১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা দাদন ব্যবসায়ীর পেটে

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার মৃত স্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে টানা ৪০ মাসে সম্মানী ভাতার প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাত করেছে এক দাদন ব্যবসায়ী। সম্প্রতি মৃত মুক্তিযোদ্ধার দরিদ্র চার সন্তান সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসে আবেদন করলে টাকা আত্মসাতের এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁস হয়।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা খগেন চন্দ্র বর্মন ২০০৩ সালের মার্চ মাসে মারা গেলে তার স্ত্রী জয়ন্তী রানী বিধি অনুযায়ী ভাতা উত্তোলন করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে জয়ন্তী রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে একই গ্রামের আজির উদ্দিনের ছেলে দাদন ব্যবসায়ী আয়নাল হক কৌশলে জয়ন্তীকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে সম্মানী ভাতার চেকটি বন্ধক নেন। এ অবস্থায় জয়ন্তী রানী ২০১২ সালের ৪ জুলাই মারা যান। তখন থেকেই ওই দাদন ব্যবসায়ী উলিপুর সমাজসেবা অফিসের জনৈক কর্মকর্তাকে ম্যানেজে নিয়ে দীর্ঘ ৪০ মাস নির্বিঘেœ সম্মানী ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করে। সরকার ২০১৩ সালে নতুন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ নীতিমালা জারি করেন। ওই নীতিমালায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানরা ভাতা পাবেন এ খবর মৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা জানতেন না। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে তার সন্তানরা গত ১৫ অক্টোবর স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নিতে গেলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জয়ন্তী রানীর মৃত্যুর খবর তার সন্তানরা ওইদিনই স্থানীয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে পৌঁছালে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে না জানানোয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উলিপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার ফয়জার রহমান টাকা উত্তোলনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জয়ন্তী রানীর মৃত্যুর খবর তার সন্তানরা তাকে জানায়নি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ম্যানেজার ওয়াহেদুননবী জানান, মুক্তিযোদ্ধা এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সমাজসেবা অফিসের। আমরা আদিষ্ট হয়ে সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকি মাত্র।

দুই স্ত্রীর জ্বালা সইতে না পেরে স্বামীর আত্মহত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ, ৪ নবেম্বর ॥ সাটুরিয়ায় দুই স্ত্রীর যন্ত্রণায় নাজিমুদ্দিন মিয়া (২৮) নামে এক দিনমুজুর বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার ভোরে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে মারা যান তিনি। মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন তিনি। নাজিমুদ্দিন উপজেলার ছনকা ঘোনাপাড়া এলাকার সোনামুদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস জানান, প্রায় ৮-৯ বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চানপাড়া এলাকায় বিয়ে করে নাজিমুদ্দিন। সেখানে পারিবারিক কলহের কারণে ওই স্ত্রী নাজিমুদ্দিনকে ডির্ভোস করেন। এরপর ওই একই উপজেলায় প্রায় ছয় মাস আগে আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন নাজিমুদ্দিন। ওই বিয়ের পর আবার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক হয়ে গেলে পুনরায় আবার তাকেও বিয়ে করেন তিনি। এরপর ওই দুই স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ ও যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করে নাজিমুদ্দিন।