২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিপাবলিকান প্রার্থিতা লাভে ফিওরিনা কেন আশাবাদী

  • মুসান্না সাজ্জিল

এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতার জন্য দাঁড়িয়েছেন ৬১ বছর বয়স্কা কার্লি ফিওরিনা। দলীয় প্রার্থীপদের লড়াইয়ে তিনিই একমাত্র মহিলা। হিউলেট প্যাকার্ড কোন্দানির এই সাবেক সিইও আইওয়ার মেয়ে। শেষপর্যন্ত দলের মনোনয়ন তাঁর ভাগ্যে জুটবে কিনা, সেটা অন্য প্রশ্ন। তবে আপাতত যে জিনিসটা দেখা যাচ্ছে তা হলো অধিকাংশ প্রার্থীর তুলনায় তিনি অপেক্ষাকৃত কম প্রতিকূলতার সম্মুখীন।

প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এসে ফিওরিনা জনগণের সামনে তার কর্মসূচী তুলে ধরেছেন। তিনি সরকারের ভূমিকা কিছু কাটছাঁট করতে চান। তেমনি সরকারী ব্যয়ও ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে চান। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তার সরকার হবে বারাক ওবামার সরকার থেকে অনেকাংশেই ভিন্ন। তিনি প্রতিটি বিভাগ ও সংস্থার বাজেট ঢালাওভাবে ছেঁটে ফেলবেন এবং এদের প্রতিটি ডলার ব্যায়ের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে বলবেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে ব্যয় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। কিন্তু তার ওই পদক্ষেপে ব্যয়বৃদ্ধি বন্ধ হবে। তিনি ওবামার স্বাস্থ্য পরিচর্যা কার্যক্রমে অর্থ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে সেই অর্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদনগুলোতে পাঠিয়ে দেবেন। এ দেশে বেআইনীভাবে আসা বহিরাগতদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে না। তবে নবাগতদের জন্য অনাগরিকের মর্যাদা উন্মুক্ত থাকবে। তিনি সরকারের কর্মসূচী বাস্তবায়নের বিষয়টি নজরদারি করা এবং অদক্ষতা চিহ্নিত করার জন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবেন।

ব্যবসায় জগতের একজন কর্মকর্তা হিসেবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিলেন ফিওরিনা, যার জন্য একপর্যায়ে হেইউট প্যাকার্ড তাকে সিইও হিসেবে বেছে নিয়েছিল। সিইও পদে মেয়েদের অধিষ্ঠান এক বিরল ঘটনা। ফরচুন ম্যাগাজিনের ৫শ’ সিইও’র মধ্যে মহিলার সংখ্যা মাত্র ২৩। পরবর্তীকালে হেইউট এ্যান্ড প্যাকার্ডের পরিচালকম-লীর সঙ্গে গুরুতর মতভেদের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। সমালোচকরা এ ঘটনাকে ফিওরিনার সিইও হিসেবে ব্যর্থতার নজির হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ফিওরিনা এগুলো গায়েও মাখান না। তিনি বলেন, তিনি তো আর সিইও পদে দাঁড়াচ্ছেন না, দাঁড়াচ্ছেন একজন প্রার্থী হিসেবে। তিনি দেশকে চালাতে চান।

রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা লাভের প্রতিযোগিতায় ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাস্ট এ পর্যন্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তার ঠিক পেছনে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত নিউরোসার্জন বেন কার্সন। তবে এ দুজনের কিছু সীমাবদ্ধতাও ফুটে উঠেছে। এদের পরে আছেন ফিওরিনা। প্রতিযোগিতার দীর্ঘ যাত্রাপথে এই তিনজনের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত বলে মনে করছেন অনেকে। মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় প্রথমদিকের রাজ্যগুলোতে তার অবস্থান ভাল। তবে জাতীয় পর্যায়ে সমীক্ষায় তার পক্ষে ভোটের সংখ্যা কমে গেছে। দ্বিতীয় দফা বিতর্কের পর তার সমর্থন বেড়ে ১৫ শতাংশ দাঁড়িয়েছিল। সেটা ছিল সিএনএন/ওআরসি’র জাতীয় সমীক্ষা। একই প্রতিষ্ঠানের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত সমীক্ষার ফলাফলে তার সমর্থন কমে ৪ শতাংশে দাঁড়ায়।

স্বঘোষিত বহিরাগতদের একজন ফিওরিনা চিরাচরিত প্রথায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। প্রায়শই যাত্রাবিরতি করছেন আইওয়াশ। সেখানে তিনি ৭০টিরও বেশি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। বাকপটু ফিওরিনার মতে, রাজনীতি এমন এক ব্যবস্থা সেখানে শক্তিমানদের এবং ক্ষমতার অন্দরমহলে বিচরণকারী ব্যক্তিদেরই পুরস্কৃত করা হয়। তিনি বহুলাংশেই এ সত্যটি এড়িয়ে যান যে, তিনি একজন সাবেক ক্ষমতাধর সিইও, যিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রীর পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জন ম্যাককেইনের মুখপাত্র ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু জিততে পারেননি।

কিন্তু রিপাবলিকান দলের প্রার্থিতা কি শেষ পর্যন্ত ফিওরিনার বরাতে জুটবে? বিভিন্ন মত ও পথের ৩০ জন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ কিছু দিন তাকে প্রার্থীদের ভিড়ে এক নম্বরে স্থান দিয়েছিলেন। তাদের র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে ছিলেন ট্রাম্প। এরপর যথাক্রমে- মার্কো রুবিও, বেন কার্সেন, জেব বুশ, টেড ক্রুজ, জন কাইশচ, ক্রিস ক্রিস্টি, মাইক হুকারি ও ব্যান্ড পল। এ অবস্থা ছিল সেপ্টেম্বরের শেষদিকে। ইতোমধ্যে দু’দুটি বিতর্ক হয়ে গিয়েছিল এবং প্রতিটি বিতর্কের পর তার জনসমর্থন বেড়ে গিয়েছিল। সবাই ধরে নিয়েছিল প্রার্থিতার লড়াইয়ে তিনিই জিতবেন। কিন্তু পরে তার প্রতি সমর্থন ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। তবে তারপরও ফিওরিনা আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকেই প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে রিপাবলিকান দল। অবশ্য ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটর ক্লেয়ার ম্যাককাসকিল দৃঢ়ভাবে মনে করেন যে, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য না হলেও রিপাবলিকান দলে তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে।

সূত্র : টাইম