২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিজ নিয়েই শুধু ভাবছে জিম্বাবুইয়ে

সিরিজ নিয়েই শুধু ভাবছে জিম্বাবুইয়ে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একদিকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে হারের দুঃসহ স্মৃতি পিছু নিচ্ছে। আরেকদিকে বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে এসে সর্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তায় আবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। এটাও তো কঠিন পরিস্থিতি। তবে কোন পরিস্থিতির দিকেই নজর নেই জিম্বাবুইয়ের। শুধু ভাবছে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি নিয়ে। দলের অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরাই জানালেন তা। বললেন, ‘আমরা শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নিয়েই ভাবছি।’

নিকট অতীতে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেটে প্রলয়ঙ্করী ঝড় উঠেছে। সেই ঝড় তুলেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। জিম্বাবুইয়েকে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজে হারিয়ে দিয়েছে। ওয়ানডেতে ৩-২ ব্যবধানে ও টি২০তে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে জিম্বাবুইয়ে। সেই হারের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে এখন বাংলাদেশে আছে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে ও দুই টি২০ খেলবে। ৭, ৯ ও ১১ নবেম্বর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৩ ও ১৫ নবেম্বর যথধাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় টি২০ হবে। এ সিরিজ খেলতে এসে জিম্বাবুইয়ে দেখছে কঠোর নিরাপত্তা! সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া পুরুষ ক্রিকেট দল ও দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা ক্রিকেট দল নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসেনি। আর তাই জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দলকে কঠোর নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। যেন ভালভাবে সিরিজ শেষ করে দেশে যেতে পারে জিম্বাবুইয়ে। তাতে করে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে অন্তত ক্রিকেটে যে কোন সমস্যা নেই তা বোঝানো যাবে। কিন্তু জিম্বাবুইয়ে এমন নিরাপত্তায় কী অস্থির হয়ে উঠবে না। হোটেলে সর্বক্ষণিক নিরাপত্তা। মাঠে যখন অনুশীলন করে জিম্বাবুইয়ে, তখন স্টেডিয়ামের প্রতিটি গেটে, প্রতিটি স্থানে পুলিশ, র‌্যাবের উপস্থিতি আছেই। তবে চিগুম্বুরা এসব নিয়ে একেবারেই ভাবতে রাজি নন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের স্মৃতিকে অতীত বলে ভুলে যেতে চান।

আর নিরাপত্তা যে কোন দলকে যে কোন দেশেই দেয়া হয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ‘আমি দলের ক্রিকেটারদের বলব, নিকট অতীতকে ভুলে যেতে। এটা নতুন একটা সিরিজ। আমাদের ফোকাস এই সিরিজটাকে ঘিরেই। তাছাড়া এখানকার উইকেট ও কন্ডিশনে আমরা অভ্যস্ত।’ সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে বলেছেন, ‘আসলে সব দেশেই নিরাপত্তা দেয়া হয়। একটি দল গেলে তাদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই নেয়া হয়। এখানেও তাই নেয়া হয়েছে। আমরা নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে রাজি নই। সিরিজ নিয়ে ভাবতে চাই। আমাদের কাজ হলো ক্রিকেট খেলা। আমরা সেটাই করতে চাই। নিরাপত্তার বিষয়টা তারাই দেখছেন, এটা যাদের দায়িত্ব।’ গত বছর নবেম্বর-ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল জিম্বাবুইয়ে দল। দুই ফরমেটেই টাইগারদের কাছে ধবলধোলাই হয় সফরকারীরা। টেস্টে ৩-০ ব্যবধানে আর ওয়ানডেতে ৫-০ ব্যবধানে হেরেছে। এবার এক বছর পর আবার সেই দলটির বিপক্ষেই খেলতে নামছে জিম্বাবুইয়ে। গতবছরের মতো এবার সিরিজটি হবে না বলেই জিম্বাবুইয়ে অধিনায়কের বিশ্বাস। দলে যে নতুন কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন। তাই সিরিজটা সম্পূর্ন নতুন হবে বলে মনে করছেন জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক। বলেছেন, ‘আমাদের দলে নতুন কয়েকজন ক্রিকেটার এসেছে। তারা নিজেদের মেলে ধরতে চাইবে। নতুন একটা ধাপে পৌঁছাতে চাইবে তারা। ক্রিকেটে যে কোন কিছুই হতে পারে। এই সিরিজটা হওয়াতে আমাদের জন্য ভালই হলো।’

সোমবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় একাডেমি মাঠে অনুশীলনে নামে জিম্বাবুইয়ে দল। কিছুক্ষণ ওয়ার্মআপের পর নেটে ব্যাট-বলের অনুশীলন সারেন তারা। ফিল্ডিং অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাদের প্রথম দিনের অনুশীলন। আজ দ্বিতীয় দিনের অনুশীলন শেষে বৃহস্পতিবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একটি একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জিম্বাবুইয়ে। এরপর ৭ নবেম্বর প্রথম ওয়ানডে দিয়ে সিরিজে খেলতে নামবে।

এ সিরিজে বাংলাদেশের কোন বিভাগকেই ছোট করে দেখছেন না জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক, ‘একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যাতে তাদের (বাংলাদেশের) কোনো বিভাগকে ছোট করে না দেখি। তারা কোন বোলারদের বেশি ব্যবহার করছে, তা খেয়াল রাখতে হবে। কন্ডিশন এবং বোলারদের খেলার ব্যাপারে আমরা দ্রুত মানিয়ে নিতে চাই। কোনো নির্দিষ্ট বিভাগকে নিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকতে চাই না। আমরা সব বিভাগেই আগের চেয়ে ভালো খেলছি। একই সাথে ভালো পারফর্ম করাও নিশ্চিত করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার বিসিবি একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জিম্বাবুইয়ে। এ ম্যাচ নিয়ে চিগুম্বুরা বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারা ভালো ব্যাপার। যারা এখানে এসেছে, তাদের জন্য কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে ম্যাচটি দারুণ কাজে দিবে। মানিয়ে নিতে পারলেও তারা তাদের নিজস্ব খেলাটা খেলতে পারবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অক্টোবরে টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসেনি অসিরা। এরপরই জিম্বাবুইয়েকে সিরিজ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। জিম্বাবুইয়ে দলটির জানুয়ারিতে বাংলাদেশে টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ সিরিজ খেলতে আসার কথা ছিল। যেহেতু অস্ট্রেলিয়া খেলতে আসেনি, তাই জিম্বাবুইয়েকে নির্ধারিত ওভারের ম্যাচগুলো এখনই খেলার প্রস্তাব দেয় বিসিবি। তাতে জিম্বাবুইয়ে রাজিও হয়। আর তাই এখন নির্ধারিত ওভারের খেলাগুলো হবে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হবে টেস্ট খেলা। আসন্ন সিরিজটি নিয়েই তাই ভাবছে জিম্বাবুইয়ে।