১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিয়ানমারের নির্বাচন

বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচন ৮ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা সে নিয়ে এখনও সংশায়াচ্ছন্ন বিরোধীদলগুলো। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাও। ভোটাররা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও গ্রামাঞ্চলে ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত সংশয় বাড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী এসব গ্রামে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে। অপর একটি প্রদেশে বন্যা হয়েছে এই অজুহাত দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন আয়োজন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ২০১১ সাল থেকে তথাকথিত সংস্কারবাদী অসামরিক সরকার দেশটির শাসনভার গ্রহণ করলেও আড়াল থেকে সে শাসনের প্রায় পুরোটাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করছে সামরিক পদধারীরা। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই ক্ষমতাসীনরা সে দেশের ১০টি প্রদেশের মধ্যে একটি মাত্র প্রদেশের বন্যাকে ইস্যু করে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। আবার সংখ্যালঘু কয়েকটি গোষ্ঠীর সদস্যরা যাতে ভোট দিতে না পারে সে ব্যবস্থাও পাকা করা হয়েছে। শুরুর দিকে নির্বাচনী প্রচার মোটামুটি নির্বিঘœ থাকলেও নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নানা অনিয়ম বাড়ছে। বিভিন্নভাবে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা হামলার শিকার হচ্ছে। ভোটার তালিকা ভুলে ভরা। গোষ্ঠীগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়ছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের পাঁচ কোটি বিশ লাখ মানুষের মধ্যে ৪০ শতাংশই জাতিগত সংখ্যালঘু। ১৩৫টি সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের গুটিকয়েক সম্প্রদায়ের সদস্যদের ভোটার করা দূরে থাক, তাদের নাগরিকত্বের প্রসঙ্গটিই ঝুলে আছে। বিরোধী নেত্রী সূচি অবশ্য সংখ্যালঘুদের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। এই নির্বাচনকে মিয়ানমারের গণতন্ত্রের লিটমাস পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনে ৯৩টি দলের ৬ হাজার ১শ’ ৮৯ প্রার্থী ১ হাজার ১শ’ ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টে উচ্চকক্ষের আসন ২২৪টি। এর মধ্যে সামরিক বাহিনী মনোনীত ৫৬টি আসন রয়েছে। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সামরিক জান্তার সমর্থনপুষ্ট ও নিয়ন্ত্রণাধীন ইউএসডিপি ও বিরোধী দল অং সাং সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডির মধ্যে। নয়া প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের সুযোগ পেতে সুচির দলকে পেতে হবে ৩৩৩টি আসন। আর জান্তাদের পেতে হবে ১৬৭টি। কারণ তাদের সঙ্গে থাকবে সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত ১৬৬টি আসন। ফলে এ নির্বাচনে যে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড করা হয়নি তা স্পষ্ট। সাংবিধানিক মারপ্যাঁচে সুচি সরাসরি অংশ নিতে পারছেন না প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, তবে তার দল ক্ষমতায় গেলে স্পীকার হতে পারবেন। আর নিরঙ্কুশ সমতায় এলে তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। যা কার্যত উভয়কক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক সামরিক প্রতিনিধি থাকার কারণে কঠিন হবে। নির্বাচনে প্রায় ৩০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ভোটদানের অধিকার না দেয়ার পাশাপাশি বড় দলগুলোতে কোন মুসলিম প্রার্থী রাখা হচ্ছে না। এমনকি সুচির দলও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের মুসলিমবিরোধী মনোভাবের কারণে কোন মুসলিম প্রার্থী দেয়নি। যদিও দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ মুসলিমের বসবাস। সুচি সরকার গঠন করতে পারলেও সামরিক জান্তাদের প্রভাব বহাল থাকবেই। মিয়ানমারের জনগণ পরিবর্তন চায়। কিন্তু সে পরিবর্তন খুব সহজ হবে, তা নয়। তবু প্রতিবেশী দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক-এটা বাংলাদেশও চায়।