১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিআরবিতে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের নেপথ্যে টেন্ডার

  • ছাত্রলীগ নামধারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন নির্বিকার

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রেলের পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর সিআরবিতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। টেন্ডার সিডিউল কেনা থেকে শুরু করে টেন্ডার বাক্সে ফেলা পর্যন্ত সবকিছু চলছে অস্ত্রের ইশারায়। উর্ধতন কর্মকর্তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের সামনেই টেন্ডার নিয়ে বাগবিত-া, ধস্তাধস্তি এমনকি অবৈধ অস্ত্র ঠেকিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নেয়া হচ্ছে। কোতোয়ালি থানা পুলিশের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় কোন ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয় না সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

টেন্ডার বাগিয়ে নেয়ার নেপথ্যে রয়েছে, সিডিউল ড্রপিংয়ের সময় টেন্ডার ভেল্যুর ১০ শতাংশ চলে যায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পকেটে। এরপর ঠিকাদাররা বিল নেয়ার সময় হিসাব বিভাগ থেকেই চেক প্রদানকালে আরও ১০ ভাগ চলে যায় এসব সন্ত্রাসীর নামে। অভিযোগ রয়েছে, যে কোন ঠিকা কার্যের শতকরা ২০ ভাগ সন্ত্রাসীদের, ২০ ভাগ কর্মকর্তাদের। বাকি ৬০ ভাগের মধ্যে ৩০ ভাগের কাজ হয়। অবশিষ্ট ৩০ ভাগ ঠিকাদারের মুনাফা হিসেবে পকেটে যায়। ফলে রেলের সিভিল বিভাগের কাজ চলছে নিম্নমানের সামগ্রী আর উর্ধমূল্যের দরপত্র প্রক্রিয়া কার্যকরের মধ্য দিয়ে।

সিআরবির চীফ ইঞ্জিনিয়ার দফতর সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিভিল সাইটের বড় অঙ্কের টেন্ডার দাখিল হয় সিআরবির দফতরে। ফলে এ দফতরের প্রতি সন্ত্রাসীদের নজরদারি অনেক বেশি। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা সরকারদলীয় সেজে ফায়দা লুটে। টেন্ডার সিডিউল বিক্রির দিন থেকে শুরু করে বাক্সে ফেলা পর্যন্ত তাদের তত্ত্বাবধানে চলে টেন্ডার ড্রপিংয়ের নিয়ন্ত্রণ। ফলে কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কিছুই করার থাকে না। বরং নাজেহাল, উৎপীড়ন ও ভয়ভীতির মধ্যে থাকতে হয় টেন্ডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ঠিকাদাররা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঠিকাকার্য সম্পাদনের জন্য টেন্ডার সিডিউল ক্রয় করার যেমন স্বাধীনতা রয়েছে, তেমনি পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের ক্ষেত্রে রেলের নিবন্ধিত ঠিকাদার ব্যতীত বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ঠিকাদারদেরও অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এ দফতরে অন্য দফতরের ঠিকাদারদের টেন্ডার সিডিউল কেনার সুযোগ দেয়া হয় না। বরং তাদের দাবিয়ে রাখার জন্য ওইসব সন্ত্রাসী নিজেদের আস্ফালন আগেভাগেই দেখাতে শুরু করে। তবে রেলের নিবন্ধিত ঠিকাদাররা সন্ত্রাসীদের ম্যানেজ করে সিডিউল কিনতে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রে রেল কর্মকর্তারা কোন ধরনের টু-শব্দ করলে তাকে নাজেহাল হতে হয়। ফলে সিডিউল নিয়ে বা টেন্ডার ড্রপিং নিয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের জীবন বাঁচাতে টু-শব্দ করেন না।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রেল কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি চক্র রয়েছে যারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন তথ্য আগেভাগেই সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেন। এমনকি টেন্ডার সিডিউল মিটিং হওয়ার পরই তথ্য চলে যায় সন্ত্রাসীদের কাছে। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরাও আগেভাগে নজরদারি বাড়িয়ে সিডিউল ক্রয়, টেন্ডার ড্রপ ও সর্বনিম্ন দরদাতাকে চাপের মুখে রেখে নিজেদের দাবিকৃত অর্থ হাতিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে নতুন বা অন্য দফতরের ঠিকাদারদের কখনই দরপত্র দাখিল কিংবা সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার কোন পথ খোলা নেই। ফলে সন্ত্রাসীদের নির্দিষ্টকৃত ঠিকাদাররাই দফায় দফায় বিভিন্ন ঠিকা কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে সিআরবির সাত রাস্তার মোড় কেন্দ্রিক জামতলা বস্তি ও আশপাশ এলাকায় প্রতিনিয়ত সরকারদলীয় নাম ব্যবহার করে দুই গ্রুপের অনুসারীরা মহড়া দেয়। সুনির্দিষ্ট ও চিহ্নিত ঠিকাদারদের সশরীরে সিআরবি এলাকায় অবস্থান করে অর্থ আদায়ের অপতৎপরতা চলে। এক পক্ষ ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে শো-ডাউন শুরু করলে অন্য পক্ষ হামলে পড়ে। এক্ষেত্রে দুটি গ্রুপ অবস্থান নিলেই শুরু হয় সংঘর্ষ। গত ১ নবেম্বর উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আগেই কোতোয়ালি থানা পুলিশের কয়েক কর্মকর্তা সেখানে অবস্থানরত ছিলেন। মোটর সাইকেলধারী এসব কর্মকর্তা উভয় পক্ষের সঙ্গে মৃদু বাক্যব্যয় করে সটকে যায়। এর পরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ১২ অক্টোবরও পুলিশের সামনেই সংঘর্ষের উৎপত্তি হয় পলোগ্রাউন্ড মাঠের সামনের সড়কে। সেখানেও পুলিশের ভূমিকা ছিল দর্শকের।