১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লন্ডনে বসে খালেদা দেশের ইমেজ নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন ॥ হানিফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ লন্ডনে বসে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অসত্য তথ্য ও কল্পকাহিনী দিয়ে দেশ ও সরকারের ইমেজ নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। জামায়াত ও বিএনপি একই মুদ্রার এপিট-ওপিট উল্লেখ করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়া এখন দেশের মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। জাতি ভেবেছিল খালেদা জিয়া হয়ত তার অতীত অপকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসবেন। কিন্তু লন্ডনে উনার মিথ্যাচারই প্রমাণ হয়েছে বিএনপি নেত্রীর ভুল শোধরানোর কোন মানসিকতা নেই।

বুধবার ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। মূলত লন্ডনে একটি আলোচনা সভায় দেয়া বক্তব্যের জবাব দিতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বিদেশে তৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরে হানিফ বলেন, জনগণের ওপর আস্থা নেই বিধায় এখন বিদেশী প্রভুদের হাত ধরে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার জন্যই খালেদা জিয়া আজকে লবিস্ট নিয়োগ করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লেখক-ব্লগারদের খুনীদের গ্রেফতারে সরকারের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, সবাইকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের হয়ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বা প্রযুক্তির স্বল্পতার কারণেই অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে বা খুব দ্রুত তদন্ত করে আসামিদের ধরা সম্ভব হয়নি। তবে এটুকু বলতে পারি, এই সমস্ত মুক্তচিন্তার মানুষের ওপর যারা আক্রমণ করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার বাংলার মাটিতেই করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ব্লগার হত্যাসহ জামায়াতের বিভিন্ন অপতৎপরতায় বিএনপির যে মদদ রয়েছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে চায় তারাই ব্লগার হত্যা করছে।

লন্ডনে বসে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যকে মিথ্যাচার হিসেবে আখ্যায়িত করে হানিফ বলেন, অসত্য তথ্য ও কল্পকাহিনী দিয়ে সরকারের ইমেজ নষ্ট ও সরকারকে বিব্রত করার একটা অপপ্রয়াস তিনি চালিয়েছেন। আসলে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে যে অপকর্ম করেছিল এবং বিরোধী দলে থাকার সময় যে অপকর্ম করেছে, সেগুলোকে ঢাকার জন্যই উনি মিথ্যাচার করছেন। সরকারের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

‘আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে’ মর্মে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের জনগণের জন্য রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে কখনও কেউ দেখেনি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে হত্যা-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কাকে বলে সেটা তখন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জঙ্গী মানসিকতায় বিশ্বাসী। উনার প্রভুদের নির্দেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন।

‘আওয়ামী লীগ দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটিয়েছে’- খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের জবাবে হানিফ বলেন, এর চেয়ে হাস্যকর উক্তি দেশের মানুষ দ্বিতীয়বার শুনেছে কিনা, তা আমার জানা নেই। নিষিদ্ধ জামায়াতকে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পর রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল। এই বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে সমস্ত সংগঠন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তার সবগুলোই কিন্তু জামায়াতের। কারণ যখনই কেউ ধরা পড়ছে তার ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা গেছে, এদের প্রত্যেকেই হয় ছাত্রশিবির, না হয় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। খালেদা জিয়াই দেশে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি করেছিলেন। আজকে সেই খালেদা জিয়া নিজের অপরাধকে ঢাকার জন্য জঙ্গী উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর হাস্যকর প্রচেষ্টা করছেন।

‘ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব’ মর্মে খালেদা জিয়ার বক্তব্যেকে ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হানিফ বলেন, উনি ক্ষমতায় থাকতে দেশকে জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। দুর্নীতিতে দেশকে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। খালেদা জিয়া এখন দেশের মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। হত্যা-খুনের রানী খালেদাকে মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না।