১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদার দেশবিরোধী ঘৃণ্য খেলা কোনদিন সফল হবে না

  • জেলহত্যা দিবসের আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অশুভ শক্তির ওপর ভর করে খালেদা জিয়ার দেশবিরোধী ঘৃণ্য খেলা কোনদিনই সফল হবে না। কেননা শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির, আর খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাজিত শক্তির। তাই চক্রান্ত ও অশুভ শক্তি কোনদিনই জয়ী হবে না। শেখ হাসিনার জয়রথই এগিয়ে যাবেই।

বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদ আয়োজিত জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ‘দুই নেত্রীর রাজনৈতিক কলহের’ বিষয় নয়। কেননা শেখ হাসিনা স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন, আর খালেদা জিয়া তাদের মুক্তির জন্য দেশের মানুষকে বীভৎস কায়দায় পুড়িয়ে হত্যা করছেন। শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির আর খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাজিত শক্তির।

তিনি আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই নৃশংস হত্যাকা-কে ‘পারিবারিক হত্যাকা-’ বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ৩ নবেম্বর কারান্তরীণ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর প্রমাণ হয়েছে এগুলো কোন পারিবারিক হত্যাকা- ছিল না। এটি ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তির প্রতিহিংসামূলক হত্যাকা-, প্রতিবিপ্লব।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই একটি অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের অগ্রাযাত্রাকে ধ্বংস করতে চায়। আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাঁদরের লেজে আগুন দিয়ে সারা পৃথিবীকে ধ্বংস করে বাংলাদেশে এসে চোরকে চুরি আর গৃহস্থকে সামাল দিতে বলবেনÑ দেশের মানুষ আপনাদের এই খেলা বোঝে। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে এই খেলা কখনই সফল হবে না। চক্রান্ত ও অশুভ শক্তি জয়ী হবে না, শেখ হাসিনার জয়রথই এগিয়ে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে শহীদ এম মনসুর আলীর পুত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়া একজন সিরিয়াল কিলার। স্বামী জিয়াউর রহমানের মতো খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পুরস্কৃত করেছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে জজ মিয়ার নাটক সাজিয়েছেন। আন্দোলনের নামে জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে পেট্রোলবোমা মেরে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আমরা লড়াইয়ের মাঠে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করেছি। আগামী নির্বাচনের মাঠে আবারও তাঁকে পরাজিত করব।

লন্ডনে এক সুধী সমাবেশে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ১৪ দলের এই কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আরও বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীকে যে ভাষায় খালেদা জিয়া আক্রমণ করেছেন, তা কোন ভদ্র মহিলার ভাষা হতে পারে না। লন্ডনে বসে তিনি রুচিহীন কথা বলছেন, দেশবিরোধী চক্রান্ত করে যাচ্ছেন। ঐক্যবদ্ধভাবেই তাঁর সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মোকাবেলা করা হবে।

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা স্বাধীনতার সুফল জনগণের ঘরে পৌঁছে দিতে জীবন দিয়ে গেছেন। তাঁদের আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি পেছনের ঘটনা থেকেও আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। না হলে আরেকটি দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। তাই আমাদের সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, বিএমএ’র মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এম ইকবাল আর্সলান এবং স্মৃতি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা সাখাওয়াৎ প্রমুখ।

খালেদা জিয়াই ‘লেডি কিলার’- ড. হাছান ॥ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন আর রাজনৈতিক নেত্রী নন। উনি এখন রাজনৈতিক নেত্রীর ছদ্মাবরণে লেডি কিলার। হরর মুভির নায়িকা যেমন পোড়া মানুষের মাংস পছন্দ করেন তেমনি বিএনপি নেত্রীও পেট্রোলবোমায় দগ্ধ মানুষের মাংসের গন্ধ পছন্দ করেন। তাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট মিলনায়তনে মরহুম আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব বথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, যারা জঙ্গীবাদে বিশ্বাস করে, দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না- তাদের সঙ্গে কোন ঐক্য হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যারা বিদেশে পুনর্বাসিত করেছে, যারা মুজাহিদ-নিজামীকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছে এবং জঙ্গীদের জš§দাতা যারা, তাদের সঙ্গে কিভাবে জাতীয় ঐক্য গঠন করা যায়?

আলহাজ আখতারুজ্জামান বাবু স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বদি। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান, শাহজাহান চৌধুরী, গিয়াসুদ্দিন খান, অরুন সরকার রানা প্রমুখ।