১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ মুক্তমনা মানুষদের হত্যাকা-ের ঘটনায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একের পর ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকা-কে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা এবং এক প্রকাশক ও দুই ব্লগার-লেখকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবদুল আজিজ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শফিক-উজ-জামান, টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিনসহ দুই শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন- শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান জিয়া রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান প্রমুখ। তারা হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লালমাটিয়ার ঘটনার পর পরই হত্যার হুমকিপ্রাপ্ত অন্যদের নিরাপত্তা না বাড়ানোর কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার বার বলে আসছেন, এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতির কোন সম্পর্ক নেই। এ ধরনের কথা না বলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করুন।

এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষ, অসাম্প্রদায়িক মানুষ ও সাধারণ জনগণের ওপর সম্মান রেখে সসম্মানে পদ ছেড়ে চলে যান। না হয় এরপর এই ধরনের কোন হত্যাকা- ঘটলে আমরা আপনার পদত্যাগ দাবি করব। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে না পারলে আপনার এই পদে থাকার দরকার নেই।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, যে জামায়াত-শিবির একাত্তরে পরাজিত হয়েছিল, তারা এখন বিভিন্ন নামে আবির্ভূত হয়েছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাগুলো চালাচ্ছে। প্রতিটি হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃদু ভাষায় বলেন, হত্যাকারীরা চিহ্নিত, তাদের ধরে ফেলবেন। কিন্তু হত্যাকারীরা ধরা পড়ে না। ধরতে না পারলে সসম্মানে পদ ছাড়েন।

এ সময় রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, রোকেয়া হলের আবাসিক কোয়ার্টারে বেড়ে উঠেছেন প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন। সদা হাস্যোজ্জ্বল, নম্র-ভদ্র দীপন কারও ক্ষতি করতে পারে এমন কিছু আমাদের মনে পড়ে না। নিহতের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি তিনি বলেন, স্যার, আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আপনার সন্তানকে রক্ষা করতে পারিনি। সন্তান হারানোর পর আপনার বক্তব্যে আপনার আবেগ-অনুভূতি ও রক্তাক্ত হৃদয়ের যে অভিমান ঝরেছে তাও বুঝতে পারিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, হত্যাকারীদের দৃষ্টি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এর আগে তারা ব্লগারদের হত্যা করত, এবার তার প্রকাশকদের হত্যা করছে। এরপর যারা পড়তে চান তাদেরও হত্যা করা হবে। দু-একজন খুনীকে ধরার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতিত্ব দাবি করেন, আবার ব্লগারদের সংযত হওয়ার কথা বলেন। এমন বক্তব্য হত্যাকারীদের হত্যাকা-ে উৎসাহিত করবে।