২১ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঁচ শতাধিক লোক জিয়া পরিবারের মিলাদে

  • যাননি কোন বিএনপি নেতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া পরিবার আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে যাননি কোন বিএনপি নেতা। বুধবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমান এবং তার পিতা-মাতা ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ পরিবারের মৃত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল। মিলাদ মাহফিলে আহমেদ কামাল বলেন, যদি কোনদিন রাজনীতিতে আসি সবাইকে জানিয়ে আসব।

এদিকে জিয়ার ছোট ভাইয়ের আয়োজনে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তেমন কিছু ঘটেনি। গুঞ্জনের কারণ ছিল, কিছুদিন আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল। তাকে দেখতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির কোন নেতা হাসপাতালে যাননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহমেদ কামাল বলেছিলেন, বিএনপিতে জিয়ার আদর্শ নেই। সে কারণে এ মিলাদ মাহফিলকে ঘিরে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে নতুন কোন মেরুকরণ হয় কিনা তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। তবে জল্পনা-কল্পনার ব্যাপারে আহমেদ কামাল বলেন, মিলাদ নিয়ে রাজনীতির কোন সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে রাজনীতি করলে ঘোষণা দিয়েই করবেন।

বিকেল সোয়া ৩টায় ৫ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আহমেদ কামালের লিখিত বক্তব্যের পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এ সময় মিলনায়তনের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক’জন সদস্য এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর ছিলেন। আয়োজকরা জানান, জিয়া পরিবারের এ দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সকল নেতা ও বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে খালেদা জিয়া লন্ডনে আর মির্জা ফখরুলসহ ক’জন বিএনপি নেতা জেলে রয়েছেন। তার বাইরে অন্য যেসব নেতা রয়েছেন তাদের কেউ এ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে মঞ্চের পেছনে একটি ব্যানারে জিয়াউর রহমানের বাবা মনছুর রহমান, মা জাহানারা খাতুন, বড় ভাই রেজাউর রহমান, মেজ ভাই জিয়াউর রহমান, সেজ ভাই মিজানুর রহমান, ছোট ভাই খলিলুর রহমান এবং জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ছবি ছিল। আয়োজক আহমেদ কামালের ছবিও ছিল ব্যানারে।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমানরা ৫ ভাই। এর মধ্যে ছোট ভাই আহমেদ কামাল ছাড়া কেউ বেঁচে নেই। আর জিয়াউর রহমানের বাবা মনছুর রহমান ও মা জাহানারা খাতুন বহু আগেই মারা গেছেন। আহমেদ কামাল থাকেন রাজধানীর বাসাবো এলাকায়। তিনি পর্যটন কর্পোরেশনের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। মাঝে কিছুদিন অসুস্থ থাকলেও এখন তিনি সুস্থ। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি হয়ত রাজনীতিতে আসতে পারেন। এ জন্যই ঘটা করে এ ধরনের একটি মিলাদ মাহফিল করে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমানের খালাত বোন তাহেরা মোজাফ্ফর, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দূর সম্পর্কের ভাগ্নি জামাই শরিফুল ইসলাম ডন প্রমুখ। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন শরিফুল ইসলাম ডন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক উদ্দেশে দোয়া মাহফিল আয়োজন করেননি।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শুরুর আগে লিখিত বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল বলেন, বর্তমান সরকার যে গণতন্ত্রের কথা বলছে, এটা গণতন্ত্র নয়। দেশে এখন একনায়কতন্ত্র চলছে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের মঙ্গলের জন্য সঠিক এবং সুস্থধারার রাজনীতি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

আহমেদ কামাল বলেন, মিলাদ মাহফিল আয়োজন করার পেছনে ছোট একটা তাগিদ বোধ করেছিলাম। কিছুদিন আগে আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলাম। দেশবাসীর দোয়ায় সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছি। এ জন্য দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের মৃত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য জন্য দোয়া মাহফিল করার তাগিদ বোধ করি। আমি বিএনপির সকল নেতাকর্মী, সুধী সমাজ ও গুণীজনদের দাওয়াত দেয়ার চেষ্টা করেছি। আপনারা সবাই আমার পিতা-মাতা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানসহ প্রয়াত পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করবেন। এটা একান্তই আমাদের পরিবারের মিলাদ মাহফিল। এটাকে অন্যভাবে না দেখার জন্য সকলকে অনুরোধ করছি।