১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সময়ের দাবি

ঢাকা ও দেশের অন্যত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। শাহবাগ ও লালমাটিয়ায় দিনেদুপুরে অফিসকক্ষে ঢুকে একজন প্রকাশককে জবাই করে হত্যা এবং তিনজনকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করার ঘটনায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। উভয়ক্ষেত্রেই ঘাতকরা নিহত ও আহতদের নানাভাবে হুমকি এমনকি অনুসরণ করে আসছিল বলে জানা গেছে। এদিকে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে, টার্গেট কিলিং বন্ধ করা সম্ভব নয়। শাহবাগ ও লালমাটিয়ার ঘটনার পর কয়েকদিন হয়ে গেলেও এখনও খুনীদের গ্রেফতার তো দূরের কথা, তদন্তকাজেরও তেমন অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা যায়নি।

এর আগে রাজধানীর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক হত্যা, রংপুরে জাপানী নাগরিক হত্যা, বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান হত্যা, সর্বোপরি হোসেনী দালানে মধ্যরাতে তাজিয়া মিছিলের প্রাক্কালে উপর্যুপরি বোমা মেরে দু’জন নিহত হওয়ার ঘটনায় র‌্যাব-পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে। এসব ঘটনায় হত্যার ধরন এবং সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দেখে প্রতীয়মান হয় যে, এসবই মৌলবাদীদের কাজ। এমনকি হত্যার দায় স্বীকার করে এবং আবারও হুমকি দিয়ে তারা টুইটার এ্যাকাউন্টে বিবৃতিও দিচ্ছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে একের পর এক হামলা ও হত্যাকা- সংঘটিত করে নিরাপদে সটকে পড়ায় পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী তাদের টিকিটিও ধরতে পারছে না; পরিকল্পনাকারী তথা মাস্টারমাইন্ডের ধরা তো দূরের কথা! ফলে একের পর এক ব্লগার, লেখক, প্রকাশক এমনকি ভিন্নমতাবলম্বী খুন হচ্ছে। এ অবস্থায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইসহ সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষ, ক্ষীপ্র ও চৌকস সদস্যদের সমন্বয়ে প্রথম কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। লালফিতার দৌরাত্ম্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে প্রস্তাবটি ঝুলে ছিল ছয় বছর ধরে। সম্প্রতি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিস্তার ঘটায় আবার নতুন করে শুরু হয়েছে বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়াটি।

১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গঠন করা হয় কাউন্টার টেররিস্ট ইউনিট। তারপরের ইতিহাস প্রায় সবারই জানা। দেশে দেশে সন্ত্রাসের বিস্তৃতি, ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা অনেক বেড়েছে। জন্ম নিয়েছে আল কায়দা, বোকো হারাম, লস্কর-ই-তৈয়বা, আল শাবাব, হরকত-উল-জিহাদ, জেএমবি, আনসার আল ইসলাম এবং সর্বশেষ আইএসসহ আরও নানা গোষ্ঠী ও উপগোষ্ঠী। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে-উপনামে বিভক্ত হয়ে তারা পরিচালনা করছে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম। আপাতত ব্যাপক পরিসরে হামলার চেয়ে তারা বেছে নিচ্ছে গুপ্তহত্যা, টার্গেট কিলিং, জনজীবনে আতঙ্ক ও ভয়ভীতি ছড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম। এ অবস্থায় তাদের মোকাবেলা করার জন্য সিটিইউ বা কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সদস্যদের হতে হবে অত্যন্ত ক্ষীপ্র, ধূর্ত ও সাহসী। হতে হবে সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সুসজ্জিত, আধুনিক যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে চৌকস। মার্কিন বাহিনীর এফবিআই বা নেভি সিলের প্রশিক্ষণের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে মাথায় রাখা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বর্তমানে শুধু দেশের নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও হুমকি। সে অবস্থায় প্রস্তাবিত সিটিইউ সদস্যদের প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বা অন্যত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশেই গড়ে তোলা যেতে পারে আন্তর্জাতিকমানের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এটাই এখন সময়ের দাবি।