১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিধবাকে ভারতে বিক্রি

  • যশোরে চার পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরের স্বামী পরিত্যক্তকে বাহরাইনে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে বিক্রি করে দিয়েছিল মানবপাচারকারী একটি চক্র। এরপর সেখানে ওই নারীকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে এসেছেন। এ ঘটনায় তিনি পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গত মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ। অভিযোগে জানা যায়, ওই নারীর বাড়ি সদর উপজেলার কামালপুর গ্রামে। তিনি স্বামী পরিত্যক্ত এবং দুই সন্তানের জননী। বেকার থাকায় সদর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে আব্দুল হান্নান, মেয়ে ফাতেমা বেগম, আব্দুস সালামের স্ত্রী মোছাম্মা ও মনিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া গ্রামের শওকত আলীর ছেলে শিমুল তাকে প্রলোভন দেখায়। বাহরাইনে নিয়ে ভাল চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয় তাকে। সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি তাদের কথায় রাজি হলে দুই লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এরপর ওই নারী পাসপোর্ট তৈরি করেন। এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে আসামিদের দুই কিস্তিতে এক লাখ টাকা প্রদান করেন। শর্ত থাকে যে বাহরাইনে যাওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করবেন। তবে আসামিরা তাকে জানায়, পাসপোর্টের দরকার নেই। তারা সরাসরি নিয়ে যেতে পারবে। এ ঘটনার পর ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ সকালে আসামিরা ওই নারীকে বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। ভারতের হায়দ্রাবাদে নিয়ে তাহমিনা নামে এক নারীর কাছে তাকে এক লাখ রুপীতে বিক্রি করে দেয় আসামিরা। তাহমিনা একজন দেহ ব্যবসায়ী। তার কাছে আরও কয়েক নারী রয়েছে। সে তাকে আটকে রেখে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে। ৬ মাস পর ওই নারী সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অভিযোগ করেন। তার কাছ থেকে সবকিছু শুনে পুলিশ তাকে শেল্টার হোমে পাঠিয়ে দেয়। পরে যশোর মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় চলতি বছরের ২৬ জুন তিনি দেশে ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে আসার পর তিনি আসামিদের কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু আসামিরা তাকে টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি ধমকি দেয়। এ ঘটনায় তিনি মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের আদেশে থানায় সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।