২২ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় ফাইল চুরির চেষ্টাকালে আটক ১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ) থেকে গোপনীয় ফাইল চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন কথিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার এক স্টাফ। বুধবার দুপুরে শিক্ষা ভবন এলাকায় অবস্থিত ডিআইএতে এ ঘটনার পরপরই শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। পুলিশ বলছে, ফাইল চুরির পেছনে ডিআইএর কারও সংশ্লিষ্টতা আছে বলে প্রাথমিকাভাবে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কাজে অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ডিআইএর এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন ঢাকার সংসদ সদস্য আলহাজ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা।

ফাইল চুরির ঘটনা সম্পর্কে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দুপুরের দিকে অপরাধ জগৎ প্রতিদিন পত্রিকা নিয়ে বিভিন্ন কক্ষে যাচ্ছিলেন আটক মোহাম্মদ আলী। নিজেই বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে পত্রিকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ একটি কক্ষে গিয়ে ওই পত্রিকায় মুড়িয়েই রাজশাহী ডিভিশনের একটি তদন্তের ফাইল ঢুকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ৮৪ পৃষ্ঠার একটি ফাইল সে নিয়ে যাচ্ছিল। পরিচালক আরও জানান, এর পেছনে হয়ত কেউ আছেন। আমরা শাহবাগ থানায় এফআইআর করেছি। ওই ব্যক্তিকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিদফতরে এসে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেছে। মোহাম্মদ আলী নামের এই ব্যক্তি রাজশাহী বিভাগের নাটোরের ছাতনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফাইল চুরির সময় ধরা পড়েন বলে জানান কর্মকর্তারা। তারা বলেন, এছাড়া ঘটনার পরপরই বিষয়টি শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানকে জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত ওই ব্যক্তিকে থানায় দিয়ে এফআইআর করার নির্দেশ গিয়েছেন। শাহবাগ থানার এসআই হারুন অর রশিদ বলেছেন, কী উদ্দেশ্য নিয়ে ফাইল চুরি করতে এসেছিল জিজ্ঞাসাসাবাদে তা জানা যাবে। তবে এ ধরনের ঘটনায় আমরা প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারছি এর পেছনে এই অফিসেরই কোন না কোন লোক জড়িত আছে। ভেতরের লোক ছাড়া সরকারের একটি ফাইল এভাবে নেয়া সম্ভব নয়। কেউ ওই পত্রিকার লোকটিকে নিশ্চয়ই আগেই জানিয়ে দিয়েছে ফাইলটি কোন টেবিলে রাখা আছে। আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদেই কাহিনী বেরিয়ে আসবে বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কাজে অনিয়ম জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ডিআইএর এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন ঢাকার সংসদ সদস্য আলহাজ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা। ডিআইএর পরিচালকের কাছে তিনি এ লিখিত আবেদন করেছেন। ঢাকা-১৬ আসনের সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন সেই কর্মকর্তার নাম আবুল কালাম আজাদ। প্রতিষ্ঠানটির পরিদর্শক হিসেবে তিনি কর্মরত আছেন। অভিযোগ নামায় সংসদ সদস্য বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকা পল্লবীর কালশী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে পরিদর্শক যে কাজ করেছেন তা সকলের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে থাকা অবস্থায় সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি ছাড়াই বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দলীয় বিবেচনায় অবৈধভাবে কথিত সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে পরিদর্শক আমার ও সাবেক এক সদস্যের লিখিত অভিযোগ ও সুপারিশ আমলেই নেননি। বরং নিজেই সুকৌশলে ও প্রচ্ছন্নভাবে এড়িয়ে গেছেন। এসব অভিযোগ এনে সাংসদ বলেন, তাছাড়া তিনটি অভিযোগের তদন্তের তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করতে প্রধান শিক্ষককে মাত্র একদিন সময় দিয়েছেন কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তার এমন আচরণ তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংসদ। এ বিষয়ে পরিচালক অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি দেখছি। মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি আমরা জানিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।