১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি’

কণ্ঠে যার মধু ভরা। ‘আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ভরাট কণ্ঠের এই গান শোনেননি এমন সঙ্গীত পিপাসু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভরাট কণ্ঠ, সুন্দর উচ্চারণ আর মায়াভরা গায়কিতে অসাধারণ এক সুরের ইন্দ্রজাল তৈরি করতেন তিনি। তবে, হেমন্তের জীবনে সাফল্য কিন্তু খুব সহজে ধরা দেয়নি। একবার মুম্বাই থেকে চুপি চুপি ট্রেনের টিকেট কেটে কলকাতায় পালিয়ে আসছিলেন। সিনেমার প্রযোজক সে যাত্রায় তাঁকে একবার শেষ মুহূর্তে তাকে আটকান। শশধর মুখার্জী বলেছিলেন, ‘তুমি এভাবে চলে গেলে আমি হেরে যাব। একটা হিট সিনেমা দিয়ে তুমি যেখানে খুশি চলে যাও। আমি বাধা দেন বা।’ আনন্দমঠ সিনেমায় গান গাইবার জন্য তিনি হেমন্ত মুখার্জীকে মুম্বাই নিয়ে গিয়েছিলেন। সিনেমা মুক্তি পেল কিন্তু ব্যবসা করতে পারল না। তবে হিট হয়ে গেল হেমন্তের কণ্ঠে ‘জয় জগদীশ হরে’ গানটি। এরপর তাঁর ‘নাগিন’ সিনেমায় গানের জনপ্রিয়তার রেকর্ড ভেঙ্গেছিল ঝাড়া বিশ বছর পর ‘ববি’ দিয়ে। অথচ শুরু থেকেই সুপ্রসন্ন ছিল না হেমন্ত মুখার্জীর। রেকর্ড কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন অনেক। জলসায় গান গাইবার জন্য ঝাড়া চার ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সুযোগ না দিয়ে বলেছে, ‘আরে ধুর মশাই, আপনার গান কে শুনবে? দেখছেন না পঙ্কজ মল্লিক এসে গিয়েছেন। তার গান শুনে বাড়ি চলে যান।’ হেমন্ত ভেবেছিলেন সাহিত্যিক হবেন। তাঁর কয়েকটি লেখা বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছিল। একটু চেষ্টা করলে হয়তোবা সাহিত্যিক হয়েও যেতে পারতেন। তবে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাসের পর যাদবপুর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। কপালগুণে সহসাই রেডি ও থেকে ডাক পেলেন। বেশ কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড বের হলো। লতা মঙ্গেশকর আর আশা ভোঁশলে কোনদিন হেমন্তের কাছ থেকে অর্থ নেননি। ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেই পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছিলেন এই ভরাট কণ্ঠের জাদুকরী গায়ক। ২৭ সেপ্টেম্বর ভোর রাত থেকেই কলকাতার আকাশে বাতাসে ঘরে ঘরে ভীষণ জোরে জোরে বাজছিল ‘তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি’। সত্যিই হেমন্ত ছিলেন ভীষণভাবেই ছিলেন। এখন ও আছেন তাঁর গানের মধ্যদিয়ে বাঙালীর মনের মণিকোঠায়। থাকবেন চিরদিন।

ইমরান হোসেন

এই মাত্রা পাওয়া