২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধনকে এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখার দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানিতে ইক্যুইটি ইনভেষ্টমেন্ট বা পেইডআপকে পুঁজিবাজার এক্সপোজার লিমিটের বাইরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগ ঐক্য পরিষদ। বুধবার ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ.কে.এম মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানের নিকট পাঠানো হয়। এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারের ধস এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং এর কুফল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভোগ করছে। বহু বিনিয়োগকারী নি:স্ব হয়ে বাজার ছেড়ে চলে গেছেন। প্রায় ২৪ জন বিনিয়োগকীরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অথবা আত্মহত্যা করেছে। আর যারা বেঁচে আছেন তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এছাড়া বাজার পতনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুঁজিবাজার বিমুখ নীতি বহুলাংশে দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তারপরও আমরা আশা ছাড়িনি। মাঝে মধ্যে পুঁজিবাজারে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে অনিশ্চয়তায় ভুগছে বিনিয়োগকারীরা। প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের একটি বিশেষ আস্থার জায়গা, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। অথচ বিভিন্ন নেতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে সেই আস্থা হারাতে বসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের উন্নয়নের ধারাকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ধারার পথে সামঞ্জস্য বিধান পূর্বক নীতিমালা ও দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলে, তা দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অবগত আছে যে, ২০১০-২০১১,২০১২-২০১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম আয়ের উৎস ছিল পুঁজিবাজার। অথচ বর্তমান অর্থবছরে তা কয়েক গুণ কমে গেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ প্রদান পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে গণ্য হবে। আইনে কোথাও ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ইক্যুইটি ইনভেষ্টমেন্ট বা পেইডআপকে পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসাবে যোগ করতে বলা হয়নি। অথচ অহেতুকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ইক্যুইটি ইনভেষ্টমেন্ট বা পেইডআপকে পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসাবে গণ্য করছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে সক্ষমতা কমে গেছে এবং পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি করছে। অথচ ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর অর্থ অব্যবহৃত থাকলেও বিভিন্ন প্রকার বিধি নিষেধের কারণে তারা তা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না। পুঁজিবাজারের বৃহত্তম স্বার্থে ব্যাংকগুলোর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ইক্যুইটি ইনভেষ্টমেন্ট বা পেইডআপকে পুঁজিবাজর এক্সপোজার লিমিট থেকে বাদ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী জানান, সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে যে ইক্যুইটি ইনভেষ্টমেন্ট রয়েছে তা পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে গণ্য যেন না করা হয় সে বিষয়ে স্পষ্টাকারে বাংলাদেশ ব্যাংকেরই সার্কুলারে বলা হয়। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক এটি অনৈতিকভাবে পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে দেখাচ্ছে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর এক্সপোজারের যে সময়সীমা রয়েছে সেটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এখন এই অনৈতিক কাজটি বাংলাদেশ ব্যাংকের না করা। এতে ব্যাংকগুলোর শেয়ার বিক্রি করে সমন্বয় করারও প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ আইনও ঠিকভাবে পরিপালন করা হলো আবার বাজারও অস্থিতিশীল হলো না।