২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইজিপির দক্ষ ব্যবস্থাপনা দুর্নীতি দূর করবে ॥ অর্থমন্ত্রী

  • ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ক্রয় সম্মেলন সমাপ্ত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারী ক্রয়ক্ষেত্রে ই-জিপির (ইলেক্ট্রনিক গবর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) দক্ষ ব্যবস্থাপনা দুর্নীতি দূর করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। তবে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার তিন দিনব্যাপী তৃতীয় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলিক সরকারী ক্রয় সম্মেলন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ঢাকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গত তিন দিনে সরকারী ক্রয়ের বিষয়টি নিয়েই অর্থাৎ এ প্রক্রিয়াকে কিভাবে দক্ষ করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সম্মেলনের অভিজ্ঞতা আগামী দিনে ভাল কেনাকাটায় সহায়ক হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সহিদ উল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন কাইমস ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি।

তিন দিনের সম্মেলনে ঢাকা ঘোষণার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো- প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা আরও উন্নত করতে হবে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্রয় প্রক্রিয়া শক্তিশালী ও উন্নত করতে একযোগে কাজ করতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় একটি সরকারী ক্রয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের মধ্যে সফল দেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যশূন্য হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে ৫-৬ বছর ধরে সরকার বিদ্যুত ও পরিবহন খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচী। দুর্নীতিমুক্তভাবে এ কর্মসূচী পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। মোট বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয় এই খাতে। কিন্তু তেমন দুর্নীতির অভিযোগ আসে না। এর কারণ আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করে থাকি। অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য কমলে বৈষম্যও কমবে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশে আর দরিদ্র লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে মোট জনসংখ্যার ৮ থেকে ৯ শতাংশ থাকবে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক। তাদের সহযোগিতা করতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এর প্রথম উদাহরণ হলো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। ক্রিস্টিন কাইমস বলেন, যে কোন উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রকিউরমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়া অনেক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কাজেই এক্ষেত্রে অনেক ভাল করতে হবে। বাংলাদেশ ই-জিপি সিস্টেমে ভাল করছে। তবে এখনও ৭০ শতাংশ ক্রয় কার্যক্রম ই-জিপির বাইরে রয়েছে। ই-জিপি সিস্টেম সবগুলো মন্ত্রণালয়ে চালু করতে হবে। তিনি বলেন, ই-জিপির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে, যা প্রকিউরমেন্ট সংস্কারে ভূমিকা রাখবে।

কাজুহিকো হিগুচি বলেন, বাংলাদেশ ই-জিপি কার্যক্রমে সফলতা দেখিয়েছে। এটিকে আরও বিস্তৃত এবং আরও বেশি কার্যকর করতে সহাযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সুশাসনের মূল কথা হলো স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া। এটি দুর্নীতি দূর করে। ভাল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্রয় কার্যক্রম ই-জিপির মাধ্যমেই স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করে থাকে।

সহিদ উল্লা খন্দকার বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় ই-জিপি কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ক্রয়ক্ষেত্রে ই-জিপি আরও বেশি শক্তিশালী করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতার আরও সুযোগ রয়েছে এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানায়, টেকসই ক্রয় কার্য সম্পাদনে উদ্ভাবন- এই মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত রবিবার শুরু হয় তৃতীয় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সরকারী ক্রয় সম্মেলন। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের সরকারী ক্রয়কাজে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাগণ, ঠিকাদার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্বব্যাংক ও এডিপির উর্ধতন কর্মকর্তাসহ দেশী-বিদেশী ৫০ জন প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সরকারী ক্রয় বিষয়ক এ ধরনের বৃহৎ সম্মেলন বাংলাদেশে এটিই প্রথম। এর আগে ২০১১ সালে নেপালে প্রথম ও ২০১৪ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সরকারী ক্রয় নেটওয়ার্কের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সিপিটিইউ’র মহাপরিচালক ফারুক হোসেন।