১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় চার নেতা হত্যায় জিয়া ও মোশতাক জড়িত ॥ নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও শহীদ জাতীয় নেতা এম মনসুর আলীর পুত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কারাভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতা হত্যার ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত খুনী খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনীরা একই। যারা খুন করে আর যারা খুনীকে আশ্রয় দেয় তারা উভয়েই অপরাধী। তাই আইন লঙ্ঘনকারী খালেদা জিয়ার মুখে আইনের কথা মানায় না।

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রথমে সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়েও তারা শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা জাতীয় চার নেতা স্মৃতি যাদুঘর ঘুরে দেখেন। কারা কর্তৃপক্ষ জাতীয় চার নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন।

এতে অংশ নেন শহীদ পরিবারের সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই মোঃ আফসার উদ্দীন, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক, সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম, জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল ফজলুল কবির, ডিআইজি প্রিজন্স (ঢাকা) গোলাম হায়দার ও ডিআইজি (হেডকোয়ার্টার্স) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর কবির প্রমুখ।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, আপনি লন্ডনে বসে আইনের কথা বলে বেড়াচ্ছেন, নানা বুলি আওড়াচ্ছেন। যখন কারা প্রকোষ্ঠে জাতীয় ৪ নেতাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় তখন তিনি ও তার আইন কোথায় ছিল? আপনি তো পরবর্তীতে ক্ষমতায় ছিলেন। কই আপনি তো এ হত্যাকা-ের বিচার করলেন না? তখন কি দেশে আইন ছিল না? তিনি বলেন, এসব কারণে খালেদা জিয়ার মুখে আইনের কথা মানায় না।

তিনি বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া সকল সরকার আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আইনকে লাঞ্ছিত করেছে। জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকা-ের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। যা খালেদা জিয়াও বহাল রেখে নির্দয়ভাবে খুনীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন। জিয়া ও খালেদা জিয়া বিভিন্ন দেশে খুনীদের পুরস্কার দিয়ে পাঠিয়েছেন। খুন করে ও যারা খুনীকে আশ্রয় দেয় তারা উভয়েই অপরাধী। তাই আইন লঙ্ঘনকারী খালেদা জিয়ার মুখে আইনের কথা বলা ঠিক না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকারীদের মধ্যে বিদেশে পলাতক দ-প্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অনেক দেশের সঙ্গেই আমাদের বন্দী বিনিময় চুক্তি নেই। তাই এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনেই তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে জেলহত্যা মামলার দ-প্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যা বলেছেন তাই চূড়ান্ত। সে অনুযায়ী চেষ্টা চলছে।

এদিকে, দুপুরে সচিবালয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রে রয়েছেন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকা-গুলোর জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য ‘যথার্থ’। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, নিশ্চিত হয়েই বলেছেন। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনার নেপথ্য মদদদাতা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থ জোগানদাতাদের ছাড় দেয়া হবে না। দেশে অথবা দেশের বাইরে লন্ডনে কিংবা যেখানেই থাকুক, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া প্রকাশক ও ব্লগার হত্যাসহ আলোচিত হত্যাকা-গুলোতে জামায়াত-শিবির জড়িত বলে ইঙ্গিত করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারাই এসব হত্যাকা- ঘটাচ্ছে, যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। ‘তারাই’ বিভিন্ন সময়ে নাম পরিবর্তন করে এসব অপকর্ম করছে। অতীত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তারা সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আগে তারা রগ কাটত, এখন গলা কাটছে।