২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেল খুলনা

  • শাহরিয়ারের ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরি ॥ ইমরুল শামসুরেরও শতক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) এবার দ্বিতীয় স্তর থেকে আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশাল। দলটি শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিপক্ষে ড্র করেছে। আর প্রথম স্তরে রংপুরের বিপক্ষে শেষ রাউন্ডে ড্র করেও চ্যাম্পিয়ন হলো খুলনা। তবে আসল চ্যাম্পিয়ন ধরা হবে খুলনাকেই। প্রশ্ন উঠতে পারে কেন? বিসিবির পরিচালক ও টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খানই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, ‘বরাবরই এনসিএল নিয়ে একটি অপবাদ ছিল। এটি ‘পিকনিক’ ক্রিকেট। এই অপবাদ দূর করে প্রতিযোগিতা বাড়াতেই এবার দুই স্তরে খেলা হয়। প্রথম স্তরে গত মৌসুমের পয়েন্ট তালিকার সেরা চারে থাকা চার দল থাকে। দ্বিতীয় স্তরে পরের চার দল থাকে। দুই স্তরের পয়েন্ট তালিকায় সবার উপরে থাকা দল দুটিকে চ্যাম্পিয়ন ধরা হবে। তবে প্রথম স্তরে পয়েন্ট তালিকায় সেরা দলকেই ধরা হবে আসল চ্যাম্পিয়ন। এই স্তরের চতুর্থ স্থানে থাকা দলটি আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাবে। দ্বিতীয় স্তরে পয়েন্ট তালিকার প্রথম স্থানে থাকা দলটিকে চ্যাম্পিয়ন ধরা হবে, তবে সেটি শুধু প্রথম স্তরে আগামী মৌসুমে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার ক্ষেত্রে। দুই চ্যাম্পিয়ন দলকেই অবশ্য সমান ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেয়া হবে।’ সেই হিসেবে খুলনা ও বরিশাল এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে লীগের চ্যাম্পিয়ন তালিকায় নামটি থাকবে খুলনারই। যারা দুই মৌসুম পর ২০১২-১৩ মৌসুম পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শিরোপা উৎসবে মেতেছে।

প্রথম স্তর ॥ আগেরদিনই খুলনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়ে গিয়েছিল। শুধু বাকি ছিল ম্যাচ শেষ হওয়ার। চট্টগ্রামে রংপুরের বিপক্ষে ড্র দিয়ে ম্যাচটি শেষ হতেই শিরোপা উল্লাস করে খুলনার ক্রিকেটাররা। রংপুরকে ৩৪৪ রানে অলআউট করে দিয়ে ইমরুল কায়েসের ১০৭ ও জিয়াউর রহমানের অপরাজিত ৬২ রানে ৭ উইকেটে ২৮৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা। ম্যাচ থেকে ফল আসবে না তাই দুই দলের সমঝোতায় সেখানেই খেলা শেষ হয়। শিরোপাও জিতে নেয় খুলনা। ৬ ম্যাচে মোট ৫০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় খুলনা। ৬ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট পাওয়ায় আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় স্তরে খেলতে হবে রংপুরকে। ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রো’র দুর্ভাগ্যই বলা চলে। কক্সবাজারে এ দুই দলের মধ্যকার খেলাটি হলে হয়ত খুলনার শিরোপা জেতা কঠিনই হয়ে যেত। এ দুই দলও যে চ্যাম্পিয়ন রেশে ছিল। কিন্তু খেলা যখন হলো, তখন আর কিছুই করার থাকল না। চতুর্থদিনে গিয়ে খেলা হলো। আর তাতে ঢাকা মেট্রোই শুধু ব্যাটিং করতে পারল। শামসুর রহমানের ১০৫ ও মেহেদী মারুফের ৯৯ রানে ৭৫ ওভার খেলে ৩ উইকেটে ২৮৬ রান করতেই দিন শেষ হয়ে গেল। ম্যাচও হলো ড্র। ঢাকা মেট্রো ৪৪ ও ঢাকা বিভাগ ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে লীগ শেষ করল। আগামী মৌসুমে প্রথম স্তরেই খেলবে দুটি দল।

দ্বিতীয় স্তর ॥ শেষ রাউন্ডে রাজশাহী জিতলেও বরিশাল আগেই চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করে নেয়। দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে খেলার টিকেট পেয়ে যায়। এরপরও দুর্দান্ত খেলে যায়। বিশেষ করে দলের ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। ‘ব্যাক টু ব্যাক’ শতক করেন। চট্টগ্রামের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৬৮ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত ১৭৪ রান করেন। প্রথম ইনিংসে ৪৮৯ রান করেছিল বরিশাল। ভালই জবাব দেয় চট্টগ্রামও। প্রথম ইনিংসে মুমিনুল হকের ডাবল শতকে শেষপর্যন্ত ৪২৫ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে বরিশাল ৬ উইকেটে ৩০৩ রান করতেই দিন শেষ হয়ে যায়। ম্যাচও হয় ড্র। তবে বরিশালের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম স্তরে ওঠার স্বস্তি মিলল। ৬২ পয়েন্ট পেয়েছে বরিশাল। সেখানে রাজশাহী ৫৪, সিলেট ও চট্টগ্রাম ৩৮ পয়েন্ট করে পেয়েছে। বরিশাল ছাড়া এই স্তরের অন্য তিন দলকেই আগামী মৌসুমে দ্বিতীয় স্তরে খেলতে হবে।

স্কোর ॥ প্রথম স্তর ॥ রংপুর প্রথম ইনিংস তৃতীয় দিনÑ৩২৪/৭; তানভির ১০৫, ধীমান ৬৯, সোহরাওয়ার্দী ৬৬*; রাজ্জাক ৪/১২৪ ও চতুর্থদিন ৩৪৪/১০; সোহরাওয়ার্দী ৬৬, হালদার ১১*; রাজ্জাক ৫/১২৭, মুরাদ ৪/৬৬)।

খুলনা প্রথম ইনিংস ২৮৬/৭; ৭০ ওভার (ইনিংস ঘোষণা); ইমরুল ১০৭, জিয়া ৬২*, বকর ৩২; তানভির ২/৫৬)। ফল ॥ ম্যাচ ড্র। ম্যাচসেরা ॥ তানভির হালদার (রংপুর বিভাগ)। ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংস ২৮৬/৩; ৭৫ ওভার (ইমরুল ১০৫, মেহেদী ৯৯ (রিটায়ার্ড হার্ট), মেহরাব জুনিয়র ৫২*)। ফল ॥ ম্যাচ ড্র। দ্বিতীয় স্তর ॥ বরিশাল-চট্টগ্রাম ম্যাচ ॥ বরিশাল প্রথম ইনিংসÑ৪৮৯/১০; শাহরিয়ার ১৬৮, রাব্বি ১৩৩; নাবিল ৪/১০১ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৩০৩/৬; ৭০ ওভার (শাহরিয়ার ১৭৪*, আল আমিন ৬৮; ডলার ২/৩২)। চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসÑতৃতীয় দিনÑ ৪২৩/৮; মুমিনুল ২৩৯, নাফিস ৫৬; মনির ৩/৬৪, সোহাগ ৩/১৩৩ ও চতুর্থদিন ৪২৫/১০; ১২৩ ওভার (ইফতিখার ৩০; সোহাগ ৫/১৩৪)। ফল ॥ ম্যাচ ড্র। ম্যাচসেরা ॥ মুমিনুল হক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও শাহরিয়ার নাফিস (বরিশাল বিভাগ)।