২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পানগাঁও কন্টেনার টার্মিনাল কার্যকরে সমন্বিত পরিকল্পনা হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনাল (আইসিটি) অধিক কার্যকর করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। কন্টেনার সার্ভিসের অতিরিক্ত ভাড়া হ্রাস, শিডিউল বিপর্যয় কমিয়ে আনা, ক্যাপিটাল যন্ত্রপাতিসহ সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্য পরিবহনে পানগাঁও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করাসহ বেশকিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আর এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি এনবিআরে এ সংক্রান্ত আন্তঃবৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে নৌপরিবহন, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ২৭ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও আসিটি এবং পানগাঁও আসিটি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত কন্টেনার সার্ভিসের ভাড়া কমিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে কমিয়ে আনতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

এ বিষয়ে এনবিআরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, কন্টেনার হ্যান্ডেলিংয়ে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে আমদানি-রফতানিকারকরা পানগাঁও রুট ব্যবহার করছে না। তাই প্রথমে কন্টেনার সার্ভিসের ভাড়া কমানো জরুরী। তাই বৈঠকে এ বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে যে, সার্ভিস চার্জ কমাতে হবে। পরিবহন খরচ কমানোর উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৩ সালের ৭ নবেম্বর কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল উদ্বোধন হয়। বিআইডব্লিউটিএ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে বন্দরটি নির্মিত হয়। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও কার্যত কোন কাজে লাগছে না। তেমন আয় না থাকলেও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ সব মিলে প্রতি মাসে সরকারের ৪০ থেকে ৪২ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, তারা ইতোমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে বন্দর চার্জ ৭০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে একটি রোডম্যাপ তৈরি করার বিষয়ে বলা হয়। যেখানে কী কী সুবিধা থাকলে ব্যবসায়ী মহল পানগাঁও বন্দর ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। সভায় উপস্থিত এফবিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, যদি পানগাঁও বন্দরে ঢাকা-চট্টগ্রামের রাস্তায় পণ্য পরিবহন খরচের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়, তাহলে এই বন্দর সকল ব্যবসায়ী ব্যবহার করবে।

গত ২৬ অক্টোবর নৌপরিবহনের জারি করা সার্কুলার অনুসারে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পানগাঁও আসিটি স্টেশনে ২০ টিইউএস খালি কন্টেইনার (খালি) ক্ষেত্রে ভাড়া ৭৫ থেকে বৃদ্ধি করে ১১০ মার্কিন ডলার এবং বোঝাই ২০ টিইউএস কন্টেইনারের ক্ষেত্রে ভাড়া ১৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ২২০ মার্কিন ডলার করা হয়েছে। অনুরূপভাবে ৪০ টিইউএস খালি কন্টেইনার (খালি) ক্ষেত্রে ভাড়া ১৫০ থেকে বৃদ্ধি করে ২২০ মার্কিন ডলার এবং বোঝাই ৪০ টিইউএস কন্টেনারের ক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০ থেকে বৃদ্ধি করে ৪৪০ মার্কিন ডলার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা কন্টেনার সার্ভিসের ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে কন্টেইনার খালাসে শিডিউল বিপর্যয় কমিয়ে আনার বিষয়ে সকলে একমত পোষণ করেন। বৈঠকে পানগাঁও স্টেশনকে আরও গতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ক্যাপিটাল যন্ত্রপাতিসহ সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্য আনা- নেয়া করতে পানগাঁও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়েও উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

পানগাঁও বন্দরে ৫৪০ বর্গমিটারের ভবনে চারটি টার্মিনাল ভবন রয়েছে, প্রতিটি চারতলা। ৭২০ বর্গমিটার গেস্ট হাউস, ১০০০ বর্গমিটার রিপেয়ার শপ আছে। ১ হাজার ২৫০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি জেনারেটর, ১৫০০ কেভিএ ক্ষমতার দুটি ট্রান্সফরমারযুক্ত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন রয়েছে। ফায়ার ফাইটিং পাম্প, ফুয়েল পাম্পসহ ৯০০০ বর্গমিটারের একটি ভ্যানপুল (খালি কন্টেইনার রাখার ইয়ার্ড) আছে। উদ্বোধনকালে বলা হয়েছিল, এখানে বছরে ১ লাখ ১৬ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব। কিন্তু পানগাঁওয়ের কাস্টম হাউসের দেয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১৪টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ স্টেশনে নোঙ্গর করেছে। এর মাধ্যমে মাত্র ৪২৪ কন্টেইনার খালাস হয়েছে।