১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাখাওয়াতসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি ১৭ নবেম্বর

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৭ নবেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক ছয় আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য দুইজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী। শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। অপরদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে সাখাওয়াতসহ নয়জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৭ নবেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।’ এছাড়া পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে মামলা পরিচালনা করার জন্য এ্যাডভোকেট কুতুব উদ্দিন ও এ্যাডভোকেট শুক্কুর আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ মামলায় সর্বমোট ১২ জন আসামি ছিল। এর আগে এ মামলার তিন আসামি আজহার মোড়ল ও আকরাম হোসেন এবং পলাতক মশিউর রহমানকে অভিযোগের সম্পৃক্ততা না থাকায় তাদের অব্যাহতি দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার প্রধান আসামি যশোরের কেশবপুরের সাখাওয়াত হোসেনকে গত বছরের ২৯ অক্টোবর এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া যশোরের বিল্লাল হোসেন, লুৎফর মোড়লসহ আরও দুইজনকে গত ১২ মে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর সাখাওয়াতসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অপর ৮ আসামি হলেন- মোঃ বিল্লাল হোসেন (৭৫), মোঃ ইব্রাহিম হোসেন (৬০), শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান (৬১), মোঃ আ. আজিজ সরদার (৬৫), আঃ আজিজ সরদার (৬৬), কাজী ওহিদুল ইসলাম (৬১), মোঃ লুৎফর মোড়ল (৬৯) ও আব্দুল খালেক মোড়ল (৬৮)। গত ১৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগ আনেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ২০১২ সালের ১ এপ্রিল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করার জন্য নথিভুক্ত হয়। ২০১৩ সালের ১৩ নবেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন আবদুর রাজ্জাক খান।

সাখাওয়াত ১৯৯১ সালে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হন সাখাওয়াত। এরপর ২০০১ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। এরপর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখন এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির নেতা তিনি।

প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ এনেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, অভিযোগ ১ : যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ। অভিযোগ ২ : একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চান্দতুল্লা গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা। অভিযোগ ৩ : কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মোঃ নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন। অভিযোগ ৪ : কেশবপুরের হিজলডাঙার আঃ মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন। অভিযোগ ৫ : কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।