২১ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লুই কানের মূল নক্সা ৩ মাসের মধ্যে আদালতে জমার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী তিন মাসের (৯০ দিন) মধ্যে স্থপতি লুই আই কানের তৈরি জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেত্বত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন। বেঞ্চে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও রিটকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম ছিলেন।

আদেশের পর অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা জনকণ্ঠকে বলেন, স্পীকারের বাসভবন জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশায় আছে কিনা- এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পরিবেশবাদী এক সংগঠনের রিটের শুনানি নিয়ে ২০০৪ সালের ২১ জুন স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের বাসভবন মূল নকশার বাইরে বলে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে সংসদ ভবন এলাকাকে বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে ইউনেস্কোর কাছে আবেদনেরও নির্দেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে যান রাষ্ট্রপক্ষ। এ আপীলের শুনানিতে আদালত মূল নকশা তিন মাসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেয়।

তিনি আরও বলেন, আদালতে বলেছি- হাইকোর্টের ওই রায় ছিল অনাকাক্সিক্ষত। যদি সংসদ ভবন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তা হবে আমাদের জন্য অপমানজনক। পৃথিবীর কোথাও সংসদ ভবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্তের নজির নেই। তাছাড়া মূল নকশা না দেখে কিভাবে স্পীকারদের বাসভবনকে হাইকোর্ট অবৈধ বললেন তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে মূল নকশাটি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির আর্কাইভসে রয়েছে। আর এ মূল নকশা পেলে আমরা বুঝতে পারব বাসভবনগুলোর অবস্থান সম্পর্কে। এ জন্য আদালত সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে তিন মাসের মধ্যে মূল নকশা দাখিলের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম বলেন, ‘হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আপীল বিভাগে স্থগিত হয়ে গেলে ওই ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষ হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, জাতীয় সংসদের মূল নকশার স্থপতি লুই কান। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তানের (বর্তমান পাকিস্তান ) আইনসভার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম এবং শেষ অধিবেশনে প্রথম সংসদ ভবন ব্যবহৃত হয়।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স ঘিরে রয়েছে চারটি প্রধান সড়ক। উত্তর দিকে লেক রোড, পূর্ব দিকে রোকেয়া সরণি, দক্ষিণ দিকে মানিক মিয়া এ্যাভিনিউ এবং পশ্চিম দিকে মিরপুর রোড। সংসদ অধিবেশন চলাকালে যানবাহন চলাচল ও সহজে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হয়। মূল ভবনটি (সংসদ ভবন) মূলত তিন ভাগে বিভক্ত। মেইন প্লাজা ৮২৩,০০০ বর্গফুট (৭৬,০০০ বর্গমিটার), সাউথ প্লাজা ২২৩,০০০ বর্গফুট (২১,০০০ বর্গমিটার), প্রেসিডেনসিয়াল প্লাজা ৬৫,০০০ বর্গফুট (৬,০০০ বর্গমিটার)। মূল ভবনটি কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে অবস্থিত। এমপি হোস্টেল এবং জরুরী কাজে ব্যবহৃত ভবনসমূহ কমপ্লেক্সের বহির্ভাগে অবস্থিত। মূল ভবন ঘিরে অবস্থিত কৃত্রিম হ্রদ, দুটি বাগান এর মাঝের শূন্যস্থান পূরণ করেছে।

এস্তোনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মার্কিন স্থপতি লুই কান ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকা নিয়ে যে নকশা করেছিলেন, সেটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নকশা সরকারের হাতে না থাকায় সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে ঝুলে গেছে। সংসদ ভবন এলাকায় স্পীকার এবং ডেপুটি স্পীকারের আবাসিক ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়ে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ একটি রিট করে। এতে দাবি করা হয়, মূল নকশা লঙ্ঘন করে জাতীয় সংসদ এলাকায় এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ নির্মাণ কাজে স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ আপীল আদালতে স্থগিত হয়। এর আগে ২০০২ সালে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ২১ জুন হাইকোর্ট ওই ভবন নির্মাণ কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি নির্দেশনাসহ রায় দেয়। রায়ে সংসদ ভবন এলাকা ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’ সাইট ঘোষণা করার নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ হিসেবে গণ্য করার জন্য ইউনেস্কোর কাছে আবেদন করতেও বলা হয়। হাইকোর্টের এই রায় স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল বিভাগে আবেদন করলে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত লিভ টু আপীল করে। একই বছরের ১০ নবেম্বর তা মঞ্জুর করে আপীল বিভাগ।