১৫ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সীমারেখায় রেখা

  • মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

উন্নতমানের সফটওয়্যারের বদৌলতে দেশের সবাই প্রায় সঙ্গীতশিল্পী বনে যাচ্ছে। কথা বলতে পারা যে কেউ গান রেকর্ড করে সফটওয়্যারে মিউজিক জুড়ে দিয়ে হয়ে যাচ্ছে শিল্পী, বের করছে গানের এ্যালবাম। এসব এ্যালবামের শিল্পী, সুরকার, গীতিকার, বাদক, শ্রোতা সব শিল্পী নিজেই। তরুণ শিল্পীদের এই যখন অবস্থা তখন উল্টো পথে হাঁটছেন রেখা। লালন সাঁইয়ের গান নতুন করে এ্যালবামবদ্ধ করে উপহার দেবেন শ্রোতাদের। ফোক ও লোকসঙ্গীতের প্রতি হৃদয়ের টান অনুভব করা লাইলুন নাহার রেখার তৃতীয় এ্যালবাম আসছে অচিরেই।

শাহ আবদুল করিমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এস এ টিভির ‘গহিনের গানে’ লাইভ গান পরিবেশন করেন। সঙ্গীতচর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ জুটেছে অনেক পুরস্কারও।

গানের এ্যালবাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১০ সালে আমার প্রথম একক এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। অডিও প্রতিষ্ঠান ‘গাঙচিল’-এর ব্যানারে প্রকাশিত ‘গোপন ভালবাসা’ নামের ওই এ্যালবামটির সঙ্গীত আয়োজন করেন শিল্পী ফকির শাহবুদ্দিন। সে সময় দারুণ সাড়া ফেলে এ্যালবামটি। এতে গান লিখেছিলেন শহিদুল্লাহ ফরাজীসহ আরও অনেক খ্যাতিমান গীতিকার। এছাড়া আগে-পরে আরও ৩টি মিশ্র এ্যালবামও আছে আমার।’ ঈদে রিংগার-এর ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে দ্বিতীয় একক এ্যালবাম ‘রঙের মানুষ’ বলে জানান শিল্পী রেখা। এ্যালবামটির বিষয়ে লাইলুন নাহার বলেন, ‘এ্যালবামটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন মুশফিক লিটু। গানের কথা লিখেছেন নাজির মাহমুদ, শহিদুল্লাহ ফরাজী, দেলোয়ার আরজুদা শরফসহ আরও অনেকে। এটির বেশিরভাগ গানই সুফিবাদের। আধ্যাত্মিকতাবাদের এ গানগুলো শ্রোতাদের মন ছুঁইয়েছে।’

সঙ্গীত নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা? শিল্পী বলেন, ‘শুদ্ধ সঙ্গীতের সঙ্গে থাকতে চাই। গান নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই।’

তরুণ শিল্পীরা বাউল ও ফোক গানে এগিয়ে আসছে। বিষয়টা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন রেখা। তিনি বলেন- বাউল গানই একান্ত আমাদের গান। কোন দেশ ও জাতি ঠিক ততটাই উন্নত, যতটা সমৃদ্ধশালী তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। বাউল শিল্পীদের যথাযত মূল্যায়ন, সরকারী অনুদান, বাউল গানের লাইভ অনুষ্ঠান বিশেষ দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে নিয়মিত আয়োজন করা, বাউলভিত্তিক রিয়্যালিটিশোর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিল্পীদের জায়গা করে দেয়া ও পরিচিত পাইয়ে দেয়ার প্রতি সংশ্লিষ্টদের নজর দেয়ার আহ্বান জানান এই শিল্পী।

সেইসঙ্গে তরুণদের স্বকীয়তা বজায় রেখে বাউলচর্চার কথা বলেন তিনি। বাউল গানের মূলভিত্তি হলো কথা ও সুর। মাত্রাতিরিক্ত মিউজিক গানের শ্রুতিমধুরতা নষ্ট করে, আবেদন কমিয়ে দেয়। তাই বাদ্য যেন সুরকে ছাড়িয়ে না যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে বলেন।

তরুণদের বিদেশী গানের প্রতি ঝুঁকে পড়া প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের বাউল গানের শাখাপ্রশাখা ব্যাপক বিস্তৃত। বিদেশী একটা চ্যানেলের গানের রিয়্যালিটিশোর উদাহরণ টানেন- ‘আমাদের সংস্কৃতির প্রতিই উপমহাদেশের সঙ্গীতজ্ঞদের আগ্রহ বাড়ছে। সা-রে-গা-মা-পা নামক রিয়্যালিটি শোতে বাউল গান তথা লালনের গানের আলাদা আয়োজন রাখা হয়। তরুণরা নানান গান শুনবে ঠিক আছে কিন্তু সেটা যেন দেশীয় গানের ক্ষতির কারণ না হয়। বিদেশ চর্চা যেন বিদেশ প্রীতির পর্যায়ে না যায়।

বাউল গানের সুর বিকৃতি করে অনেককে গাইতে দেখা যায়, যা বাউল গানের জন্য অপমানজনক। এ ধরনের শিল্পীদের বাউল গানে পর্যাপ্ত দীক্ষা নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন রেখা।

লাইলাতুন নাহার রেখার পরিবার ও বন্ধুজন আশা করেন সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে শুদ্ধ সঙ্গীতচর্চায় নিজেকে বিলিয়ে দেবেন। বাবা স্বপ্ন দেখতেন মেয়ে রেখা সঙ্গীতের মাধ্যমে দেশের মানুষের হৃদয়ে অবস্থান নেবেন। রেখা স্বপ্ন দেখেন বাবা ও শুভাকাক্সক্ষীদের স্বপ্ন পূরণ করবেন।