেই, মোটেও শান্তিতে নেই। প্রতিনিয়ত জুলুম-অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’ ‘বাংলাদেশে এখন আইনশৃঙ্খলার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কথা হলোÑ এখন বাংলাদেশের মানুষ ভাল বা শান্তিতে না থাকলে, বেগম জিয়া পরিচালনায় আগুন সন্ত্রাস, নাশকতা, অন্তর্ঘাতের কাল কী ভাল ছিল? বাতাসে আগুনে পোড়া লাশের গন্ধ কী ভাল ছিল? উনার শাসনামল, হাওয়া ভবনের শাসনামল, খাম্বা শাসনামল কী ভাল ছিল? বিদ্যুতহীনতায় অন্ধকারে ডুবে থাকা কী ভাল ছিল? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার কাল, বাংলাভাইয়ের কাল, কিবরিয়া-আহসান উল্লাহ মাস্টার-মঞ্জুরুল ইমাম-মমতাজ হত্যার কাল কী ভাল ছিল? বেগম জিয়া বলেছেন, ‘সবকিছুতেই বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে’।

বিএনপি-যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী হেফাজতের সঙ্গে রাজনৈতিক সন্ধি করে যেভাবে আগুন সন্ত্রাস-অন্তর্ঘাত-নাশকতা হত্যা চালিয়েছে, তা নজিরবিহীন। ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে লাগাতার অবরোধ-নাশকতায় তিনি ৬৮ জনকে আগুন বোমায় হত্যা করে ২০০০ মানুষকে আহত করে, আটশ’রও বেশি যানবাহন পুড়িয়ে, রেল-লঞ্চ পুড়িয়েও তার শান্তি হয়নি। কারণ তিনি ক্ষমতায় যেতে পারেননি।

বেগম জিয়া বলেছেন, গত সাত বছরে তিন হাজার নেতাকর্মী খুন, ১ হাজার ২০০ শত গুম, ১২ জন ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। আমরা বেগম জিয়াকে এই তালিকা দেয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ করছি।

বেগম জিয়া, জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য হলোÑ উনি বা উনার দল আদর্শগতভাবেই জাতীয় ঐক্য বিরোধী। ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল এবং জাতীয় ঐক্যের আদর্শগত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, যা সংবিধানে ধারণ করা হয়েছিল, জিয়াউর রহমান সেই জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করেছিল। বেগম জিয়ার জাতীয় ঐক্য মানেই যুদ্ধাপরাধীদের হালাল করা। উনি জাতীয় ঐক্য না বলে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য বললে, উনার বলাটা সঠিক হবে।

বেগম জিয়া বলেছেন, ‘আন্দোলন ঢাকায় সেভাবে করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা শহরে বের হলেই গুলি করে দেয়। তবে সারাদেশে যে কী আন্দোলন হয়েছে, স্বাধীনতার সময়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তা হয়নি’। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বক্তব্য হলো বেগম জিয়ার এ বক্তব্য সত্যের কত বড় অপলাপ আর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম কত বড় অবমাননা তা আপনারাই বিচার করবেন। ঢাকায় বিএনপির কোন মিছিলে গুলি করে কয়জন কর্মীকে হত্যা-আহত করা হয়েছে? আর বিদ্যুত কেন্দ্র, রেললাইনের ফিশ প্লেট খুলে চলন্ত ট্রেনের ঘুমন্ত যাত্রী হত্যা, যানবাহনে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে নিরীহ নারী-শিশু-যাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা কি মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তুলনীয়?